Rajasthan woman 17th child, unusual pregnancy India | ৫৫ বছর বয়সে মা ও ঠাকুমা একসঙ্গে! রাজস্থানের মহিলার ১৭তম সন্তানের জন্মে চাঞ্চল্য

SHARE:

Rajasthan woman 17th child, unusual pregnancy India | ৫৫ বছর বয়সে মা ও ঠাকুমা একসঙ্গে! রাজস্থানের মহিলার ১৭তম সন্তানের জন্মে চাঞ্চল্য

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ উদয়পুর : রাজস্থানের উদয়পুর (Udaipur) জেলার ঝাড়োল (Jhadol) ব্লকের লিলাবাস (Lilavas) গ্রামে এক বিরল ঘটনা ঘটেছে। ৫৫ বছর বয়সের এক মহিলা ১৭তম সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। সাধারণত এই বয়সে বেশিরভাগ নারী নাতি-নাতনিদের বড় করার দায়িত্বে থাকেন, সেখানে রেখা (Rekha) নামের ওই মহিলার জীবন কাহিনি চমকে দিয়েছে চিকিৎসক থেকে শুরু করে গোটা গ্রামকে।

এই ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে। হাসপাতাল প্রাঙ্গণে ভিড় জমিয়েছিলেন আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী এমনকী গ্রামের মানুষও। সবাই অবাক হয়ে দেখেছেন, নাতি-নাতনিরা নতুন জন্ম নেওয়া শিশুকে বরণ করছে নিজের কাকিমা বা মাসি হিসেবে। রেখা’র স্বামী কাভারা রাম কালবেলিয়া (Kavara Ram Kalbelia) পেশায় ভাঙরি ব্যবসায়ী। এতদিনে তিনি স্ত্রীকে নিয়ে ১৭ বার সন্তানের জন্মের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। এর মধ্যে ৫টি সন্তান জন্মের পরপরই মারা যায়, চার ছেলে ও এক মেয়ে। বর্তমানে তাঁদের সংসারে ১২ জন সন্তান জীবিত আছে। সাত ছেলে ও পাঁচ মেয়ে। কাভারা রাম বলেন, “আমাদের পরিবারে এখন তিন প্রজন্ম একসঙ্গে থাকে। আমার দুই ছেলে ও তিন মেয়ের বিয়ে হয়ে গিয়েছে। তাঁদের প্রত্যেকেরই দুই বা তিনটি করে সন্তান রয়েছে।” অর্থাৎ, যখন রেখা নবজাতককে সামলাচ্ছেন, তখন একইসঙ্গে তিনি একাধিক নাতি-নাতনির ঠাকুমাও হয়ে উঠেছেন।

রাজস্থানের উদয়পুরের এক মহিলা ৫৫ বছর বয়সে ১৭তম সন্তানের জন্ম দিয়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছেন। চিকিৎসকরা বলছেন, এতে মায়ের জীবন ছিল ঝুঁকির মুখে। পড়ুন বিস্তারিত।A 55-year-old woman from Udaipur, Rajasthan, shocked everyone by giving birth to her 17th child. Doctors reveal the risks and hardships behind the story.
স্বামীর কাভারা রাম-এর সঙ্গে রেখা। ছবি : সংগৃহীত

কিন্তু এই ব্যতিক্রমী ঘটনার আড়ালে লুকিয়ে রয়েছে আর্থিক সঙ্কট। কাভারা রামের আয়ের উৎস ভাঙরি ব্যবসা, যা দিয়ে সংসার চালানোই দুষ্কর হয়ে পড়ে। তিনি জানান, সন্তানদের বিয়ে দিতে গিয়ে উচ্চ সুদে ঋণও নিতে হয়েছে। তাঁর কথায়, “আমাদের পরিবারের কোনও সদস্যই স্কুলের মুখ দেখেনি। দারিদ্র্য আমাদের জীবন থেকে কখনও যায়নি।”

চিকিৎসকরা এই ঘটনা দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। রেখার প্রসব প্রক্রিয়া সামলান স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. রোশন দরাঙ্গি (Dr. Roshan Darangi)। তিনি বলেন, “এটা ছিল তাঁর ১৭তম সন্তান। এখন আমরা তাঁকে নির্বীজনের বিষয়ে পরামর্শ দেব। এই বয়সে একাধিকবার সন্তান জন্ম দেওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।” অন্য চিকিৎসক ডা. মুখেশ গারাসিয়া (Dr. Mukesh Garasiya) জানান, রেখাকে ২৪ আগস্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। কিন্তু কোনও ধরনের সোনোগ্রাফি বা প্রসব-পূর্ব পরীক্ষাই হয়নি। তিনি বলেন, “বারবার সন্তান জন্ম দেওয়ার কারণে জরায়ু দুর্বল হয়ে যায় ও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের আশঙ্কা বেড়ে যায়। এই ঘটনায় মায়ের প্রাণও যেতে পারত। ভাগ্যক্রমে সবকিছু ঠিকঠাক হয়েছে।”

এই ঘটনা শুধু চিকিৎসক মহলকেই নয়, সমাজকেও প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। একদিকে আধুনিক ভারতে যেখানে পরিবার পরিকল্পনা নিয়ে সচেতনতা বাড়ানোর চেষ্টা চলছে, সেখানে এই গ্রামীণ পরিবারে দারিদ্র্য ও অশিক্ষার কারণে আজও পুরোনো ধারা অব্যাহত।সেখানে রেখার গল্প যেন গ্রামীণ ভারতের একটি চিত্র ফুটিয়ে তুলেছে যেখানে অর্থনৈতিক অভাব, অশিক্ষা এবং পরিবার পরিকল্পনা সম্পর্কে সচেতনতার ঘাটতি মিলেমিশে মহিলাদের জীবনে চরম ঝুঁকি তৈরি করছে।বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ধরনের ঘটনা এড়াতে গ্রামীণ স্তরে স্বাস্থ্য শিক্ষা আরও জোরদার করা প্রয়োজন। পরিবার পরিকল্পনা নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবার সহজলভ্যতাও বাড়াতে হবে। না হলে ভবিষ্যতে আরও অনেক নারীকে এমন বিপজ্জনক পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হতে পারে।

ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন : extramarital affair | হোটেলে ধরা পড়লেন স্ত্রী, নগ্ন হয়ে পালালেন প্রেমিক! হাপুরে চাঞ্চল্যকর পরকীয়া কাণ্ডের ভিডিও ভাইরাল

Sasraya News
Author: Sasraya News

Leave a Comment

আরো পড়ুন