সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : বড়দিনের (Christmas) আনন্দের রাতেই খাস কলকাতায় (Kolkata) চাঞ্চল্যকর ঘটনা। একটি পানশালায় প্রেমিকাকে উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদ করায় বেধড়ক মারধরের শিকার হলেন একজন যুবক। শুধু তাই নয়, অভিযোগ অনুযায়ী পাথর দিয়ে আঘাত করে তাঁর মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়। ঘটনাটি ঘটেছে স্বভূমি (Swabhumi) সংলগ্ন এলাকার একটি পানশালার সামনে। আক্রান্ত যুবকের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ইতিমধ্যেই দুই অভিযুক্ত যুবককে গ্রেফতার করেছে ফুলবাগান থানার (Phoolbagan Police Station) পুলিশ। বড়দিনের রাতে শহরের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিল এই ঘটনা।

পুলিশ সূত্রে খবর, আক্রান্ত যুবকের বাড়ি আনন্দপুরের ভিআইপি নগর (VIP Nagar, Anandapur) এলাকায়। তিনি একটি তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থায় (IT Company) কর্মরত। বড়দিনের রাতে প্রেমিকাকে নিয়ে তিনি স্বভূমির কাছে একটি পানশালায় যান। তাঁর সঙ্গে আরও একটি যুগলও ছিলেন। যুবকের প্রেমিকা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের (Jadavpur University) ছাত্রী। অভিযোগ, পানশালায় ঢোকার পর থেকেই কয়েক জন যুবক তরুণীকে লক্ষ্য করে অশালীন মন্তব্য করতে শুরু করে। প্রথমে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হলেও ক্রমাগত কটূক্তি চলতে থাকায় পরিস্থিতি অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে।অভিযোগকারীর দাবি, ‘প্রথমে আমরা বিষয়টি উপেক্ষা করার চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু ওরা ক্রমাগত কটূক্তি করছিল।’ পরিস্থিতি সামাল দিতে এক পর্যায়ে প্রতিবাদ জানানোর সিদ্ধান্ত নেন ওই যুবক। তবে তিনি কিছু বলার আগেই অভিযুক্ত যুবকেরা পানশালা থেকে বেরিয়ে যায়। সেই সময় বড় কোনও অশান্তি হয়নি বলে দাবি।
ঘটনার মোড় ঘোরে গভীর রাতে। তখন প্রায় ভোর। পানশালা থেকে বেরিয়ে আসার সময় আক্রান্ত যুবক ও তাঁর সঙ্গীরা দেখতে পান, অভিযুক্ত যুবকেরা বাইরে গেটের কাছেই দাঁড়িয়ে রয়েছে। অভিযোগ, কোনও কথাবার্তা শুরু হওয়ার আগেই হঠাৎ করেই ওই যুবকের উপর চড়াও হয় অভিযুক্তরা। শুরু হয় মারধর। কিল, ঘুষি তো বটেই, পাথর দিয়ে আঘাত করা হয় বলেও অভিযোগ। মাথায় গুরুতর আঘাত পান ওই যুবক। ঘটনাস্থলেই তিনি রক্তাক্ত হয়ে পড়েন। আক্রান্ত যুবকের অভিযোগ, ‘পাবের বাইরে বাউন্সার উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু মারধর চলাকালীন কেউই আমাদের সাহায্যে এগিয়ে আসেননি।’ এই অভিযোগ ঘিরে পানশালার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। প্রত্যক্ষদর্শী কেউই কার্যকর ভাবে হস্তক্ষেপ করেননি বলেও দাবি করা হয়েছে।
রক্তাক্ত অবস্থায় প্রথমে নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল-এ (Nil Ratan Sircar Medical College and Hospital – NRS)-এ যান ওই যুবক। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা হয়। পরে আরও উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। চিকিৎসার পরেই তিনি ফুলবাগান থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগপত্রে প্রীতম যাদব (Pritam Yadav) ও ববি বাল্মীকি (Bobby Balmiki) নামে দুই যুবকের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত পদক্ষেপ করে পুলিশ দু’জনকেই গ্রেফতার করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য নেওয়া হচ্ছে।
পুলিশ আধিকারিকদের একাংশের বক্তব্য, ‘ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পানশালার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা বাউন্সারদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। প্রয়োজনে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।’ ধৃতদের আদালতে পেশ করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এই ঘটনায় নতুন করে সামনে এসেছে শহরের নাইটলাইফ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার বাস্তব চিত্র। উৎসবের রাতে শহরের বিভিন্ন পানশালা ও পাবগুলিতে ভিড় উপচে পড়ে। সেই সুযোগেই অনেক সময় অসামাজিক আচরণ বাড়ে বলে অভিযোগ। বিশেষ করে নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বারবার। বড়দিনের মতো উৎসবের রাতেও যদি এমন ঘটনা ঘটে, তা হলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়াটাই স্বাভাবিক।
সমাজের একাংশের মতে, শুধু পুলিশি ব্যবস্থা নয়, পানশালাগুলির নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থাকেও আরও সক্রিয় ও দায়িত্বশীল হতে হবে। বাউন্সারদের নীরব দর্শকের ভূমিকা কোনও ভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। একই সঙ্গে, নারীদের উত্ত্যক্ত করার মতো ঘটনার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠছে। প্রসঙ্গত, বড়দিনের রাতের এই ঘটনা শহরের আইনশৃঙ্খলা ও সামাজিক দায়িত্ববোধ নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলে দিল। পুলিশি তদন্তে প্রকৃত ঘটনা কী ভাবে সামনে আসে, এখন সেটাই দেখার।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Chennai Crime, Sexual Assault | চেন্নাইয়ে বাইক ট্যাক্সি চালকের নৃশংসতা: যৌন নির্যাতনের পর বাড়িতে ফেলে পালাল অভিযুক্ত, গ্রেপ্তার শিবকুমার




