Nandigram Bypoll 2026, Suvendu Adhikari | নন্দীগ্রামের শেষ মিছিলে শুভেন্দুর নিশানায় মমতা, ১০ মার্চকে ‘মিথ্যা দিবস’ করার ডাক!

SHARE:

নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের আগে শেষ প্রচারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ শুভেন্দু অধিকারীর। ২০২১ সালের পা ভাঙার ঘটনা নিয়ে ফের প্রশ্ন তুলে ১০ মার্চকে ‘পশ্চিমবঙ্গ মিথ্যা দিবস’ করার কটাক্ষ। রেজিনগরেও শেষ মুহূর্তের প্রচার তুঙ্গে।

 

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : নন্দীগ্রাম (Nandigram) আবারও ভোটের শেষ মুহূর্তের রাজনৈতিক বাকযুদ্ধের কেন্দ্রবিন্দুতে। উপনির্বাচনের আগে রবিবার শেষ প্রচারে নিজের পুরনো বিধানসভা কেন্দ্রে গিয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee) নিশানা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে নন্দীগ্রামে প্রচারে গিয়ে মমতার পায়ে চোট লাগার ঘটনা নিয়ে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিতর্ককে ফের সামনে এনে শুভেন্দুর দাবি, ওই ঘটনার সঙ্গে ‘মিথ্যা প্রচার’-এর অভিযোগ জড়িত। তাঁর কটাক্ষ, ১০ মার্চ দিনটিকে ‘পশ্চিমবঙ্গ মিথ্যা দিবস’ হিসেবে পালন করা যায় কি না, তা ভাবা উচিত। রবিবার নন্দীগ্রামের টেঙ্গুয়ার মোড় থেকে নন্দীগ্রাম হাসপাতাল পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার পদযাত্রা করেন শুভেন্দু। তাঁর সঙ্গে ছিলেন ভাই দিব্যেন্দু অধিকারী (Dibyendu Adhikari), মন্ত্রী অরূপকুমার দাস (Arup Kumar Das) ও বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথ (Hasirani Rath)। ভোটের আগে শেষ দিনের এই কর্মসূচিতে বিজেপির পক্ষে জনসমর্থনের ছবি তুলে ধরার পাশাপাশি তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্বের বিরুদ্ধেও তিনি একাধিক রাজনৈতিক আক্রমণ করেন।

আরও পড়ুন : Shubman Gill 223, Rohit Sharma 101 | শুভমন গিলের ২২৩-এ মুগ্ধ রোহিত, ‘২০০ রান তো রোজ হয় না’, জয়ের কৃতিত্ব সতীর্থকে দিলেন গিল

নন্দীগ্রামের মাটিতে দাঁড়িয়েই শুভেন্দু বলেন, ‘১০ মার্চ পশ্চিমবঙ্গ মিথ্যা দিবস পালন করলে কেমন হয়?’ তাঁর এই মন্তব্যের কেন্দ্রবিন্দু ২০২১ সালের ১০ মার্চ। ওই দিন নন্দীগ্রামে নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আহত হয়েছিলেন। সেই ঘটনার পর তাঁর পায়ে চোট লাগার বিষয়টি নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। সেই পুরনো প্রসঙ্গই উপনির্বাচনের শেষ প্রচারের মঞ্চে ফের তুলে আনলেন শুভেন্দু। শনিবার নবান্নে (Nabanna) সাংবাদিক বৈঠক করে একই বিষয়ে নিজের বক্তব্য জানিয়েছিলেন তিনি। সেখানে ২০২১ সালের ঘটনার চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথি দেখিয়ে শুভেন্দুর দাবি ছিল, মমতার পায়ে ফ্র্যাকচার হয়নি। রবিবার নন্দীগ্রামে সেই বক্তব্যই আরও রাজনৈতিক ভাষায় তুলে ধরেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীর পা ভেঙে দেওয়ার দাবি করে গোটা নন্দীগ্রামকে রাজনৈতিকভাবে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়েছিল।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী যে নথির কথা উল্লেখ করেছেন, সেটি বাঙুর ইনস্টিটিউট অফ নিউরোসায়েন্স (Bangur Institute of Neurosciences) -এর রেডিয়োডায়গনোসিস বিভাগের বলে তাঁর দাবি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, নথিটি ২০২১ সালের ১১ মার্চের। ওই চিকিৎসা-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে ফ্র্যাকচারের চিহ্ন না থাকার কথা উল্লেখ রয়েছে বলেই দাবি করেছেন তিনি। এই নথিকে সামনে রেখেই শুভেন্দু পুরনো ঘটনার পুনরায় তদন্তের কথাও জানিয়েছেন।

