PM Narendra Modi : জ্বালানি ও সারের জোগান নিয়ে বড় বার্তা মোদীর

SHARE:

পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের মাঝেও দেশে জ্বালানি ও সারের জোগান স্বাভাবিক থাকবে বলে লোকসভায় আশ্বাস দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বিস্তারিত পড়ুন।

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমশ জটিল হয়ে ওঠা সংঘাত পরিস্থিতি ঘিরে যখন আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে, তখন দেশের অভ্যন্তরে জ্বালানি ও সারের সরবরাহ নিয়ে আশঙ্কা দূর করতে সরব হলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (PM Narendra Modi)। লোকসভায় দেওয়া তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দিক, যা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। বক্তৃতার শুরুতেই তিনি পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতিকে ‘উদ্বেগজনক’ বলে উল্লেখ করেন। সেই সঙ্গে তিনি পরিষ্কারভাবে জানান, এই সংঘাত দীর্ঘমেয়াদি রূপ নিতে পারে, তাই আগাম প্রস্তুতি নেওয়াই সরকারের প্রধান লক্ষ্য। সংসদে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, ‘সঙ্কটের সময় আমাদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে। দেশের স্বার্থে ঐক্যই সবচেয়ে জরুরি।’ বিরোধী দলগুলিকেও এই প্রেক্ষাপটে সহযোগিতার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

আরও পড়ুন : PM Narendra Modi tenure record, Indian PM history | ২৪ বছরের রেকর্ড : সরকারপ্রধান হিসেবে দীর্ঘতম সময়ের রেকর্ড গড়লেন নরেন্দ্র মোদী, ছাপালেন চামলিংকে

ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তার প্রসঙ্গে হরমুজ প্রণালীর গুরুত্ব বিশেষভাবে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ করা বা পণ্যবাহী জাহাজে হামলা চালানো কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’ কারণ এই রুট দিয়েই ভারতের বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস আসে। ফলে এই পথে বিঘ্ন ঘটলে সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে দেশের জ্বালানি ব্যবস্থায়। এই আশঙ্কার মাঝেও আশ্বস্ত করেছেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘আমাদের লক্ষ্য একটাই, দেশের কোনও পরিবার যেন পেট্রল, ডিজেল বা গ্যাসের অভাবে সমস্যায় না পড়ে।’ তিনি জানান, সরকার ইতিমধ্যেই একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে যাতে সরবরাহের ধারাবাহিকতা বজায় থাকে। শুধু আমদানির উপর নির্ভর না করে দেশীয় উৎপাদনও বাড়ানো হচ্ছে। অন্যদিকে, এলপিজি উৎপাদন বৃদ্ধির প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমরা দেশের ভিতরেই রান্নার গ্যাসের উৎপাদন বাড়িয়েছি।’ এর ফলে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বাজারে ওঠানামার প্রভাব কিছুটা হলেও কমানো সম্ভব হবে বলে মনে করছে কেন্দ্র।

জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রেও বৈচিত্র্য আনার কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, ‘এক সময় ভারত ২৭টি দেশ থেকে তেল আমদানি করত, এখন সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪১-এ।’ এই পদক্ষেপের ফলে কোনও একটি অঞ্চলে সমস্যা তৈরি হলেও অন্য উৎস থেকে সরবরাহ বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে। দেশে বর্তমানে প্রায় ৫৩ লক্ষ মেট্রিক টন জ্বালানির মজুত রয়েছে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি ভারতমুখী তেল ও গ্যাসবাহী জাহাজগুলির গতিবিধির উপর নজর রাখা হচ্ছে, যাতে কোনও ধরনের বিঘ্ন দ্রুত সামাল দেওয়া যায়। জ্বালানির পাশাপাশি সারের জোগান নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, ‘আমদানি কমলেও দেশে সারের ঘাটতি হবে না।’ আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লেও কৃষকদের সেই চাপ বহন করতে হবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্য, ‘কৃষকেরা আগের দামে সার পাচ্ছেন, সরকার এই ব্যবস্থা বজায় রাখার জন্য কাজ করছে।’ কয়লার ক্ষেত্রেও পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বিদ্যুৎ উৎপাদন বা শিল্পক্ষেত্রে যাতে কোনও ধরনের সমস্যা না হয়, তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

এই সমগ্র পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের দিকেও জোর দিয়েছেন তিনি। যুদ্ধের পরিবর্তে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খোঁজার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘পারস্পরিক আলোচনা এবং কূটনীতিই একমাত্র পথ। যুদ্ধ কখনওই মানবতার উপকারে আসে না।’ সমস্ত পক্ষকে শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথে এগোনোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতা ভারতের মতো আমদানিনির্ভর দেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করলেও, সরকারের এই ধারাবাহিক প্রস্তুতি এবং পরিকল্পনা দেশের সাধারণ মানুষ ও কৃষকদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি এনে দিয়েছে। জ্বালানি, গ্যাস, সার এবং কয়লার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখাই এখন কেন্দ্রের প্রধান লক্ষ্য। বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে ভারতের এই অবস্থান শুধু অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি নয়, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে, সংকটের সময়েও পরিকল্পিত পদক্ষেপই স্থিতিশীলতার চাবিকাঠি।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : LPG crisis India, Narendra Modi gas supply meeting | হরমুজ প্রণালী সঙ্কটে ভারতে রান্নার গ্যাসের চাপ, পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন