সম্পাদকীয়
ধনতেরাস, অন্ধকার, আলো ও আরাধনার দ্বারপ্রান্তে ভূত চতুর্দশী ও কালীপুজো। ধনতেরাস, বিশেষ করে সমবৃদ্ধির, অর্থের, প্রআচুর্যের জন্য মানা হয়। ধনতেরাস হচ্ছে দীপাবলি উৎসবের সূচনা দিবস। এই দিনে ধন ও সমৃদ্ধির দেবতা ধন্বন্তরি এবং মা লক্ষ্মী-র পূজা করা হয়। পুরাণ মতে, সমুদ্র মন্থনের সময় ধন্বন্তরি অমৃত ও আয়ুর্বেদ নিয়ে আবির্ভূত হন। তাই এই দিন স্বাস্থ্য ও সম্পদের আরাধনা করা হয়। ঘরে প্রদীপ জ্বালিয়ে, নতুন বাসন বা ধাতু কেনা শুভ মনে করা হয়। ধনতেরাস মানে ধন ও শুভশক্তিকে আহ্বান করে অশুভ শক্তিকে দূরে রাখা। আসলেই লক্ষ্মী দেবী ও কুবের দেবের আরাধনা করা হয় বলে কথিত আছে।

শরতের শেষ দুর্গাদেবীর প্রস্থানের পর বাংলার আকাশে কার্তিকের হিমেল বাতাস বইতে শুরু করলেই যেন এক বিশেষ গন্ধ ভেসে আসে প্রদীপের তেলে ভেজা তুলো, কালীপুজোর ধূপের ধোঁয়া, আর মানুষের মুখে মুখে উৎসবের গুঞ্জন। আলোর উৎসব দীপাবলির পাশেই দাঁড়িয়ে আছে আমাদের নিজস্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের দুই গুরুত্বপূর্ণ দিন ভূত চতুর্দশী ও কালীপুজো। একদিন অন্ধকারে প্রদীপ জ্বালিয়ে অশুভ শক্তিকে বিদায় জানানোর, আর পরের দিন দেবীর মহাশক্তির আরাধনায় আত্মসমর্পণের। ভূত চতুর্দশীর কথা উঠলেই অনেকের মনে প্রথমেই আসে শৈশবের সেই কাঁপা কাঁপা প্রদীপের আলো, ছাদের কোণে কোণে সাজানো তেল-প্রদীপ, মায়েদের মুখে শোনা ভূতের গল্প, আর রান্নাঘরে ১৪ শাকের গন্ধ। এই দিনটি শুধু ভূতের ভয় দেখানোর জন্য নয় এটি এক গভীর প্রতীকী দিন। অন্ধকারকে আলোর দ্বারা জয় করার একটি সামাজিক ও আধ্যাত্মিক অনুশাসন। প্রাচীন বাংলার গ্রামীণ সমাজে বিশ্বাস ছিল এই রাতে পূর্বপুরুষের আত্মারা পৃথিবীতে ফিরে আসেন। তাঁদের পথ আলোকিত করতে এবং অশুভ শক্তিকে দূরে রাখতে বাড়ির ১৪টি জায়গায় প্রদীপ জ্বালানো হত। এই ১৪টি প্রদীপ শুধু আলোকসজ্জা নয়, বরং মানুষের অন্তরের অন্ধকারে জ্ঞানের ও শুভবোধের শিখা জ্বালানোর প্রতীক। একইসঙ্গে ১৪ রকম শাক খাওয়ার ঐতিহ্যও এই দিনের অংশ প্রকৃতির বৈচিত্র্য ও ভেষজ গুণের সম্মিলনে শরীর ও মনের পবিত্রতা রক্ষা করা এর মূল বার্তা। আর ঠিক এর পরের দিন, অমাবস্যার অন্ধকার রাতে অনুষ্ঠিত হয় কালীপুজো। ভূত চতুর্দশীর প্রদীপের আলো যেন এই মহারাত্রির প্রস্তুতিমঞ্চ। যেখানে অশুভ শক্তিকে দূর করার পর আহ্বান করা হয় শক্তির চূড়ান্ত রূপ মা কালীকে। কালীপুজোর রাত বাংলা সংস্কৃতিতে শুধু ধর্মীয় আচার নয়; এটি এক গভীর আধ্যাত্মিক উপলক্ষ। অমাবস্যার গভীর অন্ধকারে দেবীর গাঢ় কৃষ্ণবর্ণ রূপ যেন প্রতীক হয়ে ওঠে ভয়কে জাগিয়ে ভয়কে জয়ের, ধ্বংসের মধ্যে দিয়ে পুনর্নির্মাণের। সাধনার দিক থেকেও এই দুই দিন একে অপরের পরিপূরক। ভূত চতুর্দশী হল, অন্তরের অন্ধকার ঝেড়ে ফেলার সময়; কালীপুজো হল, আত্মসমর্পণের মুহূর্ত। একটি দিন আমাদের বাড়ির কোণে কোণে প্রদীপ জ্বালানোর, আরেকটি দিন নিজের অন্তর আত্মার শুদ্ধির জন্য দেবীর চরণে নত হওয়ার। সাহিত্যেও এই দুই দিনের উপস্থিতি অনিবার্য।বিভূতিভূষণের গল্পে ভূত চতুর্দশীর ছায়া যেমন নিঃশব্দে গ্রামীণ জীবনের মলিন আঁধারে আলো জ্বেলে দেয়, তেমনি রবীন্দ্রনাথের কবিতায় কালী আরাধনা হয়ে ওঠে চিরন্তন শক্তি ও ভয়-মোচনের প্রতীক। লোকগাথা, কবিতা, উপন্যাস সবখানেই এই দুই দিনের স্পর্শ ছড়িয়ে আছে গভীরভাবে। অন্ধকার ও আলোর, ভয় ও ভক্তির, মৃত্যু ও সৃষ্টির এই দ্বন্দ্বই বাংলার সাহিত্যকে দিয়েছে এক অনন্য ব্যঞ্জনা। আজকের নগর জীবনে ভূত চতুর্দশীর প্রদীপ হয়তো অনেক সময় বিদ্যুতের উজ্জ্বল আলোর আড়ালে হারিয়ে যাচ্ছে। কালীপুজোও অনেক সময় শুধুই প্যান্ডেল ও বাজির উৎসবে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ছে। অথচ এই দিনগুলির মধ্যে যে গভীর সাংস্কৃতিক আত্মা লুকিয়ে আছে, তাকে স্মরণ করানোই আজকের সাহিত্যপত্রিকার কর্তব্য। কারণ সাহিত্য কেবল শব্দ নয় এটি সময়ের আখ্যান, সমাজের আত্মজীবনী।
ভূত চতুর্দশীর প্রদীপ আমাদের মনে করিয়ে দেয় এক ফোঁটা আলোও অন্ধকারকে ঠেকাতে পারে। আর কালীপুজো শেখায় শক্তিকে ভয় নয়, শ্রদ্ধা করো; অন্ধকারকে নিপীড়ন নয়, বোঝো ও রূপান্তরিত করো। এই দুই দিনের মাঝেই লুকিয়ে আছে আমাদের আত্মিক যাত্রার দুটি ধাপ শুদ্ধি ও আরাধনা। একটি সাহিত্য পত্রিকা যখন এই সময়টিতে কলম তোলে, তখন তা শুধু উৎসবের বর্ণনা নয় একটি সভ্যতার আত্মাকে শব্দে বন্দী করার প্রয়াস। ভূত চতুর্দশীর প্রদীপ ও কালীপুজোর কৃষ্ণরাত্রি এই দুইয়ের সংলগ্নতায়ই গড়ে ওঠে আমাদের চিরন্তন সাংস্কৃতিক ক্যানভাস। এই কারণেই, এই সময়টিতে লেখা হোক কবিতা, গল্প বা প্রবন্ধ প্রতিটি শব্দের মধ্যে থাকুক সেই প্রাচীন শিখার দীপ্তি ও দেবীর অদম্য শক্তির অনুরণন। কারণ যতদিন বাংলা সাহিত্য বেঁচে থাকবে, ততদিন এই দুই দিনের আলো-অন্ধকারের গল্পও বেঁচে থাকবে আমাদের কলমে, আমাদের কণ্ঠে, আমাদের আত্মায়। সকলেই ভালো ও সুস্থ থাকুন। শুভ ধনতেরাস, শুভ দীপাবলি, শুভ কালী পূজা। আবার ও বলি সকলেই ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।
♥️ভালোবাসা 🙏ভালোবাসা ♥️
🍁মহামিলনের কথা
আত্মকল্যাণ
কি পুরুষ, কি স্ত্রী, আত্মকল্যাণ যাঁহারা চাহেন,
তাঁহাদের পুনঃ পুনঃ সাবধান করিতেছি…
গুরু … যাঁহারা আত্মকল্যাণ চাহেন, তাঁহাদের পক্ষে স্ত্রীশূন্য নির্জ্জন স্থানে গিয়া সাধনভজন করা কর্ত্তব্য। যাঁহাদের প্রচারকজীবন, লোকোকল্যাণে যাঁহারা রত, তাঁহারা প্রাণান্তেও নির্জ্জনে স্ত্রীসঙ্গ করিবেন না। সজনেও স্ত্রীগণের সহিত হাস্য-পরিহাস, আলাপ, একসঙ্গে নামকীর্ত্তনাদি কখনও করিবেন না। সতত স্ত্রীসঙ্গ হইতে দূরে থাকিবেন এবং মা মা বলিয়া প্রণাম অভ্যাস করিবেন। জিহ্বা যেন মা নাম ত্যাগ করিয়া ক্ষণমাত্র না থাকে।
‘মা আমি তোর শরণাগত’ বলিয়া প্রণাম করিতে যেন ভুল না হয়। মায়েদের ও এ সম্বন্ধে সাবধান হওয়া অবশ্যকর্ত্তব্য। গুরুভ্রাতা কিম্বা সাধু, পরমহংস যে কোন কেউ হউন না- পুরুষ পুরুষ।তাঁহাদের সঙ্গে মেলামেশা করা কোনক্রমে উচিত নহে।
ইহাই বাণী ও সাধুগণের উপদেশ।

পুরুষ হইতে স্ত্রী এবং স্ত্রী হইতে পুরুষ দূরে না থাকিলে যে তাহারা বিপন্ন হয়, তাহা আমি শাস্ত্র পাঠ করিয়া বলিতেছি না, আমার দীর্ঘজীবনে বহু প্রত্যক্ষ করিয়াছি। সৎসঙ্গ করিতে গিয়াও অধঃপাত হয়। কোন ভক্ত সাধু, সচ্চরিত্র, কোনরূপ দুষ্টভাব তাহার ভিতর নাই। ভগবন্নাম লইয়াই থাকেন। কোন ভক্ত নারী, তাহার সঙ্গে ভগবৎ প্রসঙ্গই করিতে যাইয়া ক্রমে ক্রমে কথাবার্ত্তায় চিত্ত নামিতে থাকে। ক্রমে আকর্ষণ আসিয়া উপস্থিত হয়। তখন আত্মরক্ষা করা অতি কঠিন হইয়া উঠে।
🍁শ্রীওঙ্কারনাথ-রচনাবলী | বিরক্ত পূজা |
শ্রীশ্রীঠাকুর সীতারামদাস ওঙ্কারনাথ দেব।
(বানান অপরিবর্তিত)
🍂কবিতা
তৈমুর খান -এর একটি কবিতা

বাড়ি
রাস্তা পেরোলেই বাড়ি
দরজায় দাঁড়িয়ে আছে মেঘ
বর্ষা চলে গেছে বলে এখন আর বৃষ্টি নেই
সন্ধ্যের আলো জ্বলে উঠলে
চোখ মেলে চেয়ে থাকে বাড়ি
সে কি আজও এলো না তবে?
কত হাওয়া বয়ে গেছে সারাদিন
রাতের নক্ষত্রে কত ঝিকিমিকি
উড়ে গেছে নিশাচর, দূরের জোনাকি
পৃথিবীতে চেয়ে থাকে একটাই বাড়ি
আলো জ্বেলে মুখ দেখে আর ভাষা খোঁজে
সে এলে কোন্ কথা বলা যাবে তাকে!
মমতা রায় চৌধুরী -এর একটি কবিতা
,
জানলায় এক টুকরো রোদ
দুঃসহ বেদনার দিনগুলি
বড়ই জাপটে ধরছিল চারপাশ থেকে
ঝাপসা কুয়াশার হারিয়ে গেছে
আমার সকালের রোদ্দুর মাখা ঘাসের
টিয়া পাখির রং শিশির ভেজা শিউলি ফুল
হেমন্তের বাতাসে শুধুই ঝরা পাতার গান
হাওয়ার গান ভেসে বেড়ায় শূন্যতার
একরাশ চাপা অভিমান নিয়ে ঠুকরে মরে
দিগন্তের মাঠে।
আমি তখনো অক্ষত বেদনায় জর্জরিত হয়েও
বেঁচে আছি এক টুকরো জানলায় কখন রোদ এসে উঁকি দেবে
আমি হারিয়ে যাব আমার সোনালী দিনগুলোর কাছে
ঠিক যেমনি করে হেমন্তের সোনালী ধানের গন্ধ সারা গায়ে মেখে নেয় কৃষক জোয়ান বধূ
পরবে মেতে উঠবে নবান্যের গানে
এক টুকরো জানলায় উঁকি দেবে আবার হাসির রোদ
আমি বেঁচে আছি সেই রোদটুকু দেখার জন্য
আমি স্বপ্ন দেখি ভবিষ্যতের সোনালী ধান গোলায় ভরে গিয়ে সবুজ ধানের আশায়।
এক টুকরো জানলার রোদ আমাকে নতুন ধারা পাত শেখায়।
তাহমিনা শিল্পী -এর একটি কবিতা

http://কবি তাহমিনা শিল্পী -এর একটি কবিতা
জলছায়ার মতো জীবন
নদীর বুকে আমি রাখলাম আমার নিঃশ্বাস,
জল দুলে উঠল আমার অন্তরমহলের মতোই অস্থিরতায়।
আঙুল ছুঁয়ে দেখলাম সময়ের ঢেউ,
সে ঢেউ ভেঙে গেলো বুকের গোপন কূলে।
পথহারা নৌকার মতো ঘুরে বেড়ায় মন,
ভেসে যায় আবার ডুবে যায় অচেনা স্রোতে।
জীবনের ভাঁজে জমে থাকা দুঃখ
কখনও ভাঙা সেতুর মতো,
কখনও আবার জন্মের শেকড়ের মতো শক্ত।
তবু বুকের গভীরে আলো আঁকড়ে রাখি,
যেন মাটির গায়ে প্রথম বৃষ্টির ফোঁটা।
দিন বদলায়, রাত নামে
আর আমি রয়ে যাই জলের ছায়ায়
জীবনকে নতুন করে ভাসিয়ে দিতে।
চন্দন মিত্র -এর তিনটি কবিতা

সিদ্ধ
মুণ্ডুটা বাড়তি তাই বাদ দেওয়া হল
ওখানেই বিষগ্রীহও ওখানেই স্নিগ্ধ ধ্যাৎ
আলোচনা এ দিবালোকে তীব্র শীতলেরাত
কে কাকে গিলে খায় কার পায় বমি
অকন্ড অকস্মাৎ খ প্রাপ্ত হলে
জ্বলন্ত কড়া বা ফ্রিজ কেয়ার করো না।
যুব
বসন্তের ভিতর কোকিল বেজে উঠল
উঠান পলাশ শিমুল পতাকায় লাল
আমি চাইছি তামোহর
কাঁধে তূণীর কলমের নিবেরের মতো
ডগাগুলো উঁকি বোর্ডের ধারণা
ও কোকিল গাও তুমি যৌবন।
হ্যারিকেন
অনবদ্য হ্যারিকেন নিভে গেছে
কেউই দেয় না তেল, পাকায় না
সালতে, মোছে না কাচ বহুদিন।
আমি তাকে আদর মাখিয়ে দিই
ঝুল ঝেড়ে সুরত আনি;
রাহাজানি নেভারন এও ভাই…
পরাণ মাঝি -এর একটি কবিতা

অতল
ঘ্রাণে ভিজিও না; ভেসে যাবো সুদূরে
স্পর্শ এঁকো না ; ডুবে যাবো একান্ত অতলে
অতল আমার কুসুম বাহার ; তাকে জাগাতে চাও কেন বারবার
ওখানে আমার গোপন দহন থাকে
আকারে অনেক ছোটো; তবু মানে না মন; সে আমার শ্রেয়সী কবিতাক্ষণ
দীপ্তি চক্রবর্তী -এর একটি কবিতা

চাকরিটা আর নেই বেলা শুনছো
কেস আর ঘুষের দেশের সকল নাশ
এতো পড়াশোনা সব গেলো জলে
এবার আমি দিনমজুর বারোমাস।
মাথার ওপরে ঋণের বোঝা নিয়েছি
ফ্ল্যাট কেনার ইচ্ছেটা উধাও আজ
দিনরাত কড়া নাড়ে পাওনাদার
চাল ডাল তেল নুন আমার সংসার।
বাবা হয়েছে স্থবীর সকল শুনে
শীতল শীতল বাতাস চোখে মুখে
মায়ের ওষুধ আর তেলচিটে আঁচলে
আমার লাল নীল হিসেবের সংসার।
এটা কি টু ফোর ফোর ওয়ান ওয়ান থ্রি নাইন
বেলা বোস তুমি ফোন টা তোলো আরেকবার
দশ বারো দিন পরে রিচার্জটা করেছি
তোমার সঙ্গে কথা বলা খুব দরকার
শুনেছি তুমি বিয়েটা করেই ফেলেছো
তিন কামরার দু’ইটি ফ্ল্যাট তোমার
শ্বশুর শাশুড়ী আর সাজানো সংসারে
তোমার স্বামী বিদেশি ইঞ্জিনিয়ার।
আন্দোলন আর কয়েকটা দিন ব্যস!
শুরু করবো এবার টিউশন
বিদ্যেটা আমার ওরা নিতে পারবে না
শিক্ষাটা আমার সম্পদ।
এটা কি টু ফোর ফোর ওয়ান ওয়ান থ্রি নাইন
বেলা বোস তুমি ফোন টা তোলো আরেকবার…
প্রিয়াঙ্কা নিয়োগী -এর দু’টি কবিতা

সবুজ মাঠ
সবুজ মাঠ সবুজ পথ সবুজ নিয়ম,
মগজ দিয়ে বুঝলে সব সহজ।
অগাধ ভরসা জীবন নিয়ম ধারায়,
প্রমোদ প্রয়োজনে নীল নীলাম্বরী প্রান্তর।
সম্ভব সবুজ ফলন সবুজ চলন।
মানবতার রাজা হামিং কিং
গানে রাজা মানবতায় রাজা,
সকলের কাছে সেরা,
কথায় নয় কাজে আলাদা,
জনগণের হৃদয় ভরা।
প্রতিদিন দেয় নতুন মানবতার দিশা।
মানুষকে ভালবাসা,
মানুষ শেষ কথা,
মানুষের জন্য কিছু করা,
নিজেকে অহিংসা রাখা।
🍂ধারাবাহিক উপন্যাস
কবি ও সাহিত্যিক বিপ্লব গঙ্গোপাধ্যায় আদ্যোপান্ত একটি সাহিত্য পরিমণ্ডলে বড় হয়ে উঠেছেন। তাঁর লেখায় আমরা দেখতে পাই, সমাজের নানান দিক উঠে আসতে, যা পাঠকদের ভাবতে বাধ্য করে, এবং লেখক পাঠকদের একটি নিজস্ব জগতে নিয়ে যান। শুধু কবিতা, গল্প বা উপন্যাস নয় সাহিত্যের অন্য সমস্ত দিকেই লেখকের চমকপ্রদ অবাধ বিচরণ। সাহিত্যিক বিপ্লব গঙ্গোপাধ্যায় অজস্র পুস্তকের প্রণেতা। যা ওঁর সাহিত্যকর্মের দলিল হয়ে রয়েছে। এছাড়াও সম্পাদনা করেন ‘কেতকী’ নামে একটি স্বনামধন্য সাময়িকপত্র। সাশ্রয় নিউজ-এ তাঁর লেখা ধারাবাহিক উপন্যাস, আজকে ‘রবিবারের সাহিত্য স্পেশাল’ -এ।
শব্দদের রাত্রি হয়

বিপ্লব গঙ্গোপাধ্যায়
৪.
স্কুলে একদিন
স্কুলের করিডোরটা যেন একটা দীর্ঘ, নিঃশব্দ সুড়ঙ্গ। যেখানে শব্দের চেয়ে বেশি কথা বলে চাহনি, হাসি আর ফিসফাস। বেল্লা ধীরে ধীরে হেঁটে যায়। মেঝেতে তার জুতো দুটো ছোট ছোট শব্দ তোলে, ঠিক যেন কেউ দৌড়ে পালাতে না পারলেও নিজের অস্তিত্ব জানান দিতে চায়। তার হাতে বই, চোখ নিচু, কাঁধটা একটু কুঁজো। সে জানে, পেছন থেকে কয়েকজোড়া চোখ তাকে দেখছে, শুধু দেখছে না, চুলচেরা বিশ্লেষণ করছে। সে শুনতে পায় না, কিন্তু অনুভব করে, হাওয়ায় ভেসে আসা একরকম বিষ। ফিসফাস যেন বিষাক্ত ফুলের গন্ধ, অদৃশ্য, কিন্তু তীব্র।
– ওর বুকই তো নেই।
– কে জানে, ছেলে না মেয়ে!
– ও কি আদৌ মানুষ?
