Ritabhari Chakraborty Oscar 2025 | অস্কারের দৌড়ে ঋতাভরী চক্রবর্তী, ভারত-পাপুয়া নিউ গিনির যৌথ প্রযোজনায় অভিনয়ে বিশ্বমঞ্চে বঙ্গতনয়া

SHARE:

পরিধি চক্রবর্তী, সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : প্রশান্ত মহাসাগরের ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্র পাপুয়া নিউ গিনি (Papua New Guinea) এই প্রথমবার অস্কারের দৌড়ে নাম লিখিয়েছে। সেই দেশ থেকে মনোনীত হয়েছে ফিচার ফিল্ম ‘পাপা বুকা’ (Papa Buka)। বিশেষ দিক হল, এটি ভারত ও পাপুয়া নিউ গিনির যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত একটি ছবি। আর এই ছবিতেই অভিনয়ের সুযোগ পেয়েছেন বাঙালি অভিনেত্রী ঋতাভরী চক্রবর্তী (Ritabhari Chakraborty)। একদিকে ভারত, অন্যদিকে প্রশান্ত মহাসাগরের দেশ, দুই প্রান্তকে যেন এক সুতোয় বেঁধে দিয়েছেন অভিনেত্রী।

ছবির প্রেক্ষাপটও যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তিতে নিজেদের প্রথম অস্কার মনোনীত ছবিটি পাঠিয়েছে পাপুয়া নিউ গিনি। ঋতাভরী একটি বিশেষ সংবাদ মাধ্যমে বলেন, 'ভারত ও পাপুয়া নিউ গিনির যৌথ প্রযোজনায় তৈরি এই ছবিতে দুই দেশের ভাষাই ব্যবহার করা হয়েছে। তিনটি মূল চরিত্রের একজন মালয়ালি, একজন পাপুয়া নিউ গিনির বাসিন্দা,
ঋতাভরী চক্রবর্তী। ছবি: সংগৃহীত

ছবিটির পরিচালক বিজুকুমার দামোদরন (Biju Kumar Damodaran)। দ্বিভাষিক এই সিনেমায় (হিন্দি ও ইংরেজি) ঋতাভরীকে দেখা যাবে একজন ইতিহাসচর্চাকারীর চরিত্রে। ছবির প্রেক্ষাপটও যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তিতে নিজেদের প্রথম অস্কার মনোনীত ছবিটি পাঠিয়েছে পাপুয়া নিউ গিনি। ঋতাভরী একটি বিশেষ সংবাদ মাধ্যমে বলেন, ‘ভারত ও পাপুয়া নিউ গিনির যৌথ প্রযোজনায় তৈরি এই ছবিতে দুই দেশের ভাষাই ব্যবহার করা হয়েছে। তিনটি মূল চরিত্রের একজন মালয়ালি, একজন পাপুয়া নিউ গিনির বাসিন্দা, আর আমি একজন বাঙালি চরিত্রে। ছবিতে বাংলায় কথা বলেছি কারণ পরিচালক মনে করেছেন, আমার চরিত্র যখন বাংলায় লেখা কোনও চিঠি পড়ছে, তখন সেটাকে অন্য ভাষায় বলার কোনও মানে হয় না। ২০১৫ সালে এক ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে পরিচালকের সঙ্গে আলাপ হয়েছিল। তখন মজা করে বলেছিলাম, আমাকে ছবিতে না নিলে কেরলে গিয়ে খুন করে আসব। উনি সেই কথা রেখেছেন।’ ঋতাভরীর এই উচ্ছ্বাস প্রমাণ করছে, আন্তর্জাতিক মঞ্চে কাজ করার সুযোগকে তিনি কতটা মূল্য দিচ্ছেন।

ঋতাভরী চক্রবর্তী। ছবি : সংগৃহীত

তবে প্রশ্ন উঠছে, বাংলা ছবিতে তাঁর উপস্থিতি কি কমছে? ঋতাভরীর স্পষ্ট উত্তর, ‘আমি কোনও সীমারেখায় নিজেকে আটকে রাখতে চাই না। আমি ভাল ছবিই করতে চাই। অনেক দক্ষিণী ছবি, এমনকী বহু হিন্দি ছবির প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছি। কারণ, সেই ছবিগুলির মান খুব খারাপ ছিল। হয়ত বড় প্রযোজক থাকত, প্রচারও পেত, কিন্তু শুধু নাম বা প্রচারের জন্য কাজ করতে চাই না। তাতে আমার শিল্পের প্রতি অন্যায় হত। আমি সেই কাজই করব, যেখানে একটা মানে আছে। সেটা সিনেমাপ্রেমীদের জন্য হতে পারে, আবার সাধারণ মানুষকে বিনোদন দেওয়ার জন্যও হতে পারে।’ বাংলা ইন্ডাস্ট্রির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও খোলামেলা মতামত দেন অভিনেত্রী। তাঁর ভাষায়, ‘বাংলা ইন্ডাস্ট্রির পসারটা একটু কমেছে। দর্শকেরাও এখন ভুয়ো বা খারাপ ছবি একেবারেই নিচ্ছে না। তাই আমি চাই না, এমন কোনও ছবির অংশ হতে যা মানুষকে হতাশ করবে।’

কিন্তু, বাংলা ইন্ডাস্ট্রির প্রতিই তাঁর কৃতজ্ঞতা বেশি। ঋতাভরী বলেন, ‘আজ আমি জাতীয় বা আন্তর্জাতিক স্তরে কাজ পাচ্ছি, তার মূল কারণ বাংলা সিনেমা। তাই বাংলা ছবির কাছে আমি সবসময় কৃতজ্ঞ থাকব।’ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাঁর এই স্বীকৃতি নিঃসন্দেহে ভারতীয় এবং বাঙালি দর্শকের কাছে গর্বের বিষয়। অস্কার মঞ্চে ‘পাপা বুকা’ কতটা সাফল্য পায়, সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা। তবে একথা নিশ্চিত, ঋতাভরী চক্রবর্তীর অভিনয় জীবন নতুন মোড় নিতে চলেছে।

ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Mobile Recharge Cost in India | মোবাইল রিচার্জের বাড়তি চাপ: সংকটে মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র পরিবার, জরুরি পদক্ষেপের দাবি

Sasraya News
Author: Sasraya News

Leave a Comment

আরো পড়ুন