সশ্রয় নিউজ ★ কলকাতা: অবশেষে কলকাতা পুরসভায় সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার পদে নিয়োগ নিয়ে তৈরি জট কাটল। ওবিসি (OBC) সংরক্ষণ সংক্রান্ত বিতর্কে থমকে যাওয়া নিয়োগপ্রক্রিয়ায় নতুন করে গতি আনতে নির্দেশ দিল কলকাতা হাই কোর্ট। বিচারপতি কৌশিক চন্দ (Kaushik Chanda) বৃহস্পতিবার জানিয়ে দেন, পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরকে সাত দিনের মধ্যে শূন্যপদের তালিকা পাঠাতে হবে ও সেই অনুযায়ী নতুন বিজ্ঞপ্তি জারি করে পশ্চিমবঙ্গ মিউনিসিপ্যাল সার্ভিস কমিশন (West Bengal Municipal Service Commission) নিয়োগপ্রক্রিয়া শুরু করবে। বিচারপতি চন্দের সাফ মন্তব্য, “ডিভিশন বেঞ্চের রায়কে সামনে রেখে অপ্রয়োজনীয় জটিলতা তৈরি করা হচ্ছে। ২০১০ সালের আগে অন্তর্ভুক্ত ৬৬টি OBC সম্প্রদায়কে নিয়েই এই নিয়োগ হবে, যেখানে আইন অনুযায়ী ৭ শতাংশ সংরক্ষণ থাকবে।” একই সঙ্গে আদালত এও মনে করিয়ে দেয়, ডিভিশন বেঞ্চের রায় অনুযায়ী ২০১০ সালের পরে ওবিসি তালিকায় যুক্ত সম্প্রদায়গুলির সার্টিফিকেট বৈধ নয়, কিন্তু তার মানে এই নয় যে নিয়োগ পুরোপুরি থেমে থাকবে। আসলে, পশ্চিমবঙ্গ মিউনিসিপ্যাল সার্ভিস কমিশন গত মাসে সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার পদে ৭৮টি শূন্যপদের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছিল। যেখানে ‘ওবিসি (এ)’-র জন্য ৮টি এবং ‘ওবিসি (বি)’-র জন্য ৫টি পদ সংরক্ষণের কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু তার আগেই গত বছর ২২ মে কলকাতা হাই কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ রায় দেয় যে ২০১০ সালের পরে জারি হওয়া ওবিসি সার্টিফিকেটগুলি বাতিলযোগ্য। সেই প্রেক্ষিতেই প্রশ্ন ওঠে, ওই রায়ের পরেও কীভাবে সংরক্ষণের উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হল? এই বিজ্ঞপ্তিকেই চ্যালেঞ্জ করে আদালতের দ্বারস্থ হন ক’য়েকজন মামলাকারী। তাঁদের বক্তব্য ছিল, “ওবিসি সংরক্ষণ নিয়ে হাই কোর্টের রায় অগ্রাহ্য করে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। এটি আদালতের অবমাননার সামিল।” বিচারপতি চন্দ-এর এই বিষয়ে কড়া পর্যবেক্ষণ। পুরসভার কমিশনার ও কমিশনের চেয়ারম্যানকে আদালতে হাজিরার নির্দেশ দেন।
বুধবার আদালতে হাজিরা দেন কলকাতা পুরসভার আইনজীবী। তিনি জানান, “ডিভিশন বেঞ্চের রায় ঠিকভাবে বোঝা যায়নি, তাই নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছিল। পরে সেটি তুলে নেওয়া হয়েছে।” আদালত এই ব্যাখ্যা গ্রহণ করে জানায়, “পুরসভার ইচ্ছা থাকলে নিয়োগে আর কোনও বাধা নেই। ২০১০ সালের আগের ওবিসি সম্প্রদায়কে নিয়েই নতুন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে নিয়োগ করতে হবে।” বিচারপতি চন্দ বলেন, “ওবিসি সংরক্ষণ মামলাকে ঢাল বানিয়ে কাজ বন্ধ করে রাখা চলবে না। নিয়ম মেনে যারা যোগ্য, তাদের নিয়োগে বাধা দেওয়া আদালতের উদ্দেশ্য নয়।”
এদিকে, এই রায় নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও জোর চর্চা শুরু হয়েছে। বিরোধীদের একাংশের বক্তব্য, রাজ্য সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে সংরক্ষণ নীতিকে ভুলভাবে প্রয়োগ করে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে। অন্যদিকে, শাসকদলের এক নেতা নাম না করে বলেন, “আইনের দিকটি বুঝে নিতে দেরি হয়েছে, সেটাই স্বীকার করেছে পুরসভা। আদালতের রায় মেনেই নিয়োগ হবে।” উল্লেখ্য যে, পশ্চিমবঙ্গ সরকার সংবিধানিক সংরক্ষণের আওতায় বহু সম্প্রদায়কে ওবিসি তালিকাভুক্ত করেছিল। কিন্তু ২০১০ সালের পর এই তালিকাভুক্তিকরণ নিয়ে বিস্তর বিতর্ক দেখা দেয়। ডিভিশন বেঞ্চ রায় দেয়, রাজ্য সরকারের ওবিসি তালিকা তৈরিতে আইনসঙ্গত পর্যালোচনা হয়নি, ফলে তা বাতিলযোগ্য। এরপরই রাজ্যজুড়ে সমস্ত নিয়োগ এবং শিক্ষাক্ষেত্রে সংরক্ষণ নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়।
এবার হাই কোর্টের নির্দেশে সেই ধোঁয়াশার অনেকটাই অবসান হল। কলকাতা পুরসভা এখন নতুন নিয়োগের জন্য প্রস্তুতি শুরু করবে বলে জানিয়েছে একটি সূত্র। শীঘ্রই পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের অনুমতি নিয়ে শূন্যপদের চূড়ান্ত তালিকা পাঠানো হবে কমিশনে। তারপর নতুন করে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হবে যোগ্য প্রার্থীদের মধ্যে থেকে নির্বাচন করা হবে। এই সিদ্ধান্তে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন বহু চাকরিপ্রার্থী। তাঁদের আশা, “এবার অন্তত বাধাবিঘ্ন ছাড়াই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।”
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : West Bengal Weather report : দক্ষিণবঙ্গে ঝড়-বৃষ্টির তাণ্ডব! লাল সতর্কতায় একাধিক জেলা