সায়োও এখন দূরে সরে যাচ্ছে, নিঃশব্দে, যেন পেছনে টানার শক্তিটুকুও হারিয়েছে। একাকিত্ব তখন একমাত্র সত্যি। এটা হাড়ের মধ্যে ঢুকে যায়, ঘুমের ভেতরেও রয়ে যায়, এমনকী স্বপ্নেও জায়গা করে নেয়। কিন্তু তবুও, একদিন, সে ছোট্ট করে হাসে, নিজেরই এক লেখার লাইনে।
এসব কথা যেন করিডোরের দেয়ালগুলো চেপে রাখে না, বরং প্রতিধ্বনি হয়ে তার কানে ঢুকে পড়ে। প্রতিটি বাক্য একেকটা সূঁচ হয়ে বেল্লার আত্মাকে বিঁধে। অদৃশ্য ক্ষত, রক্তহীন যন্ত্রণা। তার সঙ্গী সায়ো মাঝে মাঝে পাশ থেকে চোখ মেলে দেখে। সে হয়ত বোঝে কিছুটা, কিন্তু বলে না কিছুই। এই চুপ থাকাটাও আবার একরকম শব্দ। নীরব সমর্থন? নাকি আত্মরক্ষার চেষ্টা, বোঝা যায় না। টিফিনের সময়, সবাই মিলে হেসে খেলে খাবার ভাগ করে নেয়, আর বেল্লা জানালার পাশে বসে। সে বাইরে তাকিয়ে দেখে গাছের পাতাগুলো কাঁপছে। ঠিক তার ভেতরের মতোই। একটা পাতা ধীরে ধীরে মাটি ছুঁয়ে পড়ে যায়—নিঃশব্দে, কারও চোখে না পড়ে। সে ভাবে, ‘এই পাতাটাও কি নিজেকে অপ্রয়োজনীয় মনে করত?’’ বেল্লার মন এখন একটা বন্ধ দরজা, যেখানে কেউ কড়া নারে না, কেউ ঢোকে না। সেই দরজার ওপাশে জমে আছে প্রশ্ন, অপমান আর না-বলা স্বপ্ন। ক্লাসের এককোণে বসে সে নিঃশব্দে লিখে চলে, যেন প্রতিটি শব্দ তার আত্মরক্ষার ঢাল, প্রতিটি বাক্য তার চুপ থাকা কান্নার প্রতিধ্বনি।
একাকিত্ব। এটা এমন এক সাথী, যার অস্তিত্ব বোঝা যায় সবচেয়ে বেশি তখনই, যখন চারপাশে মানুষ থাকে। বেল্লা জানে, সেই সাথীর নাম। জানে তার নিঃশব্দ উপস্থিতি, যেমন জানে শরতের বাতাসে পড়ে যাওয়া পাতার বিষণ্নতা। বাড়িতে ফিরে সে জানালার পাশে বসে। সূর্যের আলো যেন বৃষ্টির আগে ঘোলা হয়ে যাওয়া আকাশের মতো, কোনও রঙ নেই, উষ্ণতাও না। টেবিলে খোলা খাতার পৃষ্ঠায় সে কিছু লেখে, তারপর কেটে দেয়। আবার লেখে, আবার কেটে দেয়। কাগজের গায়ে সেই দাগগুলো হয়ে ওঠে তার মনের ম্যাপ, কোথাও শুরু নেই, শেষ নেই। একাকিত্ব বেল্লার সঙ্গে খায়, ঘুমায়, স্কুলেও যায়। বন্ধুর মতো, অথচ বন্ধুত্বহীন। সে চুপচাপ তার পাশে বসে থাকে, হাত ধরে না, কিন্তু ছাড়েও না। কখনএ কখনও সে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে দেখে। শরীরটা তার নিজের মনে হয় না। একটা খোলস, যা সে পরে আছে দিনের পর দিন, ঠিক যেন ভুল মাপের জামা।
সে ভাবে, ‘আমি কে? একজন মেয়ে? না ছেলে? না কি কিছুই না?’
প্রশ্নগুলো জমতে জমতে তার ভেতর এক ধোঁয়াশা তৈরি করে।
একসময় আর কিছুই স্পষ্ট থাকে না। তার মা চেষ্টা করে তাকে বোঝার, কিন্তু মা জানেন না কী বলতে হয়। বাবা! সে তো ছায়া মাত্র, যার অস্তিত্ব শুধু স্মৃতির ফ্রেমে। বন্ধু সায়োও এখন দূরে সরে যাচ্ছে, নিঃশব্দে, যেন পেছনে টানার শক্তিটুকুও হারিয়েছে। একাকিত্ব তখন একমাত্র সত্যি। এটা হাড়ের মধ্যে ঢুকে যায়, ঘুমের ভেতরেও রয়ে যায়, এমনকী স্বপ্নেও জায়গা করে নেয়। কিন্তু তবুও, একদিন, সে ছোট্ট করে হাসে, নিজেরই এক লেখার লাইনে। সেই হাসি ক্ষণিকের জন্য হলেও, তার প্রমাণ রেখে যায়, যে ভিতরে কোথাও এখনও আগুনটা নিভে যায়নি। তার মনে পড়ে হিরণ্যের কথা। তার সেই মাস্টার মশাই যে তাকে শিখিয়েছিল- তুমি মানুষ, তোমার প্রতিদিনের লড়াইই তোমার পরিচয়। আর সেটাই বেল্লার একমাত্র আশ্রয়।🍁 (চলবে)
🍂গল্প
অভুক্ত বাচ্চাদের আর তার সঙ্গে তাদের মায়ের চিৎকারকে থামাবার জন্য যখন বলছিল ঝোপে শোনা কথাগুলো… ঠিক সেই সময় তাদের নোংরা ঘরের চার কোন থেকে চারটে ভূত উঠে নৃ্ত্য করতে করতে…
—হ্যাঁ রে বামুন তুই কি বললি?
হ্যাঁদেরে বামন কি বললি-?
ও বামুন তুই কি বললি?
হ্যাঁরে বামুন তুই কি বললি?
হ্যাপি ১৪ শাক, ১৪ পিদিম…

সীমা ব্যানার্জ্জী-রায়
এক দেশে এক খুব গরীব বামুন আর বামনী তাদের ছেলেপুলে নিয়ে এক কুঁড়েঘরে কোনও রকমে বাস করত। একদিন গরীব বামুন যখন প্রাতঃক্রিয়া ঝোপের আড়ালে সারছিল, তখনও দিনের আলো ফোটেনি ভালভাবে। …ঠিক সেই সময় তিনি শুনতে পেলেন, নাকি সুরে কারা যেন বলছে ঝোপের মধ্যে থেকে…
—হ্যাঁদেরে বামন হ্যালেঞ্চা
কাঠি দিয়ে দাঁত ছ্যালেঞ্চা-
কুনিকে বলিস বুনির ব্যাটা হয়েছে।
বামুন বেচারা কোনও রকমে নিজের কাজ সেরে কাঁপতে কাঁপতে বাড়ি এসে দেখে… ঘুম থেকে উঠে গেছে সবাই। বামুন তখন বাচ্চাদের ডেকে বলে,
—জানিস তো, আজ যখন আমি প্রাতঃক্রিয়ায় গেছি তখন এক অদ্ভূতকাণ্ড
ঘটেছিল। আমার তো ভয়ে হাত পা সব একেবারে শরীরের ভেতর ঢুকে গেছিল। চোখের জল মুছে চুপ করে বস-বলছি।
অভুক্ত বাচ্চাদের আর তার সঙ্গে তাদের মায়ের চিৎকারকে থামাবার জন্য যখন বলছিল ঝোপে শোনা কথাগুলো… ঠিক সেই সময় তাদের নোংরা ঘরের চার কোন থেকে চারটে ভূত উঠে নৃ্ত্য করতে করতে…
—হ্যাঁ রে বামুন তুই কি বললি?
