প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদী, সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ মুম্বাই : জীবনের এক নতুন পর্বকে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতিতে অভিনেত্রী সামান্থা রুথ প্রভু (Samantha Ruth Prabhu)। সেই বিশেষ সময়কে ঘিরে আয়োজন করা হয়েছিল এক আধ্যাত্মিক আচার-অনুষ্ঠানের। স্বামী তথা পরিচালক রাজ নিদিমোরু (Raj Nidimoru) -এর সঙ্গে সেই অনুষ্ঠানের বেশ কিছু ছবি সমাজমাধ্যমে প্রকাশ করেছেন দক্ষিণী তারকা। ছবিগুলিতে কখনও তাঁকে ফুলের পাপড়িতে ঘেরা অবস্থায় দেখা গিয়েছে, কখনও আবার মন্ত্রোচ্চারণের আবহে চোখ বন্ধ করে বসে থাকতে দেখা গিয়েছে অভিনেত্রীকে। অনুষ্ঠানের প্রতিটি মুহূর্তেই ছিল ধর্মীয় রীতি, প্রার্থনা এবং নতুন প্রাণের মঙ্গলকামনার আবহ।

সামান্থার প্রকাশ করা ছবিগুলি সামনে আসার পর থেকেই তা নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে তাঁর অনুরাগীদের মধ্যে। সাধারণ সাধের অনুষ্ঠানের চেনা ছবির বাইরে এদিনের আয়োজনে ছিল একটি বিশেষ আধ্যাত্মিক পর্ব। ‘কলা আবরণ’ নামে পরিচিত সেই আচারকে কেন্দ্র করে মাতৃত্ব, নারীশক্তি এবং নতুন জীবনের আগমনকে একসঙ্গে উদ্যাপন করা হয়েছে। সমান্থা নিজেই জানিয়েছেন, এই অনুষ্ঠানের প্রতিটি রীতির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে নির্দিষ্ট আধ্যাত্মিক ভাবনা। ‘কলা আবরণ’ শ্রীবিদ্যা সাধনার সঙ্গে যুক্ত একটি বিশেষ আচার। এই অনুষ্ঠানে দেবীর ৯৪টি কলাকে সম্মান জানানোর প্রথা রয়েছে বলে জানিয়েছেন অভিনেত্রী। হবু মায়ের শরীরের সাতটি চক্রকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন আচার পালিত হয়। পবিত্র জল, মন্ত্রোচ্চারণ ও নির্দিষ্ট ধর্মীয় প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সেই রীতিগুলি সম্পন্ন করা হয়। বিশ্বাসের জায়গা থেকে এই আচারকে শরীর ও মনের বিভিন্ন শক্তিকেন্দ্রকে পবিত্র করার একটি প্রক্রিয়া হিসেবে দেখা হয়।
অনুষ্ঠানের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সামান্থা যে বিষয়টির উপরে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন, তা হল মাতৃত্বকে শুধু সন্তানের জন্মের সঙ্গে যুক্ত না করে মায়ের নিজের এক নতুন জন্ম হিসেবেও দেখা। তাঁর মতে, একজন নারী যখন নতুন প্রাণের সৃষ্টির মাধ্যম হয়ে ওঠেন, তখন তিনিও জীবনের একটি নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করেন। তাই অনুষ্ঠানে শুধু গর্ভস্থ শিশুর মঙ্গলকামনাই করা হয় না, হবু মায়ের জন্যও প্রার্থনা করা হয়। সমাজমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ছবিতে সমান্থার উপর ফুলের পাপড়ি ছড়িয়ে দিতে দেখা যায় উপস্থিত মহিলাদের। চারপাশে