সাশ্রয় নিউজ স্পোর্টস ডেস্ক : আন্তর্জাতিক ফুটবলের উচ্চমঞ্চে বড় ম্যাচ মানেই উত্তেজনা, তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং আবেগের বিস্ফোরণ। আর্জেন্টিনা বনাম ইংল্যান্ড ম্যাচেও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। প্রথমার্ধে একটি ফাউলকে কেন্দ্র করে মাঠেই মুখোমুখি হয়ে পড়েন দুই প্রজন্মের তারকা লিয়োনেল মেসি (Lionel Messi) এবং জুড বেলিংহ্যাম (Jude Bellingham)। মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি গরম হয়ে ওঠে, যা পরে ফুটবল মহলে আলোচনার কেন্দ্রে জায়গা করে নেয়। ম্যাচ শেষে সেই ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়েছেন বেলিংহ্যাম নিজেই, জানিয়ে দিয়েছেন মাঠের উত্তাপ ব্যক্তিগত সম্পর্কে কোনও প্রভাব ফেলেনি। ঘটনাটি ঘটে ম্যাচের প্রথমার্ধে। একটি বল দখলের লড়াইয়ে মেসি ও বেলিংহ্যাম দু’জনেই একই সঙ্গে ঝাঁপিয়ে পড়েন। সংঘর্ষের পর দু’জনই মাটিতে পড়ে যান। মেসির দাবি ছিল, তাঁকে ফাউল করা হয়েছে। তিনি সঙ্গে সঙ্গে রেফারির কাছে অভিযোগ জানান। ঠিক তখনই বেলিংহ্যাম এগিয়ে এসে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন। দু’জনের মধ্যে তর্কাতর্কি শুরু হয়, যা মুহূর্তে তীব্র রূপ নেয়।
মাঠের মাঝখানে দাঁড়িয়ে একে অপরের দিকে তাকিয়ে কথা বলছিলেন দুই ফুটবলার। তাঁদের শরীরী ভাষা থেকে বোঝা যাচ্ছিল, কেউই নিজের অবস্থান থেকে সরতে রাজি নন। শেষমেশ রেফারি এসে পরিস্থিতি সামাল দেন এবং দুই তারকাকে আলাদা করে দেন। সেই সময় মেসির মুখভঙ্গি অনেকের নজর কেড়েছিল, যেন বেলিংহ্যামের কথায় তিনি বিস্মিত।
মাঠের সেই উত্তপ্ত মুহূর্তে কী কথা হয়েছিল, তা নিয়েও তৈরি হয়েছিল জল্পনা। পরে জানা যায়, মেসি বলেছিলেন, ‘সিদ্ধান্ত আমাদের পক্ষে যাওয়া উচিত ছিল।’ উত্তরে বেলিংহ্যাম বলেন, ‘না, কোনও ফাউল হয়নি।’ এরপর মেসি অভিযোগ করেন, ‘ও আমাকে মাথায় মেরেছে।’ তাতেও নিজের অবস্থান থেকে সরে আসেননি ইংল্যান্ডের তরুণ মিডফিল্ডার। তাঁর বক্তব্য ছিল, ‘কোনও ফাউল হয়নি।’ শেষ পর্যন্ত কথোপকথনের ইতি টানতে মেসি বলেন, ‘আচ্ছা, ঠিক আছে।’ এই সংলাপই পরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে। ম্যাচ শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বেলিংহ্যাম পুরো বিষয়টি ব্যাখ্যা করেন। তাঁর কথায়, ‘আসলে আমরা একটা ফাউল নিয়ে আলোচনা করছিলাম। খারাপ কিছু ছিল না। মাঠে সবাই নিজের দায়িত্ব পালন করছিল। ওই ঘটনার আগেই একটি ফাউল হয়েছিল। তার পর মেসি বলল, “তা হলে আমার ফাউলটা দেওয়া হবে না কেন?” আমি ওকে বললাম, “এই আঘাত সহ্য করার ক্ষমতা তোমার রয়েছে।” ব্যস, এতটুকুই কথাবার্তা হয়েছে।’
এই বক্তব্যের মাধ্যমে বেলিংহ্যাম পরিষ্কার করে দেন, মাঠে উত্তেজনা থাকলেও তা কোনও ব্যক্তিগত বিরোধে পরিণত হয়নি। বরং তিনি মেসির প্রতি নিজের সম্মান প্রকাশ করেছেন খোলাখুলি। তাঁর ভাষায়, ‘মেসির বিরুদ্ধে খেলা সম্মানের। ওর উপর কোনও রাগ নেই। হতে পারে আমরা হেরে গেছি, সেটা কষ্টের। কিন্তু ওর মতো ফুটবলারের বিরুদ্ধে খেলার অভিজ্ঞতা সবসময় বিশেষ।’ ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের পরিস্থিতি বড় ম্যাচে নতুন নয়। যখন দুই দলই জয়ের জন্য মরিয়া থাকে, তখন ছোটখাটো সংঘর্ষ বা তর্কাতর্কি স্বাভাবিক ঘটনা। বিশেষ করে মেসির মতো অভিজ্ঞ তারকা এবং বেলিংহ্যামের মতো তরুণ প্রতিভা একই জায়গায় মুখোমুখি হলে সেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও তীব্র হয়ে ওঠে।
এই ম্যাচে মেসির নেতৃত্বে আর্জেন্টিনা নিজেদের স্বভাবসিদ্ধ ছন্দে খেলছিল। অন্যদিকে, ইংল্যান্ডও সমানতালে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিল। বেলিংহ্যাম মাঝমাঠে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন, যা মেসির সঙ্গে তাঁর সেই মুহূর্তের সংঘর্ষকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে। ঘটনার পর সামাজিক মাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। কেউ কেউ মনে করেছেন, এটি খেলার অংশ, আবার কেউ বলছেন, রেফারির সিদ্ধান্ত আরও নিখুঁত হলে পরিস্থিতি অন্যরকম হতে পারত। তবে অধিকাংশের মত, ম্যাচের উত্তেজনা থেকেই এই ধরনের মুহূর্ত তৈরি হয় এবং তা ফুটবলের সৌন্দর্যেরই অংশ।
মেসি ও বেলিংহ্যামের এই সংলাপ ফুটবলপ্রেমীদের কাছে নতুন আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। একদিকে অভিজ্ঞতার শীর্ষে থাকা বিশ্বতারকা, অন্যদিকে ভবিষ্যতের সম্ভাবনাময় মুখ, এই দুই প্রজন্মের সাক্ষাৎ যেন মাঠে নতুন গল্প লিখে গেল। শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ফলাফল যাই হোক, এই ঘটনাটি প্রমাণ করে যে ফুটবল শুধু গোল বা জয়ের খেলা নয়, এটি আবেগ, সম্মান এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতার মিশ্রণ। মেসি ও বেলিংহ্যামের কথোপকথন সেই চিরচেনা ছবিকেই আবার সামনে এনে দিল।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Argentina comeback, Messi semifinal victory | ৮৪ মিনিটের অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন! ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে আর্জেন্টিনা, মেসির মুখে জয়ের আসল রহস্য