হ্যাঁদেরে বামন কি বললি-?
ও বামুন তুই কি বললি?
হ্যাঁরে বামুন তুই কি বললি?
জ্যান্ত ভূতদের দেখে তো বাচ্চারা সব ভিরমি খেয়ে মাটিতে মুখ থুবড়ে পড়ে গেছে। বাচ্চাদের মা তো গোঙাতে লেগেছে। বামন একেবারে হতবাক হয়ে গেছে। তখন ভূতেরা বলে…
—কোনও ভয় নেই বামন। আমরা তোর এই ঘরের চার কোণে থাকি। তোর বৌ খুব নোংরা। তাই আমরা যা বলছি মন দিয়ে শোন। তুই আমাদের বনের বোনের ছেলে হবার খবর দিয়েছিস। তাই তোকে আমরা উপহার দিতে চাই, মানে তোর ভাল করতে চাই। এখন আমরা যা বলি মন দিয়ে শোন–
বামুন কোনরকমে ভূতেদের মুখেঃ সব শুনল…কথাগুলো এইরকম…
—কাল ভূত চতুর্দ্দশীর দিন তোর বৌকে বলবি চারিদিক পরিস্কার করে রাখতে, ছেলে মেয়েদের ভাল করে চান করিয়ে, নিজেরাও ভালভাবে চান করিস। তারপর চোদ্দ শাক খাবি সকালবেলা আর চোদ্দ পিদিম দিতে বলবি সন্ধ্যেবেলা। কোথা থেকেও চেয়ে চিনতে একটা চট এনে তাকে থলির মতন করে সেলাই করতে বলবি। তারপর সেই থলিতে ইঁট-পাটকেল সব ভরে নিবি। গভীর রাতে সেই থলি কাঁধে ফেলে শ্মশান -এর দিকে এগিয়ে যাবি। দেখবি অনেক ভূতের মেলা। ভয় খাসনি যেন আবার। সেখানে তাদের মত করে দাঁড়াবি থলিটা মাটিতে রেখে।
যারা নিজেদের ঝোলা মাটিতে রেখে বিশাল লাইন করে অমাবস্যার রাতে ক্ষি ক্ষি, ক্ষ্যাঁক ক্ষ্যাঁক হাসিতে মাতিয়ে রাখবে তাদের সাথে গিয়ে দাঁড়াবি। …ঠিক সেই মুহূর্তে ভূতেদের সর্দার আকাশ ছোঁয়া যার শরীর সবাই কে পিন্ট অফ সাইলেন্ট হয়ে দাঁড়াতে বলবে… আর ১০০০ বজ্রের মতন হুঙ্কার ধ্বনিতে সবাইকে বলবে তাঁর আদেশ ঠিক ঠাক পালন করতে। যেই না তিনবার সরদারের কথা শেষ হবে তুই তোর সামনের ভূত বা পেত্নীর ঝোলা নিয়ে পোঁ পাঁ দৌ্ড়ে একেবারে সোজা বাড়িতে ফিরে আসবি। এসে দরজা বন্ধ করে তারপর যা করার করবি। পেছন ফিরে ভুলেও তাকাবি না কিন্তু। তাহলে ঘোর বিপদ হবে। দেখবি তোর সব দুঃখ দূর হয়ে যাবে।
… এই বলে ভূতেরা চলে গেলে বামুন সবার মুখে জলের ছিটা দিলে তারা উঠে বসল। তখন বামুন বামনীকে সব খুলে বলল। তারপর পরের দিন ভূতেরা যা যা বলে গেছিল তাই তারা করল। সন্ধ্যেবেলা বামুন কাঁধে চটের থলি নিয়ে শ্মশান এর দিকে এগিয়ে চলল।
ওখানে ভূতেরা যা যা বলেছিল সেই মতন সব করল…
—দাঁড়াও হে ভাই শ্যাম হয়ে
মাটির ঝোলা কাঁধেতে থুয়ে,
দাঁড়াও হে ভাই শ্যাম হয়ে
কাঁধের ঝোলা মাটিতে থুয়ে
দাঁড়াও হে ভাই শ্যাম হয়ে
মাটির ঝোলা কাঁধেতে থুয়ে…
তিনবার বলার পরেই ভূতেদের কথামত সামনে থেকে একটা থলি নিয়ে চোঁ চাঁ দৌড়। ভূতেরা তো তখন নানা রকম ভূতেদের আওয়াজ করে ওর পিছন পিছন দৌড়োতে শূরু করেছে। কিন্তু বামন আর পিছন ফিরে তাকায়নি। সোজা নিজের বাড়ির দরজার কাছে এসে মুখ থুবড়ে পড়ে গেছে, ‘ও বা্মনি দরজা খোল, বলে।
বামনি জেগেই ছিল একটা লম্প জ্বেলে… বামুনের গলা পেয়েই তাড়াতাড়ি দরজা খুলে বামুনকে ঘরে নিয়ে এল। তারপর ওরা থলি খুলে দেখে হিরে, মনি -মাণিক্য-এর দ্যুতিতে একেবারে চারিদিক আলোময়।
ব্যস! পরের দিন ওরা সেইসোনা ভেঙে ওদের যাবতীয় দরকারি সব কেনাকেটা করে আনল। আসতে আসতে রাজপ্রাসাদের মত করে বাড়ি বানাল। দেশের রাজা এই খবর পেয়ে বামুন কে ধরে আনতে আদেশ দিল।
তারপর বামুনের মুখে সব শুনে রাজাও প্রচার করে দিল —এবার থেকে রাজ্যের সবাই চোদ্দ শাক আর চোদ্দ পিদিম দিয়ে ভূত চতুর্দ্দশী উদযাপন করবে।
তাই তো আমরা ১৪ শাক খাই আর চোদ্দ পিদিম দি। ভুতেরা আমাদের তাই খুব ভালবাসে : কাজেই হ্যাপি ১৪ শাক আর ১৪ পিদিম। 🍁
🍂ধারাবাহিক রহস্য উপন্যাস
সাহিত্যিক তাপস রায়। সাম্প্রতিককালের একজন বিশিষ্ট কথাশিল্পী ও কবি। লেখকের প্রকাশিত ভিন্নধর্মী পুস্তকগুলি পাঠকদের মনে জাগরণ তৈরি করে। রহস্য কাহিনিতে লেখক প্রাণের ছোঁয়া পান। তেমনি একটি রহস্য উপন্যাস সাশ্রয় নিউজ-এর রবিবারের সাহিত্য স্পেশাল-এর পাঠকদের জন্য।
কিশাণগঞ্জের ফেলুদা

তাপস রায়
এতটা ভাবা যায়নি। কালিম্পং-এ হেরোইনের জাল ফেলাটাই উদ্দেশ্য ছিল। বিশেষ করে ছাত্রছাত্রীদের ভেতর শুরুতেই ছড়িয়ে দিতে পারলে এই ব্যবসা বড় হতে সময় নেবে না। তাই ঋতব্রতকে টার্গেট করা হয়েছিল। ঋতব্রত পাহাড়ের বাইরের ছেলে। বাঙালি। চিত্ত দুর্বল। আর বাবার একমাত্র ছেলে। বাবার টাকাও আছে। টার্গেট হিসেবে একেবারে আদর্শ। আর অন্যাএকটা উদ্দেশ্য অবশ্য ছিল, শিবপ্রসাদ চক্রবর্তী ওরফে মালবাবুকে একটু টাইট দেওয়া। কিন্তু দেখা গেল ফোকটে পঞ্চাশ লাখ টাকা হাতানো যাচ্ছে। অবাক তো লেগেছিলই। এত টাকা একজন সাধারণ রেলের কর্মচারীর কাছে থাকার কথা নয়। তাহলে সেও অনেক অন্যায় টন্যায় করেছে। যাক গে চোরের উপর বাটপারিটা করতে হলে সত্যি সত্যি তো ছেলেটাকে হেফাজতে নিতে হয়। যতটুকু জেনেছে, ঋতব্রতর বাবা তো টাকা
