তনুজা বন্দ্যোপাধ্যায়, সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : ক্যালেন্ডারের পাতা উল্টে আর মাত্র কিছু দিনের অপেক্ষা। বিদায় নিতে চলেছে আরও একটি বছর, সামনে এসে দাঁড়াচ্ছে ২০২৬। ১ জানুয়ারি শুধুমাত্র একটি তারিখ নয়, অনেকের বিশ্বাসে এটি গোটা বছরের গতিপথ নির্ধারণের দিন। নতুন বছর মানেই নতুন স্বপ্ন, নতুন আশা, নতুন সংকল্প। কেউ মন্দিরে পুজো দেন, কেউ মসজিদে দোয়া করেন, কেউ আবার গুরুজনের আশীর্বাদ নিয়ে নতুন বছর শুরু করেন। কিন্তু জ্যোতিষশাস্ত্র (Astrology) ও বাস্তু শাস্ত্র (Vastu Shastra) অনুযায়ী, বছরের প্রথম দিনে কিছু ভুল আচরণ বা সিদ্ধান্ত সারা বছরের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
জ্যোতিষবিদদের মতে, বছরের প্রথম দিনটি এক ধরনের ‘শক্তির দরজা’। ওই দিনে মানুষের কাজকর্ম, মানসিকতা এবং পরিবেশের প্রতিফলন গোটা বছর জুড়ে কাজ করে। তাই ২০২৬ সালকে সৌভাগ্য, শান্তি ও সমৃদ্ধিতে ভরিয়ে তুলতে চাইলে ১ জানুয়ারিতে কিছু বিষয় বিশেষ ভাবে এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের।সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়ে সতর্ক থাকার কথা বলেন বিশেষজ্ঞরা, তা হল আর্থিক লেনদেন। বছরের প্রথম দিন কাউকে টাকা ধার দেওয়া বা কারও কাছ থেকে ধার নেওয়াকে অত্যন্ত অশুভ বলে মনে করা হয়। জ্যোতিষ মতে, ১ জানুয়ারি অর্থ হাতছাড়া হলে সারা বছর অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, দেনা-পাওনার চাপ কিংবা হঠাৎ খরচের বোঝা বাড়তে পারে। অনেক জ্যোতিষাচার্য বলেন, ‘নতুন বছরের প্রথম দিনে লক্ষ্মীকে (Goddess Lakshmi) বিদায় জানালে, তাঁকে ফিরিয়ে আনা সহজ হয় না।’ তাই প্রয়োজনীয় কেনাকাটা, বিল পরিশোধ বা অন্য আর্থিক দায়িত্ব আগেই সেরে নেওয়াই শ্রেয়।
নতুন বছরের প্রথম দিনে পোশাক নির্বাচনও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন জ্যোতিষ ও বাস্তু বিশেষজ্ঞরা। পুরনো, ছেঁড়া কিংবা কালো রঙের পোশাক এই দিনে পরা অশুভ বলে ধরা হয়। বিশেষ করে কালো রঙকে অনেকেই নেতিবাচক শক্তির প্রতীক বলে মনে করেন। এ ছাড়া অন্যের কাছ থেকে ধার করা পোশাক পরাও এদিন এড়িয়ে চলা উচিত। বিশ্বাস অনুযায়ী, এতে ব্যক্তিগত সৌভাগ্যের উপর অন্যের ঋণ বা দুর্ভাগ্যের প্রভাব পড়তে পারে। উজ্জ্বল, পরিষ্কার ও নতুন পোশাক পরলে ইতিবাচক শক্তি বৃদ্ধি পায় বলেই মত বিশেষজ্ঞদের। বাস্তু শাস্ত্র অনুযায়ী, বছরের প্রথম দিন ঘরের পরিবেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ১ জানুয়ারি ঘর অন্ধকার বা অগোছালো রাখা উচিত নয়। বিশেষ করে বাড়ির ঈশান কোণ (North-East Corner) আলোয় ভরিয়ে রাখা জরুরি। বাস্তু মতে, এই কোণ দিয়ে ইতিবাচক শক্তি ঘরে প্রবেশ করে। যদি এই অংশ অন্ধকার থাকে, তবে ঘরে দারিদ্র্য, মানসিক অশান্তি ও বাধা সৃষ্টি হতে পারে। তাই নতুন বছরের প্রথম দিনে ঘর পরিষ্কার রাখা, আলো জ্বালানো এবং বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করা শুভ বলে মনে করা হয়।
অলসতাও নতুন বছরের জন্য একটি বড় বাধা হয়ে উঠতে পারে। কথায় আছে, ‘যেমন শুরু, তেমন শেষ’। জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী, বছরের প্রথম দিন যদি অলসতায় কাটে, দেরি করে ঘুম থেকে ওঠা হয়, তবে সেই প্রবণতা সারা বছর চলতে পারে। তাই ১ জানুয়ারি ভোরে ঘুম থেকে উঠে সূর্যকে (Sun) প্রণাম করা, স্নান সেরে দিন শুরু করা শুভ বলে মনে করা হয়। কর্মচাঞ্চল্য ও ইতিবাচক মানসিকতা বছরের শুরুতেই তৈরি করা গেলে তার প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হয়। নতুন বছরের প্রথম দিনে কলহ বা অশান্তি থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেন জ্যোতিষবিদরা। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঝগড়া, তর্ক-বিতর্ক বা উচ্চস্বরে কথা বলা এদিন অশুভ বলে মনে করা হয়। বিশ্বাস অনুযায়ী, যে বাড়িতে আনন্দ ও শান্তির পরিবেশ থাকে, সেখানেই দেবী লক্ষ্মীর স্থায়ী বাস। বছরের প্রথম দিন যদি মানসিক অশান্তিতে কাটে, তবে সেই নেতিবাচক শক্তি সারা বছর পিছু ছাড়তে চায় না।
অনেক বিশেষজ্ঞ আরও বলেন, ১ জানুয়ারি কাউকে অপমান করা, কাউকে কষ্ট দেওয়া বা খারাপ কথা বলাও উচিত নয়। বরং দিনটি কাটানো উচিত সদ্ভাব, সহানুভূতি ও শুভকামনার মধ্য দিয়ে। এতে নিজের পাশাপাশি আশপাশের মানুষের মনেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। ২০২৬ সালকে সুন্দর, সফল ও শান্তিময় করে তুলতে চাইলে বছরের প্রথম দিনটিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। ছোট ছোট এই বিশ্বাস ও নিয়ম মানা না মানা ব্যক্তিগত বিষয় হলেও, বহু মানুষের অভিজ্ঞতায় এগুলির মানসিক ও সামাজিক প্রভাব অস্বীকার করা যায় না। নতুন বছরকে হাসি, শান্তি ও ইতিবাচকতার সঙ্গে বরণ করলেই হয়তো আগামী দিনগুলো আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠবে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Rajasthan mobile ban, camera phone ban for women | প্রজাতন্ত্র দিবস থেকে ক্যামেরাযুক্ত মোবাইল নিষিদ্ধ! রাজস্থানের গ্রাম পঞ্চায়েতের ফরমান ঘিরে তীব্র বিতর্ক



