বিনীত শর্মা ★ নতুন দিল্লি, ৫ আগস্ট: ভারতীয় রাজনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শেষ হল শিবু সোরেন (Shibu Soren)-এর প্রয়াণে। দীর্ঘদিন কিডনির সমস্যায় ভুগে স্যর গঙ্গারাম হাসপাতালে (Sir Ganga Ram Hospital) ভর্তি থাকার পর সোমবার সকালেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ঝাড়খণ্ডের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এবং ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার (Jharkhand Mukti Morcha – JMM) প্রতিষ্ঠাতা। তাঁর প্রয়াণে দেশের রাজনৈতিক মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সেই আবহেই এদিন সকালেই হাসপাতালে পৌঁছে প্রয়াত নেতাকে শেষ শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। সান্ত্বনা দেন শোকস্তব্ধ হেমন্ত সোরেনকে (Hemant Soren)।

৮১ বছর বয়সে প্রয়াত হলেন ‘গুরুজি’ নামে পরিচিত শিবু সোরেন। ঝাড়খণ্ডের রাজনীতিতে তিনি শুধু একজন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীই ছিলেন না, ছিলেন আদিবাসী রাজনীতির এক বিশেষ মুখ। গোটা রাজনৈতিক জীবনে তিনি আদিবাসী সম্প্রদায়ের অধিকার এবং তাদের মূলস্রোতে আনার জন্য লড়াই চালিয়ে গিয়েছেন। তাঁর প্রয়াণে দেশ হারাল একজন নিষ্ঠাবান ও ভিন্নমাত্রিক জননেতাকে।হাসপাতালে পৌঁছেই প্রধানমন্ত্রী মোদী প্রয়াত নেতার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন, তাঁদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। তিনি হেমন্ত সোরেনের কাঁধে হাত রেখে তাঁকে জড়িয়ে ধরে সান্ত্বনা দেন। এই মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রী ও হেমন্ত সোরেনের এই আবেগঘন দৃশ্যই যেন গোটা জাতিকে ছুঁয়ে গেল। উপস্থিত সংবাদমাধ্যমে এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি ও আবেগ দেখে বোঝা যায়, রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে মানবিকতা আজও জীবন্ত।”
প্রধানমন্ত্রী পরে তাঁর এক্স (X, পূর্বতন টুইটার) হ্যান্ডেলে লিখেছেন, “শিবু সোরেন একজন তৃণমূল স্তরের নেতা। যাঁর নিষ্ঠা জনগণের প্রতি ছিল অটল। তিনি তাঁর গোটা জীবন ধরে আদিবাসী সমাজের মানুষদেরই মূলস্রোতে তুলে আনার চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছেন। তাঁর প্রয়াণে আমি দুঃখিত। ওনার পরিবার-পরিজনদের প্রতি আমার সমবেদনা।” এই বার্তায় প্রধানমন্ত্রী যেমন প্রণাম জানিয়েছেন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদকে, তেমনই ছুঁয়ে গিয়েছেন কোটি কোটি ভারতবাসীর হৃদয়।

শুধু প্রধানমন্ত্রীই নন, রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু (Droupadi Murmu)-ও গঙ্গারাম হাসপাতালে পৌঁছে শেষ শ্রদ্ধা জানান ‘গুরুজি’-কে। তাঁর শ্রদ্ধা জানানোর মধ্যে দিয়ে আরও একবার প্রতিভাত হল শিবু সোরেনের আদিবাসী সমাজে প্রভাব ও অবস্থান। এছাড়া, কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে (Mallikarjun Kharge) এবং লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi)-ও গঙ্গারাম হাসপাতালে গিয়ে শিবু সোরেনের মরদেহে শ্রদ্ধা জানান। বিরোধী দলের এই দুই শীর্ষ নেতাও তাঁকে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে স্পষ্ট করে দেন, “রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও, শিবু সোরেনের মতো নেতার অবদান অনস্বীকার্য।”
সূত্রের খবর, এদিনই সন্ধ্যায় শিবু সোরেনের মরদেহ রাঁচিতে (Ranchi) নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানেই সরকারি মর্যাদায় শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে বলে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। ঝাড়খণ্ডে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে সরকারি শোকপালন, বিভিন্ন দপ্তরে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে। উল্লেখ্য, শিবু সোরেনের জীবন ছিল সংগ্রামের প্রতীক। ছোটবেলায় বাবার হত্যার সাক্ষী হয়ে ওঠা, তারপর রাজনৈতিক লড়াই, আদিবাসী আন্দোলন, এবং রাজ্যের জন্য নিরন্তর কাজ, সব মিলিয়ে তাঁর জীবন কাহিনি হয়ে উঠেছে অনুপ্রেরণার উৎস। ঝাড়খণ্ড রাজ্যের সৃষ্টি ও আদিবাসী অধিকার আন্দোলনের কেন্দ্রীয় চরিত্রও তিনি। তাঁর অনুপস্থিতি যে শূন্যতা তৈরি করবে, তা মেনে নিচ্ছে সব রাজনৈতিক দল। অন্যদিকে, জাতীয় রাজনীতির এই আবেগঘন মুহূর্তে, প্রধানমন্ত্রী মোদীর হেমন্তকে জড়িয়ে ধরে সমবেদনা জানানো যেন এক নতুন বার্তা দিল দেশবাসীকে, রাজনীতি থাক, কিন্তু সহমর্মিতা ও মানবিকতা থাকবেই।
ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন : PM Narendra Modi Namibia visit | নামিবিয়ায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী: গান স্যালুটে স্বাগত, প্রবাসীদের উপহারে ভরা উষ্ণ অভ্যর্থনা