***
নিয়ে বেরিয়ে পড়েছে। পাখি হাতে এসেও পালিয়ে যাবে তা হয় না। ঋতব্রতকে ‘তিন তিনে চাপা চু’ -এর পথেই হেভেনে ঢুকিয়ে নিতে হবে। কিন্তু হেলমেটধারি লোকটা ভাবল, এত তাড়াতাড়ি অকুস্থলে পৌঁছাতে পারবে কি না।!পাকা গুটি কাঁচিয়ে যাবে না তো! তারচে তিস্তায় রাফটিং -এর সময় পড়ে যাবার নাটকটা আর একটু লম্বা করে পাতলে হয় না ! জল থেকে তুলে ওকে আর সঙ্গে সঙ্গে ফিরিয়ে দেবার দরকার নেই। খোঁজখবর চলুক। জলে পড়ে তো অনেকেই ভেসে যায়। বরংচ সুবিধে হবে। যদি তেমন দরকার হয় কিছুদিন গুম করে রাখার, তাতে আখেরে লাভ হবে।
হেলমেটধারী চাইল ওই ‘তিন তিনে চাপা চু’ স্পট থেকেই ঋতব্রতকে হেভেনে নিয়ে যেতে হবে। গনেশ ছেত্রী তো ওর বিশেষ অনুগত। আর বুড়ো মুখ কোথাও খোলে না। তিন কুলে কেউ নেই তার। কর্মচারীদের আবাসে হোকাস-বোকাস আবাসিক কটেজে পাহাড়ের নিচের দিকে থাকে। তিস্তার দিক থেকে সেটি কাছেই হবে। একটু বয়স হলে কী হবে এখনও গায়ে অনেক জোর। আর কোমরের কুকরি নিয়ে দু-চারজনের সঙ্গে পাঙ্গা নিতে পারে সে। স্কুলের বাচ্চাটা তো এমনিতেই ভয়ে সিঁটিয়ে থাকে। ওর জন্য গনেশ একাই একশ। বেশি লোককে ইনভল্ভ করার দরকার নেই। হেলমেটধারী ভাবল, এখন গাড়িতে ওঠার আগে ওকে একবার ফোন করে দেওয়া যাক। হেলমেটধারী আরও একটা ভাবনাকে মাথায় নিল। তা হল ঋতব্রতর সাথেও ফোনে একবার কথা বলে নিলে ভাল। মিষ্টি মিষ্টি কথা বলে যদি কাজ হাসিল হয়, অযথা গণ্ডগোল পাকানোর কোনও মানে নেই। ‘তিন তিনে চাপা চু’র পাকদণ্ডী পথে ঋতব্রত যেন নিজে নিজেই হেভেনে যায়। জোরাজুরি করে কোনো কাজ করতে হেলমেটধারী পছন্দ করে না। ‘ব্যাম্বু গ্রোভ কটেজ’-এর ঢালে নিচের দিকে কর্মচারীদের ঘর। সেখানে গনেশ ছেত্রীর ঘরের লাগোয়া যে গেস্ট রুম,তাতেই থাকুক ঋতব্রত। সঙ্গে দুটো বার ড্যান্সার মেয়েকে রেখে দিলেই হবে। তাতে খেলায় জেতার প্রাইজো দেয়া হয়েছে ভাববে। আর ওর হেরোইনের পুরিয়ার মাত্রা ডাবল করে দিলেই সব ও কে। সারাদিন ঝিমবে। চাইলে মেয়েদের সাথে একটু মস্তি করুক। হেলমেটধারীর হাতে অনেক ভালো ভালো নেপালি যুবতী আছে। মনে পড়ল, ওই মেয়েটাকেও তো ডেকে আনা যায়। মণিকাকে। দার্জিলিং-এ হোটেল কাঞ্চনজঞঘার রিসেপসনে বসে। রাতে কলে যায়। মণিকা ঋতব্রতর পুরনো পরিচিত। মণিকা কাছে থাকলে ঋতব্রত অন্য সব ভুলে যাবে।
হেলমেটধারী ঋতব্রতর মোবাইল-এ ফোন করে। ‘তুমি দারুণ কাজ দেখিয়েছ হে! তুমি সফল। তুমিই রাজা। আর কোনও পরীক্ষা নেই। কর্তৃপক্ষ-র প্রতিনিধি তোমাকে র্যাফটিং এর সময়ই তিস্তা থেকে তুলে হেভেনে নিয়ে যাবে। কেমন! অল দ্য বেস্ট ঋতব্রত।’
ফোনে সমুন্দর সিং কে ডেকে নিয়েছে ফেলুদা। মালবাবুর সঙ্গে যাওয়া যাবে না। ফেলুদার মনে হচ্ছে জলপাইগুড়ি থেকেই হয়ত ফলো করছে ওরা মালবাবুকে। একসাথে গেলে উদ্ধার করা তো দূরে থাক ফেলুদা নিজেই বিপদের মধ্যে পড়ে যাবে। তার কেন যেন মনে হচ্ছে ওই পাহাড়ের গায়ে ‘তিন তিনে চাপা চু’ লেখাটার কাছাকাছি সমস্যা ও সমাধান লুকিয়ে আছে। তবে এত বছর হল, এমন ক্রাইসিস ফেস করেনি ফেলুদা। এবার কেসটা বেশ বিপদজনক সুন্দর মনে হচ্ছে।
সমুন্দর সিংয়ের ভটভটি নৌকো এসেছে জলপথে। করোনেশন ব্রিজ টপকে ফেলুদা মাঝপথে নেমে যায়। বেলা অনেকখানি গড়িয়ে গিয়েছে। ট্রেন ঘন্টা দুয়েক এন জি পি তে ঢোকার আগে দাঁড়িয়েছিল। ফেলুদা সময় নষ্ট করতে চায় না। বললেন, ‘মালবাবু, আপনি তো সেই কালিম্পং বাজারের ‘ডিকি লজ’-এ উঠবেন। আপনি চলে যান আমি ঘন্টা খানিকের মধ্যে আসছি। কোনো জরুরি দরকার হলে আমাকে ফোন করবেন।’
ফেলুদা ভেবেছেন ‘ডিকি লজে’ যাবার আগে একবার কালিম্পং থানায়ও যাবেন। উসমানি সাহেব উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রীকে দিয়ে কালিম্পংয়ের পুলিশ সুপারকে বলে রেখেছেন। সব রকম সাহায্য পাওয়া যাবে।
***
সমুন্দর নতুন কেনা সিকিম-এর বালি খাদানের পুরনো চারজন নেপালি কর্মচারী ছেলেকে নিয়ে এসেছে। চৌখস। ভয়ডর নেই। শুনে, ওরাই বলেছে, চলো জঙ্গলের পথটাতে যাওয়া যাক। কিছু একটা পাওয়া যেতে পারে। নতুন মালিকের চোখে পড়তে চায় ওরা। এছাড়া ওদেরও মনে হয়েছে এখানে নদীর মাঝখানে পাহাড়ের গায়ে কেন কিছু লেখা থাকবে। তাও আবার বাংলায়! ওদের কুকরি তৈরি। ফেলুদার মনের ইচ্ছেও সেরকম। জঙ্গলে পথ আবিষ্কার করতে হবে।
