Postal ballot voters India | বিধানসভা ভোটের আগে বড় ঘোষণা! পোস্টাল ব্যালটে কারা ভোট দিতে পারবেন জানাল নির্বাচন কমিশন

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ★ নতুন দিল্লি : আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা প্রকাশ করল ভারতের নির্বাচন কমিশন। ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার দিনই জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, কোন কোন ভোটার পোস্টাল ব্যালটের (Postal Ballot) মাধ্যমে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন। বিশেষ করে জরুরি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের জন্য এই ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যাতে দায়িত্ব পালনের কারণে ভোটের দিনে বুথে যেতে না পারলেও তারা গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারেন। রবিবার আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনের সময়সূচি ঘোষণা করেছে ইলেকশন কমিশন অফ ইন্ডিয়া। ঘোষণায় জানানো হয়েছে, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে একাধিক রাজ্য এবং একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে। এর মধ্যে রয়েছে West Bengal, Assam, Tamil Nadu, Kerala এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পন্ডিচেরি। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, পোস্টাল ব্যালটের সুবিধা মূলত দেওয়া হয় সেই সমস্ত কর্মীদের, যাঁরা ভোটের দিন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি বা জনপরিষেবার কাজে নিযুক্ত থাকেন। তাঁদের অনেকের পক্ষেই ভোটের দিনে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেওয়া সম্ভব হয় না। তাই তাঁদের কথা বিবেচনা করেই পোস্টাল ব্যালটের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

আরও পড়ুন : West Bengal Voting-politics: পশ্চিমবঙ্গের ভোট-রাজনীতি: এগিয়ে কে-বিজেপি, তৃণমূল, সিপিএম না কংগ্রেস (আজ একুশ-তম কিস্তি)

আরও পড়ুন : মোবাইল রিচার্জের দাম ঊর্ধ্বমুখী: ভারতে বাড়ছে ডিজিটাল খরচের চাপ, বিপাকে মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র পরিবার

কমিশনের নির্দেশিকা অনুযায়ী রেল পরিষেবা এবং মেট্রো রেল পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত কর্মীরা এই সুবিধা পাবেন। এছাড়া রাজ্য দুগ্ধ ইউনিয়ন, সমবায় সংস্থা, স্বাস্থ্য দফতর এবং অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত কর্মীরাও পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিতে পারবেন। জরুরি পরিষেবার মধ্যে থাকা সড়ক পরিবহণ নিগমের কর্মী, অগ্নিনির্বাপক পরিষেবা তথা দমকল বিভাগের কর্মী, পুলিশ এবং ট্রাফিক পুলিশের সদস্যদেরও এই সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও সিভিল ডিফেন্স ও হোমগার্ড, কারা দফতর, আবগারি দফতর এবং ট্রেজ়ারি পরিষেবার কর্মীরাও পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থার আওতায় থাকবেন। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, তথ্য ও জনসংযোগ দফতরের কর্মী, খাদ্য ও গণবণ্টন ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত কর্মী এবং বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীরাও এই সুবিধা ব্যবহার করতে পারবেন।

