সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : তফসিলি জনজাতি সম্প্রদায়ের গবেষণা শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষায় উৎসাহ দিতে কেন্দ্রীয় সরকারের ‘ন্যাশনাল ফেলোশিপ ফর এসটি স্টুডেন্টস’ বা ‘ন্যাশনাল ফেলোশিপ ফর স্কেডিউলড ট্রাইবস (National Fellowship for Scheduled Tribes বা NFST)’ প্রকল্পে গত পাঁচটি শিক্ষাবর্ষের রাজ্যভিত্তিক তথ্য সামনে এসেছে। ২০২০-২১ থেকে ২০২৪-২৫ পর্যন্ত প্রতিটি বছরেই মোট ৭৫০ জন শিক্ষার্থী এই ফেলোশিপের সুযোগ পেয়েছেন। রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলভিত্তিক এই তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যাচ্ছে, কিছু রাজ্যে ধারাবাহিকভাবে বেশি সংখ্যক গবেষক সুযোগ পাচ্ছেন, আবার কিছু রাজ্যে সেই সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। কেন্দ্রীয় সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ‘ন্যাশনাল ফেলোশিপ ফর স্কেডিউলড ট্রাইবস (National Fellowship for Scheduled Tribes বা NFST)’ মূলত তফসিলি জনজাতি সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থীদের এম.ফিল. ও পিএইচডি স্তরের গবেষণার জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করে। এই প্রকল্পের লক্ষ্য হলো উচ্চশিক্ষায় আদিবাসী সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানো এবং গবেষণার ক্ষেত্রে তাদের অংশগ্রহণকে শক্তিশালী করা। প্রতি বছর নির্দিষ্ট সংখ্যক শিক্ষার্থীকে নির্বাচন করা হয় এবং গবেষণার জন্য মাসিক স্টাইপেন্ডসহ বিভিন্ন একাডেমিক সুবিধা দেওয়া হয়। প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, উত্তর-পূর্ব ভারতের কয়েকটি রাজ্যে এই ফেলোশিপের প্রাপকের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি। বিশেষ করে ‘মিজোরাম (Mizoram)’ রাজ্যে প্রায় প্রতি বছরই উল্লেখযোগ্য সংখ্যক গবেষক এই সুযোগ পেয়েছেন। ২০২১-২২ সালে সেখানে সর্বোচ্চ ১০৪ জন শিক্ষার্থী এই ফেলোশিপ লাভ করেন। একইভাবে ‘নাগাল্যান্ড (Nagaland)’ এবং ‘মেঘালয় (Meghalaya)’ রাজ্যেও ধারাবাহিকভাবে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক গবেষক নির্বাচিত হয়েছেন। ‘নাগাল্যান্ড (Nagaland)’ রাজ্যে ২০২৩-২৪ সালে ৭০ জন এবং ২০২৪-২৫ সালে ৬৬ জন শিক্ষার্থী এই ফেলোশিপের আওতায় এসেছেন।
অন্যদিকে ‘অরুণাচল প্রদেশ (Arunachal Pradesh)’ রাজ্যে গত কয়েক বছরে এই ফেলোশিপের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২০-২১ সালে যেখানে ৪১ জন গবেষক নির্বাচিত হয়েছিলেন, ২০২৩-২৪ সালে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৫৫ এবং ২০২৪-২৫ সালে তা আরও বাড়িয়ে ৫৮ জন হয়েছে। একইভাবে ‘অসম (Assam)’ রাজ্যেও প্রতি বছর প্রায় ৫০ জনের কাছাকাছি শিক্ষার্থী এই ফেলোশিপ পেয়েছেন। দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলির ক্ষেত্রেও কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রবণতা লক্ষ্য করা গিয়েছে। ‘কর্ণাটক (Karnataka)’ রাজ্যে ২০২০-২১ সালে সর্বোচ্চ ৭১ জন শিক্ষার্থী এই ফেলোশিপ পান, যদিও পরবর্তী বছরগুলিতে সংখ্যা কিছুটা কমেছে। ২০২৪-২৫ সালে সেখানে ৩৮ জন গবেষক নির্বাচিত হয়েছেন। ‘তেলেঙ্গানা (Telangana)’ রাজ্যেও প্রথমদিকে সংখ্যা বেশি থাকলেও পরবর্তী সময়ে কিছুটা ওঠানামা দেখা গেছে। ২০২০-২১ সালে সেখানে ৬১ জন শিক্ষার্থী ফেলোশিপ পেয়েছিলেন, কিন্তু ২০২৩-২৪ সালে তা কমে দাঁড়ায় ২৬ জনে। তবে ২০২৪-২৫ সালে আবার সেই সংখ্যা বেড়ে ৩৯ হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে তথ্য বলছে, গত পাঁচ বছরে ফেলোশিপপ্রাপকদের সংখ্যা মাঝারি পর্যায়ের। ‘পশ্চিমবঙ্গ (West Bengal)’ রাজ্যে ২০২০-২১ সালে ১৬ জন শিক্ষার্থী এই ফেলোশিপ পান। পরের বছর অর্থাৎ ২০২১-২২ সালে সেই সংখ্যা বেড়ে হয় ৩২। তবে পরবর্তী বছরগুলিতে কিছুটা ওঠানামা দেখা গিয়েছে। ২০২২-২৩ সালে ২২, ২০২৩-২৪ সালে ১২ এবং ২০২৪-২৫ সালে ১৯ জন শিক্ষার্থী এই সুযোগ পেয়েছেন।
পূর্ব ভারতের আরেক গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য ‘ওডিশাতেও (Odisha)’ একটি বড় পরিবর্তন লক্ষ্য করা গিয়েছে। ২০২০-২১ সালে সেখানে মাত্র ১৫ জন শিক্ষার্থী ফেলোশিপ পেয়েছিলেন, কিন্তু ২০২৩-২৪ সালে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৮২-এ। যদিও ২০২৪-২৫ সালে তা কমে ৪০ হয়েছে। একইভাবে ‘ঝাড়খণ্ড (Jharkhand)’ রাজ্যে প্রতি বছর প্রায় ২০ জনের কাছাকাছি গবেষক এই প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন। উত্তর ভারতের রাজ্যগুলির মধ্যে ‘জম্মু ও কাশ্মীর (Jammu and Kashmir)’ এ ২০২৪-২৫ সালে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা গিয়েছে। ওই বছর সেখানে ৭১ জন শিক্ষার্থী ফেলোশিপ পেয়েছেন, যা আগের কয়েক বছরের তুলনায় অনেক বেশি। অন্যদিকে ‘উত্তর প্রদেশ (Uttar Pradesh)’ রাজ্যে ফেলোশিপপ্রাপকের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম হলেও গত কয়েক বছরে কিছুটা বৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে। কিছু ছোট রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এই ফেলোশিপের সংখ্যা খুবই সীমিত। যেমন ‘আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ (Andaman and Nicobar Islands)’ বা ‘দাদরা ও নগর হাভেলি এবং দমন ও দিউ (Dadra and Nagar Haveli and Daman and Diu)’ -এ অনেক বছরই কোনও শিক্ষার্থী এই ফেলোশিপ পাননি। আবার ‘লাক্ষ্মাদ্বীপ (Lakshadweep)’ -এ কিছু বছরে এক বা দুই জন গবেষক নির্বাচিত হয়েছেন।
ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এই পরিসংখ্যান ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে তফসিলি জনজাতি শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষায় অংশগ্রহণের একটি গুরুত্বপূর্ণ চিত্র তুলে ধরে। ‘ন্যাশনাল ফেলোশিপ ফর স্কেডিউলড ট্রাইবস (National Fellowship for Scheduled Tribes বা NFST)’ প্রকল্পটি শুধু আর্থিক সহায়তাই নয়, এটি আদিবাসী সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থীদের গবেষণা ও আকাডেমিক ক্ষেত্রে এগিয়ে যাওয়ার একটি বড় সুযোগ তৈরি করছে। উচ্চশিক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘এই ফেলোশিপের মাধ্যমে বহু মেধাবী শিক্ষার্থী পিএইচডি ও উচ্চতর গবেষণার সুযোগ পাচ্ছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের জ্ঞানভিত্তিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।’ সার্বিকভাবে দেখা যাচ্ছে, প্রতি বছর নির্দিষ্ট ৭৫০ জন শিক্ষার্থীকে এই ফেলোশিপ দেওয়া হলেও রাজ্যভেদে সুযোগের বণ্টনে বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং গবেষণার সুযোগ বাড়ানো গেলে আরও বেশি তফসিলি জনজাতি শিক্ষার্থী এই ধরনের জাতীয় স্তরের ফেলোশিপের আওতায় আসতে পারবেন।
ছবি : প্রতীকী
আরও পড়ুন : Vidyasagar University PhD Admission 2026 | দর্শনে পিএইচডি করার স্বপ্ন? বিশেষ শর্তে ২৫ বিষয়ে গবেষণার সুযোগ দিচ্ছে বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়