‘চিন চিনে চাপা চু’ লেখার পাশে ভটভটি নৌকো দাঁড় করালে, নৌকোর কাছি ছুঁড়ে একটা বুনো গাছের সঙ্গে তা বেঁধে ফেলা গিয়েছে। তারপর দড়ি ধরে নেপালি চারজন ছেলে ডাঙায় উঠে পড়ে। ওরা লম্বা ফার্ণ এর ঝোঁপ কুকুরি দিয়ে খানিকটা সাফ করতেই পায়ে চলা একটা পাহাড়ি পথ খুঁজে পায়। ফিরে এসে ওরা জল থেকে ফেলুদা আর সমুন্দর সিংকেও তুলে নেয়। মাঝিকে চলে যেতে বলে নৌকো নিয়ে। দরকার হলে ফোনে ডেকে নেবে।
‘হেভেন হোকাস-পোকাস’ এর সর্বত্র লেখা আছে যে কোনো হার্ড ড্রিংক্স নিষিদ্ধ। কিন্তু কালিম্পং-এর ছেলে হয়ে পঙ্কজ থাপা জানে এটা একটা ভান। এই ঠান্ডার দেশে ট্যুরিস্টরা একটু পান করবে না, তা কি হয়! না এই রিসর্টে কোনো বার চোখে পড়েনি, কিন্তু পান নিষিদ্ধ হতে পারে না। হয়ত এটা ওই সব নার্সিং হোমের ঘোষণার মতো– এখানে কন্যা ভ্রুণ নির্ধারণ হয় না। কিন্তু যেখানে উঁচু গলা, সেখানেই চুরি থাকবেই থাকবে। সেখানেই অনেক টাকা নিয়ে অ্যাবরসন-ও হবে।
পঙ্কজ থাপা বেল বাজিয়ে বেয়ারাকে ডাকল। কিছু বলার আগেই বেয়ারার হাতে একশ টাকা গুঁজে দিল। তারপর ভাঙা ভাঙা হিন্দিতে বলল, ‘মুঝে হুইস্কি কা জরুরৎ হ্যায়। কঁহা মিল সকতে হ্যাঁয়?’
নেপালি বেয়ারা দশ মিনিটের মধ্যে হুইস্কি নিয়ে এলে পঙ্কজ তার টাকা মিটিয়ে দু’টো গ্লাসে তিন পেগ করে ঢেলে বেয়ারাকে একটা গ্লাস দিয়ে একদম নিজের কাছে সোফায় বসিয়ে নিল। তারপর মাল খেতে খেতে এই রিসর্টের সব খবরাখবর, কত বছর ধরে চলছে এই রিসর্ট, এখানে কী কী সিনেমার শ্যুটিং হয়েছে শুনল। নিজেদের মাছ চাষ, সবজি চাষ, অর্কিডের সাপ্লাই—সব বলেছে বেয়ারা। মাঝে মাঝে দার্জিলিং যাবার পথে কলকাতার মন্ত্রী বা উত্তরবঙ্গের মন্ত্রীদের ফ্রি তে থাকা খাবার ব্যবস্থা করে দিয়ে দরবার করা হয়েছে, এটাকে ট্যুরিস্ট স্পট হিসেবে যদি সরকার ঘোষনা করে। বেয়ারা বলেছে হয়ত হয়ে যাবে। ডেলোর রিসর্ট আর এই ‘হেভেন হোকাস-পোকাস’কে ট্যরিস্ট ম্যাপে জায়গা করে দেয়া হবে। বেয়ারাটি একনাগাড়ে বলে চলেছে, এমনকী রিসর্টের মালকিনের সঙ্গে এক বাঙালি ডাক্তারের প্রেমের কাহিনিও বলে দিল সে। এই কর্মা পরিবারের সে-ই ফ্যামিলি ফিজিশিয়ন। কালিম্পং বাজার ছাড়াও, শিলিগুড়ি, দার্জিলিং, গ্যাংটকেও নাকি তাঁর নার্সিং হোম আছে।
ডাইনিং এ একটা বেল বাজে। রাত ন’টা থেকে দশটার মধ্যে সবাইকে রাতের খাবার খেয়ে আসতে হয়। বেল বাজল। বেয়ারা বলল, ‘সাব খানা লাগা দিয়া। যাইয়ে খানা খাকে আইয়ে।’
হ্যাঁ যেতে হবে। ডাইনিং-এর ওখানে বোঁদে হয়ত চলে গিয়েছে। ওর সঙ্গে কথাটথা বলতে হবে। কালকের প্লানটা বুঝিয়ে দিতে হবে। পঙ্কজ গ্লাসে থাকা হুইস্কিতে শেষ সিপ দিয়ে উঠে দাঁড়াল। দু’টো ধাপ উঁচুতে ‘অর্কিড রিসর্ট’, মানে ডাইনিং। পঙ্কজ রুমের বাইরে পা দিয়ে দেখল আকাশে গাড়ির হেড লাইটের মতো একখানা চাঁদ উঠেছে। শুধু এই ‘হেভেন হোকাস-পোকাস’ কেন, উল্টো দিকের কাঞ্চনজঙ্ঘাও যেন ওই আলোয় তা তা থৈ নাচ করছে। ভারি ভাল লাগল।
খেয়েদেয়ে এসে ঘুমিয়ে পড়ার আগে পঙ্কজ একবার ফোন করল বোঁদেকে। ভোর ভোর যেন ওঠে। সকলের ঘুম ভাঙার আগে পাহাড়ের নীচের দিকে যে পথটা অর্কিডের বাগানের ভেতর দিয়ে নেমে গেছে, সেটা একবার এক্সক্যাভেট করবে। পঙ্কজ শোয়ার আগে একবার পরের দিনের জিনিসপত্র গুছিয়ে রাখে। মোবাইল, ক্যামেরা। 🍁 (চলবে)
🍂কণাগদ্য
ধুতরা গাছের পাতার অন্তরাল ছাড়িয়ে নিজেকে প্রত্যক্ষমান করে প্রকাশ ঘটানো নবজাতক ফুলতো মহাকালের চাহিদা৷ সেকথা মহাকাল নিজে নিদর্শন দিয়েছেন৷ কানের পাশে রেখে বুঝিয়েও দিয়েছেন৷ আর আমার তারা মা’র চাহিদা তো রক্তজবার প্রেম… কালো ভ্রমরার উপর চাহিদার কথা আমি বই-এ পড়েছিলাম৷ সেটা আজ আমার চাহিদায় পরিণত৷
কালো মেঘের প্রতি উড়ন্ত চাতকেরও একটা শেষ চাহিদা থাকে৷ আমার পিতা কিংবা আরও অনেক কৃষকের চাহিদা তো আকাশ ভাঙা বৃষ্টি৷
অমিত পাল -এর গুচ্ছ কণাগদ্য

হারানো দিনের গল্প
দেখো মুচকি হাসি নিয়ে কিভাবে এগিয়ে আসছে রঙ্গালয়৷ নাটকে ভূশন্ডীর মাঠের কথা মনে পড়ে? আর তেঁতুল গাছ, বেলগাছের ব্রহ্মদৈত্য, মেঘেদের গুরু গুরু নাদ, কল্পনার আরও কত রহস্যমঞ্জরি…
মেলার মাঠে কিনে নিয়ে যাওয়া প্রিয় পাথরবাটি হারিয়ে গেলে কেমন হয় সে কথা তুমি জানো কি?
শখের দাম লাখ টাকা– একথা আমি জানি৷ তবে তোমার উপলব্ধিটা কি তার একটা ফর্দ বা তালিকার বিবরণ দাও তো আমায়৷
তোমার লাল রঙের শাড়ির ভাজে ভাজে কত হারানো দিনের গল্প লুকিয়ে আছে, তার রসানুভূতি আমি উপলব্ধি করেছি৷ শুধু নীল আকাশে তুমি নিজেকে ভাসিয়ে দিতে পারোনি৷ পারোনি নিজেকে আমার রাধা রূপে উপস্থাপিত করতে৷
দেখো মেঘেরা গর্জাচ্ছে৷ সূর্য্যি মামাও নিজের ছন্দে পূর্ব-পশ্চিমে ভ্রমণ করছে৷ চাঁদনি রাতও মধুর৷ শুধু বাকি রয়েছে তোমার আমার পুরোনো দিনের ইতিহাস…
আজও খুঁজে পাইনি
লোকটির সভ্যতা আমি বুঝি নাই৷ কাজ করে৷ খেটে খায়৷ সব ঠিক আছে৷ কিন্তু সে কাজের লোক তো নয়৷ তবুও যেন অন্তহীন দারিদ্রের রেখাপট…
লোকটির স্বপ্নগুলি চুড়মার হয়ে গিয়েছে৷ চেয়েছে বিবাহ জীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে৷ কিন্তু হাঁসের ডিম বাচ্চা হওয়ার আগে নরখাদকের পেটে চলে গেছে৷
লোকটির বাইকের প্রতি একটা দূর্বলতা আছে৷ বাইকের গতির সাথে নিজের জীবনের গতি মিল সে আজও খুঁজে পাইনি…
কে জানত!
তুই যখন লিখতে লাগিস তখন তোর অপরূপ হাতের ছোঁয়ায় দিনলিপিতে শব্দগুলি আপন লীলায় সেজে ওঠে৷ ভাষার মাধুর্য্যতা প্রকাশ পাই অলংকার সৌজন্যে৷ তোর মনের ভাব যে এই ভাবে লীলায়িত ছন্দের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাবে সে কথা কে জানত!
অগোচরে কোনও এক শক্তির দ্বারা কীভাবে যে তোর সুগঠন কাব্যশৈলী শুদ্ধ তাল ও লয় এর গুনাগুনে পরিপুষ্ঠ হবে যা পাঠক মনকে এক রোমান্টিকতা প্রদান করবে সে কথাই বা কে জানত!
সে কথা তো আর কবি বলে যায়নি…
চাহিদা
গলদঘর্ম সকালে নিজের শরীরে পদ্মপাতার শিশির খুঁজি। চাহিদা তো একটাই– পাশে সুন্দর কুমুদিনী বিহার করুক। তুমি মুক্ত রতন খুঁজে আনো।জানি এটা হয়তো তোমার চাহিদা, কিন্ত আমার টা তো — পাশে থাক তুমি।
নিভৃত আশ্রম জানে ঋষিগণের চাহিদার কথা৷ কল্পতরুও তাদের চাহিদা মেটাতে সক্ষম৷ কিন্তু তারা তো– মোক্ষ লাভে মত্ত৷
ধুতরা গাছের পাতার অন্তরাল ছাড়িয়ে নিজেকে প্রত্যক্ষমান করে প্রকাশ ঘটানো নবজাতক ফুলতো মহাকালের চাহিদা৷ সেকথা মহাকাল নিজে নিদর্শন দিয়েছেন৷ কানের পাশে রেখে বুঝিয়েও দিয়েছেন৷ আর আমার তারা মা’র চাহিদা তো রক্তজবার প্রেম…
কালো ভ্রমরার উপর চাহিদার কথা আমি বই-এ পড়েছিলাম৷ সেটা আজ আমার চাহিদায় পরিণত৷
কালো মেঘের প্রতি উড়ন্ত চাতকেরও একটা শেষ চাহিদা থাকে৷ আমার পিতা কিংবা আরও অনেক কৃষকের চাহিদা তো আকাশ ভাঙা বৃষ্টি৷ তবে আমার চাহিদা– সারাটা দিনের মেঘলা আকাশ, বৃষ্টির জলধারা তোমার উপহার হোক৷
জানালার শীতল বাতাস শরীরে শিহরণ খেলুক৷ এখন তুমি তোমার নরম হাতের চাদরে আমাকে আদর করো, আপাতত এটাই আমার চাহিদা…🍁

সম্পাদক : দেবব্রত সরকার | কার্যনির্বাহী সম্পাদক : সানি সরকার | অঙ্কন : প্রীতি দেব ও আন্তর্জালিক
এক নজরে 👉 সাশ্রয় নিউজ-এ আপনিও পাঠাতে পারেন স্থানীয় সংবাদ। এছাড়াও রবিবারের সাহিত্য স্পেশাল-এর জন্য উপন্যাস, কবিতা (একধিক কবিতা পাঠালে ভালো হয়। সঙ্গে একটি লেখক পরিচিতি। গল্প, প্রবন্ধ, গদ্য, পুস্তক আলোচনা (আলোচনার জন্য দুই কপি বই পাঠাতে হবে), ভ্রমণ কাহিনী। লেখার সঙ্গে সম্পূর্ণ ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর থাকতে হবে। অবশ্যই কোনও প্রিন্ট বা ডিজিটাল মাধ্যমে এমনকী সোশ্যাল মিডিয়াতে বা পোর্টালে পূর্ব প্রকাশিত লেখা পাঠাবেন না। ই-মেল করে লেখা পাঠান। ই-মেল আই ডি : editor.sasrayanews@gmail.com

বি: দ্র: সমস্ত লেখা লেখকের নিজস্ব। দায় লেখকের নিজস্ব। কোনও বিতর্কিত বিষয় হলে সংবাদ সংস্থা কোনওভাবেই দায়ী থাকবে না এবং সমর্থন করে না। কোনও আইনি জটিলতায় সাশ্রয় নিউজ চ্যানেল থাকে না। লেখক লেখিকা প্রত্যেকেই লেখার প্রতি দ্বায়িত্ববান হয়ে উঠুন। লেখা নির্বাচনে (মনোনয়ন ও অমনোনয়ন) সম্পাদকমণ্ডলীর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।
সম্পাদকীয় ঋণ : মহামিলনের কথা বিভাগের লেখা আন্তর্জাল থেকে সংকলিত।





