Kalimpong – Sikkim | বৃষ্টির দাপটে বিপর্যস্ত পাহাড়পথ, থমকে গেল কালিম্পং-সিকিম যোগাযোগ

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ★ কালিম্পং : উত্তরবঙ্গ ভাসছে বৃষ্টিতে। বুধবার রাত থেকে শুরু হওয়া লাগাতার ভারী বর্ষণে কালিম্পং (Kalimpong) ও সিকিম (Sikkim) যাওয়ার একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ রুট, ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক (Kalimpong – Sikkim), এখন বিপর্যস্ত অবস্থায়। ধস, বোল্ডার আর ভেঙে পড়া রাস্তায় আটকে পড়েছে শতাধিক গাড়ি, পর্যটকরা পড়েছেন চরম দুর্ভোগে। পাহাড়ি বৃষ্টির প্রভাবে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই জাতীয় সড়কের একাধিক জায়গায় ধস দেখা দেয়। বিশেষ করে লিকুভিড় (Likhuvir) ও মেল্লি-কির্নে (Melli-Kirne) সেকশনে নেমে আসা পাথর ও বোল্ডারে বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে চলাচলের পথ। কালিম্পং পুলিশ সুপার হরি কৃষ্ণ পাই (Hari Krishna Pai) এক নির্দেশিকায় জানান, ‘‘রাস্তার একাধিক জায়গা মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। লিকুভিড়ের কাছে লাগাতার পাথর নেমে আসায় সেই এলাকায় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। ঝুঁকি বিবেচনা করে গাড়ি চালাতে হচ্ছে।’’ প্রশাসনের তরফে ভারী যান চলাচলের উপরে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। তার জেরে পণ্য পরিবহন থেকে শুরু করে পর্যটকদের যাতায়াতে দেখা দিয়েছে তীব্র সমস্যা। সিকিমে পৌঁছনোর বিকল্প রাস্তা থাকলেও তা বেশ দীর্ঘ এবং সময়সাপেক্ষ। ফলে পর্যটকদের অনেকেই আটকে পড়েছেন কালিম্পং বা রাস্তার বিভিন্ন জায়গায়। স্থানীয় প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, ‘‘এই মুহূর্তে মেল্লি ও কির্নে সেকশনে রাস্তায় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। যে কোনও সময় আরও ধস নামার আশঙ্কা রয়েছে। তাই ভারী যান একেবারেই চলাচল করতে দেওয়া হচ্ছে না।’’ পাশাপাশি ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে লিকুভিড় এলাকায়, পরিস্থিতি বুঝে অল্প কিছু হালকা গাড়িকে পার হতে দেওয়া হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে বহু পর্যটককে মাঝপথেই থামতে হয়েছে। দার্জিলিং (Darjeeling) থেকে সিকিম যাওয়ার পথে রাহুল মুখার্জি (Rahul Mukherjee) নামে এক পর্যটক বলেন, ‘‘আমরা ভোরে রওনা হয়েছিলাম। ভেবেছিলাম সকালে গ্যাংটকে পৌঁছে যাব। কিন্তু এখন চার ঘণ্টা ধরে এক জায়গায় দাঁড়িয়ে আছি। না আছে খাবার, না কোনও আশ্রয়।’’ এমন দুরবস্থার সম্মুখীন হয়েছেন বহু পর্যটক, যাঁরা বর্ষাকালে পাহাড়ের সৌন্দর্য উপভোগ করতে এসেছিলেন।

পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলছে পাহাড় থেকে ক্রমাগত নামতে থাকা বোল্ডার। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, বর্ষার সময় এমন ধস প্রায় নিয়মিত ঘটনা হলেও এবারের মতো টানা ধস ও পাথর ঝরে পড়া বহুদিন দেখা যায়নি। এলাকার বাসিন্দা নির্মল ছেত্রী (Nirmal Chettri) বলেন, ‘‘প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত গাড়ির আওয়াজে এলাকা মুখর থাকে। এখন শুধু ধস নামার গর্জন শোনা যাচ্ছে।’’ রাস্তাঘাটের এই বেহাল অবস্থার জন্য ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন পরিবহণ ব্যবসায়ীরাও। গাড়িচালক সংগঠনের সদস্য রঞ্জন দাস (Ranjan Das) জানান, ‘‘রাস্তায় ধস নামবে এটা জানা। কিন্তু সময় মতো রাস্তা পরিষ্কার বা বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হলে এতটা দুর্ভোগ হতো না। আমরা জীবন হাতে নিয়েই যাত্রী পরিবহণ করছি।’’ সিকিম প্রশাসনের তরফেও পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। এক সূত্রের খবর, রংপো (Rangpo) ও গ্যাংটক (Gangtok) রুটে আপাতত পর্যটকদের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সিকিম ট্যুরিজম দফতর পর্যটকদের প্রয়োজন হলে দিকনির্দেশ ও বিকল্প রুটের পরামর্শ দিচ্ছে। এদিকে আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাসে আশঙ্কা আরও বাড়ছে। দার্জিলিং, কালিম্পং ও সিকিমে আগামী ২৪ ঘণ্টায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে পাহাড়ি ধস আরও বাড়তে পারে বলে জানানো হয়েছে। সড়ক মেরামতির কাজ বৃষ্টির কারণে বারবার থমকে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ।

এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ এবং পর্যটকদের নিরাপদে থাকার আর্জি জানিয়েছেন কালিম্পং জেলা প্রশাসক সুরেশ বাঙ্গারা (Suresh Bangara)। তিনি বলেন, ‘‘রাস্তার অবস্থা বুঝে চলুন। প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চললে বিপদ এড়ানো সম্ভব।’’ উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসা পর্যটকদের কাছে এই মুহূর্তে একটাই প্রত্যাশা আবহাওয়ার উন্নতি হোক, ধস থামুক, আর আবার সচল হোক কালিম্পং-সিকিমের হৃদস্পন্দন, ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Britain’s Abortion Act : ভিক্টোরিয়ান আইন ভাঙছে ব্রিটেন, গর্ভপাত অপরাধ নয়, নারীর অধিকারে নয়া অধ্যায়

Sasraya News
Author: Sasraya News

Leave a Comment

আরো পড়ুন