সুজয়নীল দাশগুপ্ত ★ সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক, কলকাতা : ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য দারুণ খবর! আইসিসি পুরুষদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ (ICC Men’s T20 World Cup 2026) -এ নিজেদের স্থান নিশ্চিত করেছে নেপাল (Nepal) এবং ওমান (Oman)। বুধবার ওমানেই অনুষ্ঠিত এশিয়া/পূর্ব এশিয়া-প্যাসিফিক বাছাইপর্বের ম্যাচে দু’টি দল অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখিয়ে মূল পর্বে জায়গা করে নেয়। টুর্নামেন্টের লিগ পর্বে শীর্ষ তিনে শেষ করার ফলে তারা বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করেছে, আর তৃতীয় স্থানটি নির্ধারিত হবে আসন্ন ম্যাচগুলির ফলাফলের ওপর নির্ভর করে।
নেপাল ও ওমানের এই সাফল্য শুধু তাদের ক্রিকেট ইতিহাসের মাইলফলক এবং উদীয়মান ক্রিকেট দেশগুলির জন্য এক অনুপ্রেরণার। ওমান টেবিলে প্রথম স্থানে থেকে এগিয়ে আছে, আর নেপাল রয়েছে দ্বিতীয় স্থানে। উভয় দলই এখন পর্যন্ত তাদের তিনটি ম্যাচে অপরাজিত থেকেছে। নেট রান রেটের (Net Run Rate) সামান্য ব্যবধানই দুই দলের মধ্যে পার্থক্য গড়ে দিয়েছে। সুপার সিক্স পর্বে দুই দলই তাদের ধারাবাহিকতা বজায় রাখে। নেপাল সংযুক্ত আরব আমিরাত (UAE) এবং কাতারের বিপক্ষে শেষ বলে জয় তুলে নিয়ে তাদের বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করে। অন্যদিকে, ওমানও সমানভাবে চিত্তাকর্ষক পারফরম্যান্স দেখিয়েছে, কাতার ও ইউএই-এর বিপক্ষে ধারাবাহিক জয়ে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করেছে। ওমানের অধিনায়ক জিশান মাকসুদ (Zeeshan Maqsood) ম্যাচটির পরে বলেন, “এই মুহূর্তটি আমাদের দেশের ক্রিকেটের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। আমরা দীর্ঘদিন ধরে এই পর্যায়ে আসার জন্য লড়াই করেছি, এবং এখন বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ আমাদের সামনে।”

আরও পড়ুন : India vs Australia Women: স্মৃতির ৫০০০ রানের রেকর্ডও থামাতে পারল না হিলির তাণ্ডব
নেপালের দিক থেকেও উদ্দীপনার ঝড়। তাদের অধিনায়ক রোহিত পাওডেল (Rohit Paudel) বলেন, “এটি শুধুমাত্র একটি জয় নয়, এটি আমাদের দেশের ক্রিকেটের নতুন অধ্যায়ের সূচনা। আমরা আমাদের ভক্তদের জন্য খেলেছি ও এখন গর্বের সঙ্গে বলতে পারি, নেপাল বিশ্বকাপে যাচ্ছে।” সুপার সিক্সের লড়াইয়ে প্রতিটি ম্যাচই ছিল টানটান উত্তেজনায় ভরপুর। প্রথম ছয় ম্যাচের মধ্যে পাঁচটি শেষ ওভার পর্যন্ত গড়ায়, যা দলগুলির মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘনিষ্ঠতার প্রমাণ দেয়। নেপাল তাদের ক্যারি-ওভার পয়েন্টে সুবিধা পেয়েছিল এবং তার সদ্ব্যবহার করে শেষ দুই ম্যাচ জিতে নেয়।
সংযুক্ত আরব আমিরাত বর্তমানে তৃতীয় স্থানে রয়েছে এবং তারা এখনও বিশ্বকাপে যোগ দেওয়ার সুযোগ ধরে রেখেছে। সামোয়াকে হারিয়ে তারা নিজেদের অবস্থান মজবুত করেছে। এখন জাপানের (Japan) বিপক্ষে একটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ জিতলেই তারা শেষ টিকিটটি পেতে পারে। অন্যদিকে, জাপানেরও দুটি ম্যাচ বাকি রয়েছে, এবং তারা দুটোতেই জয় পেলে সমীকরণ পাল্টে দিতে পারে। কাতার (Qatar) ও সামোয়া (Samoa) -এর জন্য এখন পরিস্থিতি কঠিন। যদিও গাণিতিকভাবে তাদের সম্ভাবনা এখনও টিকে আছে, কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণের জন্য অন্য ম্যাচগুলির ফলাফল তাদের পক্ষে যেতে হবে এবং নিজেদের ম্যাচে বড় ব্যবধানে জিততে হবে, বিশেষত নেট রান রেটের ব্যবধান মেটাতে হবে।
আইসিসির (ICC) তরফে জানানো হয়েছে, এই বাছাইপর্বের ম্যাচগুলোতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা এতটাই ঘনিষ্ঠ যে প্রতিটি রানের মূল্য অনেক বেশি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের মতে, নেপাল ও ওমানের এই সাফল্য প্রমাণ করে দিচ্ছে যে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ছোট দেশগুলিও এখন বড় মঞ্চে নিজেদের জায়গা করে নিতে সক্ষম। আসন্ন ম্যাচ সূচি অনুযায়ী, ১৬ অক্টোবর স্থানীয় সময় বিকেল ২:৩০-এ সংযুক্ত আরব আমিরাতের মুখোমুখি হবে জাপান, আর সন্ধ্যা ৭টায় খেলবে কাতার বনাম সামোয়া। ১৭ অক্টোবর সকালে ওমান খেলবে জাপানের বিপক্ষে, এবং বিকেল ২:৩০-এ মুখোমুখি হবে সামোয়া ও নেপাল। এই ম্যাচগুলোর ফলেই নির্ধারিত হবে এশিয়া অঞ্চলের শেষ যোগ্য দলটি। বিশ্ব ক্রিকেটে এখন উদীয়মান শক্তি হিসেবে ওমান ও নেপালের নাম উচ্চারিত হচ্ছে। তাদের এই সাফল্য নিঃসন্দেহে প্রমাণ করে দিচ্ছে যে পরিকাঠামো, একাগ্রতা এবং ধারাবাহিক প্রচেষ্টা থাকলে যে কোনও দল বিশ্বমঞ্চে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারে।
ছবি : প্রতীকী ও সংগৃহীত



