সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান সংঘাত পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে দেশবাসীর উদ্দেশে কড়া বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। রবিবার তাঁর জনপ্রিয় রেডিয়ো অনুষ্ঠান ‘মন কি বাত’ (Mann Ki Baat) -এ তিনি বলেন, বর্তমান সময় অত্যন্ত সংকটজনক এবং এই পরিস্থিতিতে ‘স্বার্থপর রাজনীতি’ পরিহার করে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে উপসাগরীয় অঞ্চলের ‘বন্ধু’ দেশগুলির প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেছেন তিনি, যাঁরা এই কঠিন সময়ে ভারতীয় নাগরিকদের পাশে দাঁড়িয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, ‘আমাদের আশপাশের অঞ্চলে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ভয়াবহ যুদ্ধ চলছে। এই পরিস্থিতি নিঃসন্দেহে কঠিন। আমি দেশবাসীকে আহ্বান জানাই, আমরা যেন একজোট হয়ে এই চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করি।’ তাঁর এই মন্তব্যে জাতীয় ঐক্যের উপর জোর দেওয়া হয়েছে, যা বর্তমান আন্তর্জাতিক অস্থিরতার প্রেক্ষিতে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।

বিরোধী রাজনীতির প্রসঙ্গ তুলে তিনি নাম না করেই সমালোচনার সুরে বলেন, ‘যাঁরা এই পরিস্থিতি নিয়ে রাজনীতি করছেন, তাঁদের এখনই থামা উচিত। দেশের ১৪০ কোটি মানুষের স্বার্থ এর সঙ্গে যুক্ত। এখন বিভাজনের নয়, একসঙ্গে এগোনোর সময়।’ তাঁর এই বক্তব্য রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। পাশাপাশি, যুদ্ধ পরিস্থিতি ঘিরে ছড়ানো গুজব নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মোদী। তিনি বলেন, ‘সকলকে সতর্ক থাকতে হবে। গুজবের উপর নির্ভর করবেন না। সরকার যে তথ্য দিচ্ছে, সেটির উপরই ভরসা রাখুন।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘ভুল তথ্য দেশের ক্ষতি ডেকে আনে, তাই যাচাই না করে কোনও খবর বিশ্বাস করা উচিত নয়।’ তাঁর এই আহ্বান ডিজিটাল যুগে তথ্যপ্রবাহের প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
উপসাগরীয় অঞ্চলে (Gulf Region) বসবাসকারী ভারতীয়দের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ওই অঞ্চলের দেশগুলির প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। এক কোটিরও বেশি ভারতীয় সেখানে কাজ করেন, এবং এই কঠিন সময়ে তাঁরা যে সহায়তা পাচ্ছেন, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’ তিনি উল্লেখ করেন, ভারতের সঙ্গে বিভিন্ন দেশের সুসম্পর্কই এই ধরনের পরিস্থিতিতে সহায়ক হয়ে উঠছে। প্রসঙ্গত, পশ্চিম এশিয়া ভারতের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান উৎস। সেই অঞ্চলে সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে পেট্রল ও ডিজ়েলের দামে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। তবে এই পরিস্থিতিতেও ভারত দৃঢ়তার সঙ্গে পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছে বলে জানান মোদী। তাঁর কথায়, ‘গত এক দশকে ভারতের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক শক্তি বেড়েছে। সেই কারণেই আমরা এই চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতে পারছি।’
এই প্রসঙ্গে তিনি করোনা অতিমারির (COVID-19 Pandemic) সময়ের কথা স্মরণ করেন। বলেন, ‘আমরা অতীতেও কঠিন পরিস্থিতির মোকাবিলা করেছি। তখন মনে করা হয়েছিল, বিশ্ব দ্রুত স্বাভাবিক পথে ফিরবে। কিন্তু বাস্তবে নানা সংঘাত ও যুদ্ধ সেই প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করছে।’ তাঁর মতে, বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় ধৈর্য ও ঐক্যই সবচেয়ে বড় শক্তি। উল্লেখ্য, গত এক মাসের বেশি সময় ধরে পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতি জারি রয়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (United States) এবং ইজ়রায়েল (Israel) -এর যৌথ বাহিনী ইরান (Iran) -এর উপর হামলা চালায়। এরপর থেকেই অঞ্চলজুড়ে পাল্টা আক্রমণ ও উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। তেহরান (Tehran) থেকেও মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে আক্রমণের খবর মিলেছে। এই সংঘাতে ইতিমধ্যেই কয়েক জন ভারতীয় নাগরিকের মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে, যা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ভারত সরকার পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে এবং বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক স্তরে যোগাযোগ বজায় রেখেছে। প্রধানমন্ত্রী নিজেও একাধিক রাষ্ট্রনেতার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করেছেন। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) -এর সঙ্গে ফোনে তাঁর আলোচনা হয়েছে। সেখানে যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) -এর নিরাপত্তা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে।
বিশ্ব রাজনীতির এই অস্থির প্রেক্ষাপটে ভারতের অবস্থান এবং কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখার কৌশল বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। একই সঙ্গে দেশের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক সংযম বজায় রাখার আহ্বানও নতুন মাত্রা যোগ করেছে জাতীয় আলোচনায়। বর্তমান পরিস্থিতিতে মোদীর পরিষ্কার বার্তা, দেশের স্বার্থে ঐক্য বজায় রাখা এবং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির মোকাবিলায় দায়িত্বশীল আচরণ করা জরুরি। সামনে কী অপেক্ষা করছে, তা সময়ই বলবে, তবে আপাতত সতর্কতা ও সংহতিই প্রধান ভরসা হয়ে উঠেছে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : PM Narendra Modi : জ্বালানি ও সারের জোগান নিয়ে বড় বার্তা মোদীর