ফুল, ধর্মীয় আচার ও প্রার্থনার আবহে বসেছিলেন অভিনেত্রী। অনুষ্ঠানের আর একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্ব ছিল অভিষেক। সেই পর্বের পরে তাঁকে শ্রীচক্র যন্ত্রের পবিত্র কেন্দ্রে বসানো হয়। শ্রীবিদ্যার আধ্যাত্মিক পরম্পরায় শ্রীচক্রের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। এর নয়টি ‘আবরণ’কে আধ্যাত্মিক যাত্রার বিভিন্ন স্তরের প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

শ্রীচক্রের কেন্দ্রস্থলে রয়েছে ‘বিন্দু’। আধ্যাত্মিক বিশ্বাসে এই বিন্দুকে সৃষ্টির উৎস হিসেবে ধরা হয়। একই সঙ্গে এটি ললিতা ত্রিপুরসুন্দরীর উপস্থিতির প্রতীক বলেও বিবেচিত। তাই সমান্থাকে শ্রীচক্রের কেন্দ্রে বসানোর বিষয়টিও নিছক আনুষ্ঠানিকতা নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে সৃষ্টিশক্তি ও নারীশক্তির একটি গভীর প্রতীকী ধারণা। অনুষ্ঠানের আরও একটি উল্লেখযোগ্য মুহূর্ত ধরা পড়েছে ছবিতে। কয়েক জন মহিলা একসঙ্গে মন্ত্রোচ্চারণ করছেন এবং তাঁদের মাঝখানে চোখ বন্ধ করে বসে রয়েছেন সমান্থা। বাইরের ব্যস্ততা থেকে নিজেকে সরিয়ে সেই সময়টুকু সম্পূর্ণ ভাবে অনুষ্ঠানের আবহে ডুবিয়ে দিয়েছিলেন অভিনেত্রী। মন্ত্রের ধ্বনি, ধর্মীয় আচার ও প্রার্থনার পরিবেশে এক ধরনের শান্ত আবহ তৈরি হয়েছিল।
সামান্থার ব্যাখ্যায়, মন্ত্রোচ্চারণের একটি বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। তাঁর মতে, মন্ত্রের ধ্বনি মনকে ধীরে ধীরে বাইরের জগতের নানা ব্যস্ততা থেকে সরিয়ে অন্তরের কেন্দ্রের দিকে নিয়ে যেতে পারে। সেই আচারেই মা ও শিশুর নিরাপত্তা, সুস্থতা এবং মঙ্গল কামনা করা হয়। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, জন্মের আগেই মন্ত্র ও আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শিশুর মধ্যে এক ধরনের পবিত্র সংস্কার তৈরির ধারণাও রয়েছে। এই অনুষ্ঠানের প্রতিটি ধাপ যে সমান্থার কাছে আলাদা গুরুত্ব বহন করেছে, তা তাঁর নিজের বক্তব্যেই উঠে এসেছে। শুধু কোনও রীতি পালন করা নয়, সেই রীতির পিছনে থাকা অর্থ বোঝার চেষ্টা করেছেন তিনি। কোনও একটি অনুষ্ঠানের বাহ্যিক আড়ম্বরের চেয়ে তার অন্তর্নিহিত ভাবনা অনুভব করাই তাঁর কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ছবিগুলিতে সমান্থার পাশে দেখা গিয়েছে রাজ নিদিমোরুকেও। পাশাপাশি অভিনেত্রীর কয়েক জন ঘনিষ্ঠ বন্ধুকেও অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়।
জীবনের গুরুত্বপূর্ণ এই মুহূর্তে কাছের মানুষদের পাশে পাওয়ার বিষয়টিও সামান্থার কাছে বিশেষ হয়ে উঠেছে। অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য তাঁদের প্রত্যেককে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন অভিনেত্রী। সামান্থার প্রকাশ করা ছবিগুলির মধ্যে তাই একাধিক স্তর রয়েছে। কোথাও ফুলের পাপড়ি, কোথাও মন্ত্রোচ্চারণ, কোথাও শ্রীচক্র, আবার কোথাও ঘনিষ্ঠ মানুষদের উপস্থিতি, ইত্যাদি সব মিলিয়ে অনুষ্ঠানটির আবহ তৈরি হয়েছে ধর্মীয় বিশ্বাস ও ব্যক্তিগত অনুভূতির মিশেলে। মাতৃত্বকে ঘিরে প্রচলিত সামাজিক অনুষ্ঠানের সঙ্গে শ্রীবিদ্যার আচার যুক্ত হওয়ায় আয়োজনটি পেয়েছে আলাদা মাত্রা। দক্ষিণী চলচ্চিত্র জগতের অন্যতম পরিচিত মুখ সমান্থা দীর্ঘদিন ধরেই নিজের ব্যক্তিগত জীবন আর কাজের নানা মুহূর্ত সমাজমাধ্যমে অনুরাগীদের সঙ্গে ভাগ করে নেন। তবে জীবনের এই পর্যায়ের ছবি প্রকাশের ক্ষেত্রে তাঁর বক্তব্যের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে আচারটির আধ্যাত্মিক অর্থ। শুধু বাহ্যিক সাজসজ্জা বা অনুষ্ঠানের ছবি নয়, কেন এই রীতিগুলি পালন করা হচ্ছে, তার ব্যাখ্যাও তিনি দিয়েছেন।

মাতৃত্বের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা বিভিন্ন ভারতীয় আচার-অনুষ্ঠানে মা আর সন্তানের কল্যাণের জন্য প্রার্থনার রীতি বহুদিনের। সমান্থার অনুষ্ঠানে সেই ভাবনার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে শ্রীবিদ্যার নির্দিষ্ট আধ্যাত্মিক পরম্পরা। ফলে আয়োজনটি হয়ে উঠেছে প্রার্থনা, নারীশক্তি এবং নতুন জীবনের আগমনকে কেন্দ্র করে একটি বিশেষ অনুষ্ঠান। সমাজমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে সমান্থার মুখে যে আবেগ ধরা পড়েছে, তার সঙ্গে অনুষ্ঠানের গাম্ভীর্যও মিলেমিশে রয়েছে। চোখ বন্ধ করে মন্ত্র শুনছেন অভিনেত্রী, ফুলের পাপড়িতে ভরে উঠছে চারপাশ, পাশে রয়েছেন রাজ ও ঘনিষ্ঠজনেরা। জীবনের নতুন অধ্যায়ের আগে এমন একটি আচারকে নিজের মতো করে অনুভব করতেই চেয়েছেন সমান্থা। তাঁর প্রকাশ করা ছবি ঘিরে অনুরাগীদের আগ্রহের অন্যতম কারণও সম্ভবত এখানেই। তারকার ঝলমলে জীবনের বাইরে সমান্থার একান্ত ব্যক্তিগত এবং আধ্যাত্মিক মুহূর্তের সাক্ষী হলেন তাঁর অনুরাগীরা। ‘কলা আবরণ’-এর মতো একটি বিশেষ রীতির মাধ্যমে মাতৃত্বের আগমনকে ঘিরে যে ভাবনা এবং বিশ্বাস কাজ করে, সেটিই এ বার উঠে এল অভিনেত্রীর সমাজমাধ্যমের পোস্টে। জীবনের নতুন অধ্যায়ের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে সমান্থার এই বিশেষ অনুষ্ঠান তাই শুধুমাত্র একটি সামাজিক আয়োজন হয়ে থাকল না; হয়ে উঠল নতুন জীবনের মঙ্গলকামনা এবং এক নারীর নতুন পরিচয়ে প্রবেশের প্রতীকী মুহূর্ত।
সব ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Samantha Ruth Prabhu pregnancy | ‘সন্তান হবে না’ ভেবেই নিয়েছিলেন! হঠাৎ প্রেগন্যান্সি, রাজের সঙ্গে নতুন জীবনের প্রস্তুতিতে সামান্থা রুথ প্রভু




