Samik Bhattacharya, TMC to BJP | তৃণমূলের জন্য দরজা বন্ধ, ২০৭ আসনের জয়ের পর কড়া বার্তা শমীকের

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনে নজিরবিহীন সাফল্যের পর পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক আবহে দ্রুত পালাবদল ঘটছে। ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২০৭টি আসনে জয় পেয়ে সরকার গঠনের পথে এগিয়েছে বিজেপি। এই বিপুল জয়ের পর থেকেই জল্পনা শুরু হয়েছিল, প্রধান বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেস থেকে কি একের পর এক নেতা-কর্মী নতুন শাসক দলে যোগ দেবেন? সেই সম্ভাবনায় জল ঢেলে দিলেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya)। তাঁর সাফ কথা, ‘তৃণমূলের জন্য আমাদের দরজা বন্ধ।’

আরও পড়ুন : Samik Bhattacharya : শমীক ভট্টাচার্যকে খোলা চিঠি

দিল্লিতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শমীক বলেন, ‘আমরা কাউকে আমদানি করে ২০৭ আসনে পৌঁছাইনি। মানুষ আমাদের উপর আস্থা রেখেছে। তৃণমূলের বিরুদ্ধে ভোট পড়েছে। সেই পরিস্থিতিতে তাঁদের নেতাদের আমরা দলে নেব না।’ তাঁর এই মন্তব্যের পরই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই তৃণমূলের ভেতরে অস্থিরতার ইঙ্গিত মিলছিল। বিভিন্ন স্তরে অসন্তোষ, নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন, এসব মিলিয়ে একাংশের মধ্যে দলবদলের প্রবণতা তৈরি হয়েছিল বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছিল। অনেকেই মনে করছিলেন, ক্ষমতার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে তৃণমূলের বেশ কিছু পরিচিত মুখ বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন। কিন্তু শমীকের মন্তব্য সেই সম্ভাবনাকে কার্যত নাকচ করে দিল। তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের সংগঠন নিচুতলা থেকে তৈরি হয়েছে। বুথ স্তর থেকে জেলা পর্যন্ত কর্মীদের পরিশ্রমেই এই জয় এসেছে। বাইরে থেকে কাউকে এনে সেই জায়গা দেওয়া আমাদের নীতির মধ্যে পড়ে না।’ এই বক্তব্যে বোঝা যাচ্ছে, বিজেপি নিজেদের সংগঠনকে শক্তিশালী করার দিকেই জোর দিচ্ছে।

শুধু তাই নয়, দুর্নীতির প্রসঙ্গও তুলে ধরেছেন শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর কথায়, ‘যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তাদের আমরা গ্রহণ করতে পারি না। রাজনীতিতে বিশ্বাসযোগ্যতা সবচেয়ে বড় বিষয়। মানুষ আমাদের যে দায়িত্ব দিয়েছে, তা রক্ষা করা জরুরি।’ তাঁর এই মন্তব্যে পরিষ্কার, দলীয় ভাবমূর্তি বজায় রাখার ক্ষেত্রে কোনও আপস করতে রাজি নয় বিজেপি নেতৃত্ব। উল্লেখ্য, কিছুদিন আগেই শমীক বলেছিলেন, তৃণমূলের সব নেতা খারাপ নন। সেই মন্তব্যের পরেই রাজনৈতিক মহলে নতুন জল্পনা তৈরি হয়েছিল। অনেকেই মনে করেছিলেন, ‘ভাল’ তৃণমূল নেতাদের জন্য হয়ত বিজেপির দরজা খোলা থাকতে পারে। সেই আবহে বিভিন্ন জায়গায় তৃণমূলের কিছু নেতা নিজেদের অবস্থান বদলের ইঙ্গিত দিচ্ছেন বলেও খবর ছড়িয়েছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক বক্তব্যে শমীক সেই সব সম্ভাবনাকে কার্যত বন্ধ করে দিয়েছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, এই অবস্থান বিজেপির জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে দলবদল নিয়ে যে সমালোচনা ছিল, তা থেকে বেরিয়ে আসতে এই সিদ্ধান্ত সহায়ক হতে পারে। একই সঙ্গে দলীয় কর্মীদের মধ্যেও একটি বার্তা যাচ্ছে, সংগঠনের ভেতর থেকে উঠে এলেই সুযোগ মিলবে। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য পরিস্থিতি কিছুটা জটিল হতে পারে। নির্বাচনে বড় ধাক্কা খাওয়ার পর দলকে পুনর্গঠন করার প্রয়োজন রয়েছে। সেই সময় যদি দলবদলের পথ সংকীর্ণ হয়ে যায়, তবে সংগঠন ধরে রাখা আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। যদিও তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব এখনও প্রকাশ্যে এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেনি।

রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখন এক নতুন মোড়ে দাঁড়িয়ে। একদিকে নতুন সরকারের সংগঠন বিস্তারের লক্ষ্য, অন্যদিকে বিরোধী দলের পুনরুদ্ধারের চেষ্টা, এই দুইয়ের মধ্যে তৈরি হচ্ছে নতুন লড়াই। শমীক ভট্টাচার্যের বক্তব্য সেই লড়াইয়ের দিকনির্দেশনা অনেকটাই নির্ধারণ করে দিল বলে মনে করা হচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে এটা পরিষ্কার যে, ক্ষমতার পালাবদলের পরেও বিজেপি দলবদলের উপর নির্ভর করতে চাইছে না। বরং নিজেদের সংগঠনকে শক্তিশালী করে দীর্ঘমেয়াদি ভিত্তি গড়ার দিকে নজর দিচ্ছে। এই কৌশল কতটা সফল হয়, তা আগামী দিনে বোঝা যাবে। রাজনীতির ময়দানে এই ধরনের অবস্থান নতুন নয়, তবে সময়ের প্রেক্ষিতে তা বিশেষ গুরুত্ব পায়। বিশেষ করে যখন বিপুল জনসমর্থন নিয়ে কোনও দল ক্ষমতায় আসে, তখন তাদের পরবর্তী পদক্ষেপই ভবিষ্যতের রাজনীতির রূপরেখা নির্ধারণ করে। শমীক ভট্টাচার্যের এই মন্তব্য সেই দিকেই ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Singur Tata comeback news, Samik Bhattacharya industry statement | সিঙ্গুরে আবার টাটা? শিল্পে ফেরার ডাক শমীক ভট্টাচার্যের, নতুন বার্তা দিতে চাইছে বিজেপি

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন