PM Narendra Modi Israel Visit, Netanyahu Hexagon Alliance | মোদীর ইজরায়েল সফরে ‘ষড়ভুজ’ জোটের প্রস্তাব : নেতানিয়াহুর আহ্বানে পশ্চিম এশিয়ায় নতুন সমীকরণ?

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লী : পশ্চিম এশিয়ার ভূরাজনীতিতে নতুন অক্ষ গড়ার ইঙ্গিত দিলেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু (Benjamin Netanyahu)। তাঁর প্রস্তাবিত ‘ষড়ভুজ’ জোটে তিনি ভারতের সক্রিয় অংশগ্রহণ চান। এই আবহেই দু’দিনের সফরে ইজ়রায়েলে পা রাখতে চলেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। মোদীর সফরের আগেই নেতানিয়াহুর এই ঘোষণা পশ্চিম এশিয়া কেন্দ্রিক কূটনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। নেতানিয়াহুর বক্তব্য, পশ্চিম এশিয়া ও সংলগ্ন অঞ্চলে এমন একটি শক্তিশালী সমন্বয় গড়ে তুলতে হবে, যা চরমপন্থী সংগঠনগুলিকে কার্যকর জবাব দিতে সক্ষম। তাঁর ভাষায়, ‘আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে হলে মতাদর্শগত চরমপন্থার বিরুদ্ধে একজোট হওয়া জরুরি।’ এই প্রেক্ষাপটে তিনি ভারতকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ অংশীদার হিসেবে দেখছেন। জোটে ভারতের পাশাপাশি গ্রিস ও সাইপ্রাসকেও অন্তর্ভুক্ত করার কথা জানিয়েছেন তিনি। ভবিষ্যতে আরব, আফ্রিকা ও এশিয়ার আরও কয়েকটি দেশকে যুক্ত করার ইচ্ছাও প্রকাশ করেছেন ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী।

আরও পড়ুন : Flehmen Response | জিরাফের প্রেমপত্র মূত্র! প্রেম নিবেদনের অভূতপূর্ব রীতি প্রকৃতির অজানা ভাষা উন্মোচন করল বিজ্ঞানীরা

রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে, সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ককে কেন্দ্র করে যে ‘ইসলামিক নেটো’ ভাবনার কথা শোনা যাচ্ছে, তার পাল্টা সমীকরণ হিসেবেই কী এই ‘ষড়ভুজ’ জোট? যদিও ভারতের তরফে এই জোট নিয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য এখনও সামনে আসেনি। নতুন দিল্লীর কূটনৈতিক সূত্রের ইঙ্গিত, ভারত তার নিজস্ব কৌশলগত স্বার্থের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর এই সফর তৃতীয় দফায় দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম ইজ়রায়েল সফর। দুই দেশের মধ্যে গত এক দশকে যে ঘনিষ্ঠতা বেড়েছে, তা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বহুবার আলোচিত হয়েছে। প্রতিরক্ষা, কৃষি প্রযুক্তি, জল ব্যবস্থাপনা, সাইবার নিরাপত্তা ও উচ্চ প্রযুক্তি ক্ষেত্রে সহযোগিতা উল্লেখযোগ্য। নেতানিয়াহু বলেছেন, ‘মোদীর সফরের ফলে অর্থনৈতিক, কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও গভীর হবে। উচ্চ প্রযুক্তি ও এআই ক্ষেত্রেও যৌথ উদ্যোগ বাড়বে।’

এই সফরে কৌশলগত সম্পর্ক জোরদার করার পাশাপাশি সন্ত্রাসবিরোধী সমন্বয়, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ইজ়রায়েল দীর্ঘদিন ধরেই উন্নত প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির ক্ষেত্রে অগ্রগণ্য। ভারতের সঙ্গে যৌথ উৎপাদন ও গবেষণা সম্প্রসারণের বিষয়েও আগ্রহ রয়েছে তেল আভিভের। সেই আবহে ‘ষড়ভুজ’ ধারণা কেবল রাজনৈতিক নয়, নিরাপত্তা কাঠামোরও ইঙ্গিত বহন করছে।প্রসঙ্গত, পশ্চিম এশিয়ায় চলমান অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে এই সফরের তাৎপর্য আরও বেড়েছে। গাজা পরিস্থিতি, ইজরায়েল-হামাস সংঘাত এবং বৃহত্তর আঞ্চলিক শান্তি পরিকল্পনা সবই আলোচনার টেবিলে আসতে পারে। আন্তর্জাতিক মহলে এই সংঘাত নিয়ে নানা মতপার্থক্য থাকলেও ভারত ঐতিহাসিকভাবে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে এবং একই সঙ্গে সংলাপের মাধ্যমে সমাধানের পক্ষেও সওয়াল করেছে।

নেতানিয়াহু যে ‘অক্ষ’ গঠনের কথা বলছেন, তার লক্ষ্য মূলত সমন্বিত প্রতিরক্ষা ও তথ্য আদান-প্রদান। তাঁর মতে, সদস্য দেশগুলি নিজেদের অভিজ্ঞতা ও সক্ষমতা ভাগ করে নিলে নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা সহজ হবে। ‘সহযোগিতার মাধ্যমে ভাল ফল মিলবে’ এই আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি। এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে তা পশ্চিম এশিয়ার ভূরাজনীতিতে এক নতুন শক্তি-বিন্যাস তৈরি করতে পারে। তবে পর্যবেক্ষকদের একাংশের ধারণা, ভারত হয়ত জোট রাজনীতির চেয়ে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা ও প্রযুক্তিগত অংশীদারিত্বে বেশি জোর দেবে। প্রতিরক্ষা ক্রয়, যৌথ গবেষণা, কৃষি উদ্ভাবন, জল সংরক্ষণ প্রযুক্তি এবং স্টার্টআপ সহযোগিতা এই ক্ষেত্রগুলিতে ইতিমধ্যেই অগ্রগতি হয়েছে। সফরে একাধিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। অন্যদিকে, বিরোধী দল জাতীয় কংগ্রেস (Indian National Congress) মোদীর এই সফর নিয়ে সমালোচনা করেছে। তাদের বক্তব্য, আন্তর্জাতিক পরিসরে ইজ়রায়েল সরকারকে ঘিরে বিতর্কের সময়ে এই সফর ‘নৈতিক অবস্থান’ নিয়ে প্রশ্ন তোলে। যদিও কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে স্পষ্ট করা হয়েছে, ভারতের কূটনীতি স্বতন্ত্র এবং জাতীয় স্বার্থকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। উল্লেখ্য যে, ভারত-ইজ়রায়েল সম্পর্ক গত কয়েক বছরে ‘বিশেষ সম্পর্ক’-এর তকমা পেয়েছে। কৃষিক্ষেত্রে ইজ়রায়েলি প্রযুক্তির ব্যবহার, জল ব্যবস্থাপনায় উদ্ভাবন, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ক্রয় ও যৌথ উৎপাদন সমস্ত নিয়ে সম্পর্কের গভীরতা বেড়েছে। মোদীর সফর সেই ধারাবাহিকতাকেই আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

‘ষড়ভুজ’ ধারণা বাস্তব রূপ পাবে কি না, তা সময় বলবে। কিন্তু এই প্রস্তাব যে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে, তা পরিষ্কার। ভারত যদি এতে সক্রিয় ভূমিকা নেয়, তবে পশ্চিম এশিয়ার কূটনৈতিক মানচিত্রে নতুন ভারসাম্য তৈরি হতে পারে। আবার যদি নয়াদিল্লি সতর্ক দূরত্ব বজায় রাখে, তবুও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের গভীরতা অটুট থাকবে বলেই ধারণা।প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সফর ঘিরে তাই নজর কেবল জোট-রাজনীতিতে নয়; প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি, বাণিজ্য ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার প্রশ্নেও। পশ্চিম এশিয়ার অস্থির সময়ের মধ্যে এই সফর কতটা কার্যকর ফল বয়ে আনে, সেটাই এখন দেখার।

-ফাইল চিত্র।
আরও পড়ুন : Temple corridor development India, Pilgrimage tourism PRASHAD scheme | মন্দির করিডোর থেকে তীর্থ পুনরুজ্জীবন, ভারতের আধ্যাত্মিক মানচিত্র বদলাতে বড় পদক্ষেপ কেন্দ্রের পর্যটন মন্ত্রকের

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন