রীতা বিশ্বাস পাণ্ডে ★ নতুন দিল্লি : প্রচণ্ড দাবদাহ আর আর্দ্রতাকে উপেক্ষা করেই ভোরের আলো ফুটতেই রাজধানী জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল পরম ভক্তির বহিঃপ্রকাশ। চিত্তরঞ্জন পার্কের ঐতিহ্যবাহী শিব মন্দির প্রাঙ্গণ থেকে সূচনা হওয়া বর্ণাঢ্য রথযাত্রাকে (RathYatra) কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল ভক্তি, সংস্কৃতি এবং সনাতন ঐতিহ্যের অপূর্ব এক মেলবন্ধন।
সকাল থেকেই শিব মন্দির প্রাঙ্গণ রূপ নেয় প্রায় অলৌকিক পুণ্যভূমিতে। শঙ্খধ্বনি, ধূপ-ধূনার সুবাস আর বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণে চারপাশ মুখরিত হয়ে ওঠে।

মহাপ্রভু জগন্নাথ, দেবী সুভদ্রা এবং জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা বলভদ্রকে নিখুঁতভাবে পুষ্পালঙ্কারে ও রাজকীয় সাজে সাজিয়ে তোলা হয়। মন্দির প্রাঙ্গণে নিখুঁত বৈদিক পুজো-পাঠ ও বিশেষ আরতি শেষে বিগ্রহত্রয়কে পরম শ্রদ্ধার সাথে সুবিশাল ও সুসজ্জিত রথে আসন গ্রহণ করানো হয় দুপুর পাঁচটাতে।

এরপর হাজারও পুণ্যার্থীর ব্যাকুল হাত যখন পবিত্র রথের রশিতে টান দেয়, তখন আকাশে-বাতাসে প্রতিধ্বনিত হয় “জয় জগন্নাথ” ধ্বনি, যার মধ্য দিয়ে সূচিত হয় পরিক্রমা।

দুপুরের চড়া রোদ ও গুমোট গরমকে তুচ্ছ করে পুণ্যার্থীদের ঢল নেমেছিল পথে। রথযাত্রার পরিক্রমায় বি ব্লকের নিজস্ব নান্দনিক আয়োজন যেমন পথচারীদের নজর কেড়েছে, তেমনই জি কে-র বৈষ্ণব সমাজের আয়োজিত হৃদয়স্পর্শী ‘হরিদর্শন নৃত্য’ ভক্তদের মুগ্ধ ও ভাবাবিষ্ট করে তোলে। সংকীর্তন, মৃদঙ্গের তালে তালে ভক্তদের সেই উদ্দীপ্ত নৃত্য রথযাত্রার মেজাজকে পৌঁছে দিয়েছিল এক অন্য উচ্চতায়।

বিভিন্ন ব্লকের পথ পরিক্রমা শেষে পরিক্রমাকারী কালীমন্দিরের রথসমূহ পুনরায় এসে সমবেত হয় সি আর পার্কের সেই শিব মন্দির চত্বরেই। মুহূর্তের মধ্যে সমগ্র মন্দির প্রাঙ্গণ রূপ নেয় এক মহাসমুদ্রে। হাজার হাজার পুণ্যার্থীর স্বতঃস্ফূর্ত পদচারণায় ও ভক্তিভাবনার আবেশে মন্দিরের আঙিনায় তৈরি হয় এক অতুলনীয় উৎসবের আমেজ।

উল্লেখ্য, ভক্তি ও সামাজিক সংহতির অপূর্ব দৃষ্টান্ত হিসেবে সি আর পার্ক শিব মন্দিরের এই রথযাত্রা সাংস্কৃতিক ঐক্য ও ঐতিহ্যের অবিস্মরণীয় উদযাপন হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
ছবি : সংগৃহীত