বিশেষভাবে উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশনের অনুমোদিত সংবাদকর্মীরাও পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন। নির্বাচনের সময় সংবাদ সংগ্রহ ও সম্প্রচারের কাজে ব্যস্ত থাকার কারণে অনেক সময় সাংবাদিকদের পক্ষে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেওয়া কঠিন হয়ে ওঠে। সেই বাস্তবতা মাথায় রেখেই তাঁদের জন্যও এই ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এছাড়া দেশের সেনাবাহিনীর সদস্যরাও পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থার মাধ্যমে ভোট দেওয়ার সুযোগ পান। সামরিক দায়িত্বের কারণে অনেক সময় তাঁরা নিজ নিজ রাজ্যে উপস্থিত থাকতে পারেন না। তাই বিশেষ ব্যবস্থার মাধ্যমে তাঁদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা হয়। নির্বাচন কমিশন নিযুক্ত ভোটকর্মীরাও এই সুবিধা পান। কারণ ভোট পরিচালনার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের অনেকেই নিজের এলাকার বাইরে দায়িত্ব পালন করেন। ফলে তাঁদের জন্য পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ভোটারদের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশও দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। কমিশন জানিয়েছে, কোনও ভোটারের কাছে যদি এপিক বা ভোটার কার্ড না থাকে, তবে বিকল্প নথি দেখিয়েও ভোট দেওয়া সম্ভব। মোট ১২ ধরনের নথিকে বিকল্প পরিচয়পত্র হিসেবে গ্রহণ করা হবে। এই তালিকায় রয়েছে আধার কার্ড, জব কার্ড, ব্যাঙ্ক বা পোস্ট অফিস থেকে জারি করা ছবি-সহ পাসবই এবং শ্রম মন্ত্রকের জারি করা স্বাস্থ্যবিমা স্মার্ট কার্ড। এছাড়া ড্রাইভিং লাইসেন্স, প্যান কার্ড এবং এনপিআর প্রকল্পের আওতায় আরজিআই দ্বারা জারি করা স্মার্ট কার্ডও গ্রহণযোগ্য হবে। এর পাশাপাশি ভারতীয় পাসপোর্ট এবং ছবি-সহ পেনশন সংক্রান্ত নথিও বৈধ পরিচয়পত্র হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। কেন্দ্রীয় বা রাজ্য সরকারের কর্মী, সরকারি সংস্থা বা পাবলিক লিমিটেড কোম্পানির কর্মচারীদের ছবি-সহ পরিচয়পত্রও গ্রহণ করা হবে। সাংসদ, বিধায়ক বা বিধান পরিষদের সদস্যদের দেওয়া সরকারি পরিচয়পত্রও বৈধ হিসেবে গণ্য করা হবে।

বিশেষভাবে সক্ষম নাগরিকদের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কমিশন জানিয়েছে, যাঁদের ‘ইউনিক ডিসঅ্যাবিলিটি আইডি কার্ড’ রয়েছে, তাঁরা সেটিও বিকল্প পরিচয়পত্র হিসেবে ব্যবহার করতে পারবেন। প্রবাসী ভারতীয় ভোটারদের ক্ষেত্রেও বিশেষ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যাঁরা পাসপোর্ট দেখিয়ে ভোটার তালিকায় নাম নথিভুক্ত করেছেন, তাঁদের ভোট দেওয়ার সময় আসল পাসপোর্টই দেখাতে হবে। নির্বাচন কমিশন আরও জানিয়েছে, ভোটার কার্ডে যদি সামান্য বানান ভুল বা ছাপার ত্রুটি থাকে, তবুও সেটি বাতিল করা হবে না। যদি সংশ্লিষ্ট ভোটারের পরিচয় নিশ্চিত করা যায়, তবে সেই কার্ড গ্রহণ করা হবে।

এদিকে ভোটের নির্ঘণ্ট অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গে ভোটগ্রহণ হবে দুই দফায়। প্রথম দফার ভোট হবে ২৩ এপ্রিল এবং দ্বিতীয় দফা অনুষ্ঠিত হবে ২৯ এপ্রিল। প্রথম দফায় ভোটগ্রহণ হবে ১৫২টি আসনে, আর দ্বিতীয় দফায় ভোট হবে ১৪২টি আসনে। অন্যদিকে অসম, কেরল এবং পুদুচেরিতে ভোটগ্রহণ হবে এক দফায়, আগামী ৯ এপ্রিল। তামিলনাড়ুতে ভোট হবে ২৩ এপ্রিল। সব রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের ভোট গণনা হবে একই দিনে, ৪ মে। উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশনের এই ঘোষণার ফলে ভোটারদের মধ্যে নতুন করে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। বিশেষ করে জরুরি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত কর্মীরা পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থার মাধ্যমে ভোট দিতে পারবেন, এই ঘোষণাকে অনেকেই স্বাগত জানিয়েছেন। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সকলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই নির্বাচন কমিশনের মূল লক্ষ্য বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : West Bengal Assembly Election Observer | পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে কড়া নজরদারি! প্রতিটি কেন্দ্রে থাকতে পারেন আলাদা পর্যবেক্ষক, বড় সিদ্ধান্তের পথে নির্বাচন কমিশন

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন