মেধা পাল, সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ মুম্বাই: ২০০৬ সালে মুক্তি পাওয়া ‘রং দে বসন্তী’ (Rang De Basanti) এখনও ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে এক অনন্য অধ্যায়। আমির খান (Aamir Khan), আর মাধবন (R. Madhavan), কুণাল কপূর (Kunal Kapoor), সিদ্ধার্থ (Siddharth), শর্মান জোশি (Sharman Joshi) এবং সোহা আলি খান (Soha Ali Khan) -এর অসাধারণ অভিনয় ভরসায় তৈরি এই ছবির প্রভাব এখনও সমান প্রাসঙ্গিক। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, মুক্তির আগে ছবির সাফল্যের ব্যাপারে এতটাই অনিশ্চিত ছিলেন কলাকুশলীরা, যে প্রযোজকের অনুরোধে নিজেরাই পারিশ্রমিক ফেরত দিতে বাধ্য হয়েছিলেন।

সোহা আলি খান তাঁর সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে জানান, সেই সময়কার পরিস্থিতি একেবারেই ভিন্ন ছিল। প্রযোজকেরাও নিশ্চিত ছিলেন না ছবিটি দর্শকদের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে কি না। সোহা বলেন, “কেউ ভাবেনি যে ছবিটা এত বড় হিট হবে বা মানুষের মনে এত গভীর ছাপ ফেলবে। এমনকী যখন প্রচার চলছিল, তখনই প্রযোজকের ফোন এল। তিনি সরাসরি বললেন, ‘আপনাদের দেওয়া পারিশ্রমিক থেকে কিছুটা ফেরত দিতে পারবেন কি না? কারণ, ছবির ভবিষ্যৎ নিয়ে আমরা সন্দিহান।’ আমরা সকলে টাকাটা ফিরিয়ে দিয়েছিলাম। তখন আমাদেরও মনে হয়েছিল, কে জানে, হয়তো চলবেই না।”
সেই সময়ের সেই অপ্রত্যাশিত সিদ্ধান্তই আজকে স্মৃতির পাতায় রয়ে গেছে সিনেমার ইতিহাস হয়ে। ‘রং দে বসন্তী’ শুধু বাণিজ্যিক দিক থেকেই সফল হয়নি, সিনেমাটি একটি প্রজন্মকেও অনুপ্রাণিত করেছিল। দেশের যুবসমাজকে নতুনভাবে চিনতে শেখানো এই ছবি পরিণত হয়েছিল আন্দোলনের প্রতীকে। সোহা নিজেই স্বীকার করেছেন, “ছবিটা আমার কর্মজীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল। আমার কাছে এই ছবি চিরকাল সফরের সঙ্গী হয়ে থাকবে।”

প্রায় দুই দশক পরেও ছবিটি নিয়ে আলোচনার ঝড় থামেনি। আজও দর্শকরা বলেন, ‘রং দে বসন্তী’র মতো সিনেমা তৈরি করা কঠিন কাজ। একদিকে গল্পের গভীরতা, অন্যদিকে অসাধারণ অভিনয়, সব মিলিয়ে এটি হয়ে উঠেছিল অনন্য অভিজ্ঞতা। উল্লেখ্য, সোহা আলি খান এখন আবার আলোচনায়। দীর্ঘ সাত বছর বিরতির পর তিনি ফিরেছেন নতুন ছবি ‘ছোরি ২’ (Chhori 2)-এর মাধ্যমে। ওটিটি প্ল্যাটফর্মে মুক্তি পাওয়া এই ছবিতে তাঁকে নতুন আঙ্গিকে দেখেছেন দর্শকরা। ২০১৮ সালে মুক্তি পাওয়া ‘সাহেব বিবি অউর গ্যাংস্টার ৩’ (Saheb Biwi Aur Gangster 3) -এর পর এই প্রথম তিনি বড় পর্দায় ফিরলেন অভিনয়ে। দর্শক-সমালোচক উভয়েই বলছেন, তাঁর এই প্রত্যাবর্তন তাঁর অভিনয়জীবনে নতুন অধ্যায় লিখতে চলেছে।
অন্যদিকে, ‘রং দে বসন্তী’ যে এখনও অমলিন, তা বোঝা যায় সোশ্যাল মিডিয়ার প্রতিক্রিয়া থেকে। ছবি নিয়ে স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে অনেকেই লিখেছেন, এই সিনেমা শুধু বিনোদন দেয়নি, বরং ভেতরে ভেতরে নাড়া দিয়েছিল। যুবসমাজকে প্রতিবাদের ভাষা শিখিয়েছিল, দেশের জন্য দায়িত্ববোধের কথা মনে করিয়ে দিয়েছিল। এখনও যখন ‘মুভি ক্লাসিকস’ বা ‘ভারতীয় সিনেমার সেরা দশ’ তালিকা তৈরি হয়, সেখানে নির্দ্বিধায় জায়গা পায় ‘রং দে বসন্তী’। আর তার অন্যতম অংশীদার সোহা আলি খান নিজেও জানালেন, “আমার জন্য এটা শুধু একটা সিনেমা নয়, এটা আমার ক্যারিয়ারের প্রেরণা।” আজ যখন দর্শকরা সোহাকে নতুন চরিত্রে দেখছেন, তখনই এই স্মৃতিচারণ আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠছে। কারণ, একজন অভিনেত্রীর জীবন যেমন নানা ওঠাপড়ার মধ্য দিয়ে এগোয়, তেমনি কিছু ছবি তাঁর যাত্রাকে বিশেষভাবে চিহ্নিত করে। সোহা আলি খানের জন্য ‘রং দে বসন্তী’ ছিল তেমনই একটি ছবি—যা তাঁর নামকে ইতিহাসের পাতায় চিরস্থায়ী করে দিয়েছে।
ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Egg Freezing | ৩৫-এ ডিম্বাণু সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত, চিকিৎসকের তির্যক মন্তব্যে মুখোমুখি সোহা আলি খান