রাজ্য সরকারের তরফে বিষয়টি খতিয়ে দেখার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, উপনির্বাচন শেষ হওয়ার পরে এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে। ফলে পাঁচ বছর আগের নন্দীগ্রামের নির্বাচনী ঘটনার একটি অধ্যায় ফের রাজ্য রাজনীতির আলোচনায় উঠে এসেছে। ভোটের শেষ প্রচারের মঞ্চে সেই প্রসঙ্গ ব্যবহার করে বিজেপি নেতৃত্ব যে তৃণমূলকে চাপে রাখতে চাইছে, তা শুভেন্দুর বক্তব্যেই ধরা পড়েছে। নন্দীগ্রামের সঙ্গে শুভেন্দুর রাজনৈতিক পরিচয়ও এই প্রচারকে আলাদা মাত্রা দিয়েছে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্রেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করে জয়ী হয়েছিলেন তিনি। সেই নির্বাচনের সময় নন্দীগ্রাম রাজ্যের অন্যতম আলোচিত বিধানসভা কেন্দ্রে পরিণত হয়েছিল। পাঁচ বছর পর ফের একই কেন্দ্রের রাজনৈতিক স্মৃতি সামনে এনে মমতাকে আক্রমণ করলেন শুভেন্দু।

আরও পড়ুন : India Women’s Hockey Asian Games Gold |এশিয়ান গেমসে ভারতের মহিলা হকিতে সোনা, চিনকে হারিয়ে ইতিহাস দীপিকাদের

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে শুভেন্দু ভবানীপুর (Bhabanipur) এবং নন্দীগ্রাম, দুই কেন্দ্র থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন ও দু’টি আসনেই জয় পান। ভবানীপুরে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরে নন্দীগ্রাম আসনটি ছেড়ে দেওয়ায় সেখানে উপনির্বাচনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আগামী ৬ অক্টোবর সেই কেন্দ্রে ভোট হওয়ার কথা। তাই শেষ প্রচারের দিন নন্দীগ্রামে দাঁড়িয়ে শুভেন্দুর বক্তব্যের রাজনৈতিক গুরুত্বও বেড়েছে।

শুধু মমতাকে আক্রমণ করেই থামেননি শুভেন্দু। বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথের জয় নিয়েও আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, নন্দীগ্রামে ভোটের হার যত বাড়বে, জয়ের ব্যবধানও তত বাড়তে পারে। বিশেষ করে সংখ্যালঘু ভোটের একটি অংশ বিজেপির দিকে আসবে বলেও তিনি দাবি করেছেন। শুভেন্দুর বক্তব্য অনুযায়ী, নন্দীগ্রামে প্রায় ৭২ হাজার সংখ্যালঘু ভোটার রয়েছেন। রবিবারের পদযাত্রায় তাঁদের মধ্য থেকেও এক হাজারের বেশি মানুষ অংশ নিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। এই অংশগ্রহণকে সামনে রেখে বিজেপি নেতৃত্ব সংখ্যালঘু ভোটের সমীকরণেও পরিবর্তনের আশা করছে। যদিও ভোটের ফল প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত এই দাবি কতটা বাস্তবে প্রতিফলিত হবে, তা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর সুযোগ নেই।

নন্দীগ্রামের পাশাপাশি মুর্শিদাবাদের (Murshidabad) রেজিনগর (Rejinagar) বিধানসভা কেন্দ্রেও রবিবার শেষ মুহূর্তের প্রচার ছিল জোরদার। হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir) বিধায়ক পদ ছেড়ে দেওয়ার পরে ওই কেন্দ্রে উপনির্বাচন হচ্ছে। এই আসনে সংখ্যালঘু ভোটের প্রভাব যথেষ্ট বেশি। ফলে শেষবেলার প্রচারে প্রতিটি রাজনৈতিক দলই নিজেদের ভোটব্যাঙ্ক ধরে রাখার পাশাপাশি প্রতিপক্ষের সমীকরণ ভাঙার চেষ্টা করছে। রেজিনগরে সংখ্যালঘু ভোটারের সংখ্যা প্রায় ৬৫ শতাংশের বেশি বলে রাজনৈতিক মহলে হিসাব রয়েছে। গত বিধানসভা নির্বাচনে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির হয়ে জয় পেয়েছিলেন হুমায়ুন কবীর। এবার তিনি নিজের জায়গায় ছেলে গোলাম নবি আজাদ ওরফে রবীনকে (Golam Nabi Azad, Robin) প্রার্থী করেছেন। ফলে প্রার্থী হিসেবে রবীন সামনে থাকলেও নির্বাচনী লড়াইয়ের বড় অংশ জুড়েই হুমায়ুনের রাজনৈতিক প্রভাব এবং ভবিষ্যৎ অবস্থান নিয়ে আলোচনা চলছে।

এই কেন্দ্রে লড়াই অবশ্য একমুখী নয়। কংগ্রেসের (Congress) হয়ে প্রার্থী হয়েছেন আবদুল্লাহিল কাফি (Abdullahil Kafi)। তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরী (Rabiul Alam Chowdhury)। গণতান্ত্রিক তৃণমূলের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সফিউফজ্জামান শেখ (Safiuzzaman Sheikh)। সিপিএমের (CPIM) প্রার্থী মহম্মদ সইদ (Mohammad Said)। ফলে বিরোধী ভোট একাধিক প্রার্থীর মধ্যে ভাগ হওয়ার সম্ভাবনাকে গুরুত্ব দিচ্ছে বিজেপি। বিজেপির অঙ্কটি মূলত ভোটের বিভাজনকে ঘিরে। দলের স্থানীয় নেতৃত্বের ধারণা, বিরোধী শিবিরের ভোট যত বেশি ভাগ হবে, ততই তাদের প্রার্থীর সুবিধা হতে পারে। তবে রেজিনগরের মতো বহুস্তরীয় রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার কেন্দ্রে শেষ পর্যন্ত কোন সমীকরণ কাজ করবে, তার উত্তর মিলবে ভোটের ফল ঘোষণার পরেই।

নন্দীগ্রামের প্রচারে অবশ্য রবিবারের মূল সুর ছিল ২০২১ সালের ঘটনা। দীর্ঘদিন ধরে রাজ্য রাজনীতিতে আলোচিত সেই ঘটনাকে ফের সামনে এনে শুভেন্দু বুঝিয়ে দিয়েছেন, নন্দীগ্রামের ভোটের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত রাজনৈতিক লড়াইয়ের স্মৃতিও এখনও জড়িয়ে রয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তাঁর পুরনো অভিযোগকে নতুন করে সামনে এনে বিজেপির প্রচারের শেষ মুহূর্তে তিনি অতীতের সেই বিতর্ককে নির্বাচনী আলোচনার অংশ করেছেন। ভোটের আগে এমন পুরনো ইস্যু সামনে আসার রাজনৈতিক কারণও রয়েছে। নন্দীগ্রাম শুধু একটি বিধানসভা কেন্দ্র নয়, ২০২১ সালের নির্বাচনে এটি তৃণমূল ও বিজেপির সরাসরি রাজনৈতিক সংঘর্ষের প্রতীক হয়ে উঠেছিল। সেই লড়াইয়ে শুভেন্দুর জয় এবং মমতার পরাজয় রাজ্যের রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছিল। পরবর্তী সময়ে শুভেন্দু বিজেপির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ হয়ে ওঠেন। ফলে তাঁর ছেড়ে যাওয়া আসনে উপনির্বাচনকে ঘিরে ফের রাজনৈতিক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

রবিবারের পদযাত্রায় তাই একদিকে ছিল ভোটের প্রচার, অন্যদিকে ছিল পুরনো রাজনৈতিক সংঘাতের পুনরাবৃত্তি। ১০ মার্চকে ‘মিথ্যা দিবস’ হিসেবে পালনের কটাক্ষ থেকে শুরু করে চিকিৎসা-নথি দেখিয়ে ২০২১ সালের ঘটনার প্রশ্ন তোলা, সবকিছুতেই শুভেন্দুর বক্তব্যের কেন্দ্রে ছিলেন মমতা। একই সঙ্গে সংখ্যালঘু ভোটের একটি অংশ বিজেপির দিকে আসবে বলে দাবি করে তিনি নন্দীগ্রামের নির্বাচনী অঙ্ক নিয়েও নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন। এখন লক্ষ্য ৬ অক্টোবরের ভোটের দিকে। নন্দীগ্রামে বিজেপি প্রার্থীর ভাগ্যে কী ফল আসে, শুভেন্দুর দাবির সঙ্গে ভোটের অঙ্ক কতটা মেলে ও তাঁর ছেড়ে যাওয়া আসনে বিজেপি নিজেদের জায়গা কতটা ধরে রাখতে পারে, তা নিয়েই রাজনৈতিক মহলে আগ্রহ রয়েছে। অন্যদিকে রেজিনগরে একাধিক দলের প্রার্থী থাকায় ভোটের বিভাজন শেষ পর্যন্ত কোন পক্ষকে সুবিধা দেয়, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। শেষ দিনের প্রচার শেষ হলেও নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের রাজনৈতিক লড়াই যে এখন আরও কয়েক দিন রাজ্য রাজনীতির আলোচনায় থাকবে, তা বলাই যায়।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Suvendu Adhikari | Rejinagar By Election : রেজিনগর উপনির্বাচনের প্রচারে শুভেন্দুর নিশানায় হুমায়ুন, ‘বিচারের ভার গণদেবতার’

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন