সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ লখনউ : উত্তরপ্রদেশের প্রভাবশালী যাদব পরিবারে ভাঙনের ছবি। সমাজবাদী পার্টির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত মুলায়ম সিং যাদব -এর ছোট পুত্র প্রতীক যাদব (Prateek Yadav) প্রকাশ্যে জানালেন, তিনি স্ত্রী অপর্ণা যাদবের (Aparna Yadav) সঙ্গে আর দাম্পত্য সম্পর্কে থাকতে চান না। সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে প্রতীক ঘোষণা করেন, তিনি শীঘ্রই স্ত্রীকে বিবাহবিচ্ছেদ দেবেন। এই পোস্ট ঘিরে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা, তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। সোমবার প্রতীক যাদব তাঁর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে স্ত্রী অপর্ণার সঙ্গে একটি পুরনো ছবি পোস্ট করেন। সেই ছবির সঙ্গে দীর্ঘ মন্তব্যে তিনি অপর্ণাকে ‘স্বার্থপর’ বলে উল্লেখ করেন এবং অভিযোগ তোলেন, অপর্ণা তাঁর পারিবারিক সম্পর্ক নষ্ট করে দিয়েছেন। প্রতীকের এই পোস্ট প্রকাশ্যে আসতেই যাদব পরিবার নিয়ে ফের আলোচনার ঝড় ওঠে। উল্লেখ্য, প্রতীক সমাজবাদী পার্টির সভাপতি তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদবের (Akhilesh Yadav) সৎ ভাই।
সমাজমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে প্রতীক যাদব লেখেন, ‘আমি যত দ্রুত সম্ভব এই স্বার্থপর মহিলাকে বিচ্ছেদ দিতে চলেছি। সে আমার পারিবারিক বন্ধন ধ্বংস করে দিয়েছে। সে খুব বিখ্যাত ও প্রভাবশালী হতে চায়। আমার মানসিক স্বাস্থ্য অত্যন্ত খারাপ অবস্থায় পৌঁছেছে, কিন্তু সে সেগুলো নিয়ে কোনও দিন ভাবেনি। ও-কেবল নিজের স্বার্থ ছাড়া কিছু বোঝে না। ওর সঙ্গে বিয়ে করা আমার জীবনের সবচেয়ে দুর্ভাগ্যজনক সিদ্ধান্ত।’ প্রতীকের এই বক্তব্য মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায়। উল্লেখ্য যে, এই পোস্টের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অপর্ণা যাদবের ভাই। তাঁর দাবি, প্রতীক যাদবের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট ‘হ্যাক’ করা হয়েছে এবং ওই মন্তব্য প্রতীক নিজে লেখেননি। এই পাল্টা দাবিতে জট আরও ঘনিয়েছে। এখনও পর্যন্ত প্রতীক নিজে বা তাঁর ঘনিষ্ঠ মহল থেকে হ্যাক সংক্রান্ত অভিযোগ নিয়ে কোনও বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
প্রসঙ্গত, ২০১১ সালে প্রতীক যাদব ও অপর্ণা যাদবের বিয়ে হয়। সেই সময় যাদব পরিবারে এই বিয়ে নিয়ে যথেষ্ট আগ্রহ ছিল রাজনৈতিক মহলে। তাঁদের দাম্পত্য জীবন থেকে একটি কন্যাসন্তানের জন্ম হয়। প্রথমদিকে অপর্ণাকে সমাজবাদী পার্টির সক্রিয় নেত্রী হিসেবেই দেখা গিয়েছিল। ২০১৭ সালের উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনে অপর্ণা লখনউ ক্যান্টনমেন্ট (Lucknow Cantonment) আসন থেকে সমাজবাদী পার্টির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। যদিও সেই নির্বাচনে তিনি বিজেপির (Bharatiya Janata Party) রীতা বহুগুণা জোশীর (Rita Bahuguna Joshi) কাছে পরাজিত হন। পরবর্তীতে যাদব পরিবারের রাজনৈতিক বিভাজন আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ২০২২ সালে অপর্ণা যাদব সমাজবাদী পার্টি ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন। তাঁর এই সিদ্ধান্ত যাদব পরিবারে বড়সড় আলোড়ন তোলে। বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর অপর্ণা ধীরে ধীরে সংগঠনের মধ্যে নিজের জায়গা পোক্ত করেন। বর্তমানে তিনি উত্তরপ্রদেশ রাজ্য মহিলা কমিশনের (Uttar Pradesh State Women Commission) ভাইস চেয়ারম্যান পদে দায়িত্ব পালন করছেন।
অন্য দিকে, প্রতীক যাদবকে কখনওই সক্রিয় রাজনীতির ময়দানে দেখা যায়নি। রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য হয়েও তিনি নিজেকে রাজনীতি থেকে দূরে রেখেছেন। জানা যায়, প্রতীক মূলত ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত এবং ব্যক্তিগত জীবনকে জনসমক্ষে আনতে আগ্রহী ছিলেন না। সেই প্রতীকই হঠাৎ সমাজমাধ্যমে এমন বিস্ফোরক পোস্ট করায় বিষয়টি ঘিরে কৌতূহল আরও বেড়েছে।রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, অপর্ণার বিজেপিতে যোগদান এবং তাঁর ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক সক্রিয়তা দাম্পত্য সম্পর্কে প্রভাব ফেলেছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। যদিও এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও পক্ষই সরাসরি কিছু বলেনি। সমাজবাদী পার্টি বা বিজেপি, কোনও দলই প্রতীক-অপর্ণা বিচ্ছেদ প্রসঙ্গে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেয়নি।
এদিকে সমাজমাধ্যমে এই ঘটনা নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। কেউ প্রতীকের মানসিক অবস্থার প্রতি সহানুভূতি জানাচ্ছেন, আবার কেউ প্রকাশ্যে এ ধরনের ব্যক্তিগত অভিযোগ তোলাকে সমালোচনা করছেন। রাজনৈতিক পরিবার হওয়ায় ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপড়েনও যে সহজেই জনচর্চার বিষয় হয়ে ওঠে, এই ঘটনা তারই উদাহরণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে, যাদব পরিবারের অন্দরমহলের এই অশান্তি শুধু ব্যক্তিগত সম্পর্কে সীমাবদ্ধ নেই, উত্তরপ্রদেশের রাজনীতিতেও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এখন দেখার, সমাজমাধ্যমের পোস্ট ঘিরে তৈরি হওয়া এই বিতর্ক কোন দিকে মোড় নেয় এবং বিচ্ছেদের ঘোষণা শেষ পর্যন্ত আইনি রূপ পায় কি না।
ছবি : প্রতীকী
আরও পড়ুন : Indian Talent in USA, Elon Musk Immigration Comment | আমেরিকার উন্নয়নে ভারতীয়দের বিশাল অবদান : অভিবাসন নিয়ে ইলন মাস্কের মন্তব্য আলোচনায়




