India Women’s Hockey Asian Games Gold |এশিয়ান গেমসে ভারতের মহিলা হকিতে সোনা, চিনকে হারিয়ে ইতিহাস দীপিকাদের

SHARE:

দীর্ঘ ৪৪ বছরের অপেক্ষার অবসান। এশিয়ান গেমসে (Asian Games) আবারও মহিলা হকিতে সোনার পদক জিতল ভারত। শুক্রবার ফাইনালে চিনকে (China) ১-০ গোলে হারিয়ে ইতিহাস তৈরি করল দীপিকা (Deepika), লালরেমসিয়ামি (Lalremsiami), বিচু দেবীদের (Bichu Devi) ভারতীয় দল। ম্যাচের একমাত্র গোলটি করেন লালরেমসিয়ামি। তাঁর গোলই শেষ পর্যন্ত ভারতের হাতে তুলে দিল এশিয়ান গেমসের সোনা।

সাশ্রয় নিউজ স্পোর্টস ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি ২ নভেম্বর ২০২৬ : দীর্ঘ ৪৪ বছরের অপেক্ষার অবসান। এশিয়ান গেমসে (Asian Games) আবারও মহিলা হকিতে সোনার পদক জিতল ভারত। শুক্রবার ফাইনালে চিনকে (China) ১-০ গোলে হারিয়ে ইতিহাস তৈরি করল দীপিকা (Deepika), লালরেমসিয়ামি (Lalremsiami), বিচু দেবীদের (Bichu Devi) ভারতীয় দল। ম্যাচের একমাত্র গোলটি করেন লালরেমসিয়ামি। তাঁর গোলই শেষ পর্যন্ত ভারতের হাতে তুলে দিল এশিয়ান গেমসের সোনা। একই সঙ্গে এই জয়ের ফলে লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিক্সের (Los Angeles Olympics) টিকিটও নিশ্চিত করল ভারতীয় মহিলা হকি দল। ১৯৮২ সালের এশিয়ান গেমসে প্রথম বার মহিলা হকিতে সোনা জিতেছিল ভারত। তার পর কেটে গিয়েছে চার দশকেরও বেশি সময়। একাধিক বার পদকের কাছাকাছি গিয়েও শেষ হাসি হাসতে পারেনি ভারত। দীর্ঘ অপেক্ষার পর ফের এশিয়ান হকির সর্বোচ্চ মঞ্চে সোনা জিতল দেশের মহিলা দল। চলতি এশিয়ান গেমসে ভারতের সোনার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১৬।

আরও পড়ুন : Lieutenant General Shamsher Singh Virk, Indian Army Deputy Chief | ভারতীয় সেনায় বড় রদবদল, নতুন দায়িত্বে লেফটেন্যান্ট জেনারেল শামশের সিং ভির্ক

শুক্রবার ফাইনাল ঘিরে শুরু থেকেই ছিল বাড়তি উত্তেজনা। ভারতীয় সময় অনুযায়ী দুপুর সাড়ে ৩টেয় ম্যাচ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ে খেলা শুরু করা সম্ভব হয়নি। দুই দলের বাসই যানজটে আটকে পড়ে। ফলে খেলোয়াড়দের স্টেডিয়ামে পৌঁছতে দেরি হয়। প্রায় এক ঘণ্টা পিছিয়ে বিকেল সাড়ে ৪টেয় শুরু হয় ভারত-চিন মহারণ। দীর্ঘ অপেক্ষার পর যখন দুই দল মাঠে নামে, তখন গ্যালারি ও দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে ছিল ফাইনালের চাপ ও উত্তেজনা।ম্যাচ শুরুর আগে ভারতীয় শিবিরে ছিল আরও একটি আবেগঘন মুহূর্ত। দেশের হয়ে ২০০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে মাঠে নামেন লালরেমসিয়ামি। মাইলফলক ম্যাচটিকে স্মরণীয় করে রাখার সুযোগ পেয়েই তা কাজে লাগান তিনি। প্রথম কোয়ার্টারে তাঁর শট থেকেই আসে ম্যাচের একমাত্র গোল। গুরুত্বপূর্ণ ফাইনালে ২০০তম ম্যাচে গোল করে দলের জয়ের অন্যতম মুখ হয়ে ওঠেন মিজোরামের এই হকি তারকা। ফাইনালের শুরু থেকেই চিন আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে খেলতে শুরু করে। গত অলিম্পিক্সে রুপোর পদকজয়ী চিনের মহিলা হকি দল ভারতের রক্ষণভাগের উপর শুরু থেকেই চাপ তৈরি করতে থাকে। বার বার ভারতের ‘ডি’ বক্সে ঢুকে পড়ছিল তারা। আক্রমণের চাপ সামলাতে ব্যস্ত ছিল ভারতীয় রক্ষণ। কিন্তু সেই সময়ই ম্যাচের গতিপথ বদলে দেয় লালরেমসিয়ামির গোল।

চিনের বক্সে বল নিয়ে পৌঁছে যায় ভারত। বৃত্তের ভিতর সুযোগ পেয়ে লালরেমসিয়ামির নেওয়া শট সরাসরি জালে জড়িয়ে যায়। আচমকা ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ভারত। গোলের পর আত্মবিশ্বাস বাড়লেও চিনের আক্রমণের তীব্রতা কমেনি। কয়েক মিনিটের মধ্যেই পেনাল্টি কর্নারের সুযোগ পায় ভারত। কিন্তু সেই সুযোগ থেকে তারা ব্যবধান বাড়াতে পারেনি। দ্বিতীয় কোয়ার্টারে চিন আরও বেশি করে আক্রমণে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ভারতের গোলমুখে একের পর এক আক্রমণ তৈরি হতে থাকে। চাপের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন ভারতীয় রক্ষণভাগের খেলোয়াড়েরা। গোললাইন থেকে গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে দলকে এগিয়ে রাখেন নবনীত কৌর (Navneet Kaur)। চিনের আক্রমণ ঠেকাতে ভারতীয় খেলোয়াড়দের বার বার নিজেদের বক্সে ফিরে আসতে হচ্ছিল।

আরও পড়ুন : Shubman Gill 223 Rohit Sharma century | India ODI series win : শুভমন গিলের ২২৩-এ লেখা হল নতুন রেকর্ড, ৪০৫ রান তাড়া করে গুয়াহাটিতে ভারতের রেকর্ড জয়

এর পর আরও বড় পরীক্ষার মুখে পড়ে ভারত। চিন পেয়ে যায় পেনাল্টি স্ট্রোক। ভারতের বক্সের ভিতরে ফাউলের সিদ্ধান্তের পর গোল করার সুযোগ আসে চিনের সামনে। ম্যাচে সমতা ফেরানোর জন্য এটিই ছিল তাদের বড় সুযোগ। কিন্তু ভারতের গোলকিপার বিচু দেবী দুর্দান্ত দক্ষতায় সেই সুযোগ নষ্ট করে দেন। চিনের ঝাং ইং (Zhang Ying) বাঁ দিকে শট নিলেও মুহূর্তের মধ্যে ঝাঁপিয়ে পড়ে বল আটকে দেন বিচু। তাঁর সেই সেভ ভারতের লিড ধরে রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। তৃতীয় কোয়ার্টারের শুরুতেও চিন পেনাল্টি স্ট্রোকের সুযোগ পেয়ে গিয়েছিল। ভারতের নবনীত কৌরের পায়ে বল লাগার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে রেফারাল নেওয়ার পর আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত বদলে যায়। ফলে ফের স্বস্তি ফিরে আসে ভারতীয় শিবিরে। পেনাল্টি কর্নার থেকেও চিন একাধিক বার গোলের সুযোগ তৈরি করেছিল। কিন্তু ভারতীয় রক্ষণভাগ ও গোলকিপার বিচু দেবী কোনওভাবেই চিনকে সমতা ফেরানোর সুযোগ দেননি। সেই সময় সালিমা টেটে (Salima Tete)-সহ ভারতীয় খেলোয়াড়েরা রক্ষণ সামলাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন।

সময় যত এগোতে থাকে, চিনের আক্রমণের চাপ ততই বাড়তে থাকে। ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় চিন। ভারতীয় দল তখন মূলত রক্ষণ সামলে লিড ধরে রাখার দিকে মন দেয়। আক্রমণে ওঠার সুযোগ কমে যায়। একের পর এক চিনা আক্রমণ সামলাতে নিজেদের বক্সের আশপাশে অবস্থান করতে হয় ভারতীয় খেলোয়াড়দের। শুধু রক্ষণে আটকে থাকলেও ভারতীয় দলের সংগঠিত প্রতিরোধ ভাঙতে পারেনি চিন। ম্যাচের শেষ পর্বে গোলের মরিয়া চেষ্টায় চিন আরও বেশি খেলোয়াড় নিয়ে ভারতের অর্ধে উঠে আসে। শেষ মুহূর্তে তারা গোলকিপারকেও তুলে নেয়। তাঁর পরিবর্তে অতিরিক্ত ফিল্ড খেলোয়াড় নামিয়ে সংখ্যার দিক থেকে আক্রমণে বাড়তি সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করে চিন। কিন্তু ভারতীয় রক্ষণে তাঁরা কোনও ফাঁক তৈরি করতে পারেনি। শেষ বাঁশি বাজার আগের কয়েক মিনিট ছিল ভারতের জন্য কঠিন পরীক্ষা। একের পর এক আক্রমণ, পেনাল্টি কর্নারের সম্ভাবনা ও গোলমুখে চাপ এসবকিছুর মধ্যেও লিড ধরে রাখে ভারত। অবশেষে হুটার বাজার সঙ্গে সঙ্গে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে ভারতীয় শিবির। মাঠেই একে অপরকে জড়িয়ে ধরে আনন্দে মাতেন খেলোয়াড়েরা।

ভারতের কোচ শোয়ার্ড মারিন (Sjoerd Marijne)-সহ সাপোর্ট স্টাফরাও নিজেদের আবেগ ধরে রাখতে পারেননি। হুটার বাজার পরেই কোচকে সাপোর্ট স্টাফদের সঙ্গে আনন্দে লাফাতে দেখা যায়। পরে মাঠে গিয়ে খেলোয়াড়দের সঙ্গে যোগ দেন তিনি। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর পাওয়া এই সোনা ভারতীয় মহিলা হকির ইতিহাসে নতুন অধ্যায় তৈরি করল। লালরেমসিয়ামির ২০০তম ম্যাচের গোল, বিচু দেবীর পেনাল্টি স্ট্রোক রক্ষা, নবনীত কৌরের গোললাইন সেভ আর সালিমা টেটেদের জমাট রক্ষণ ফাইনালে ভারতের জয়ের পিছনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত ছিল। আক্রমণে খুব বেশি সুযোগ তৈরি করতে না পারলেও পাওয়া সুযোগের সদ্ব্যবহার করেছে ভারত। অন্য দিকে, একাধিক সুযোগ পেয়েও গোল করতে পারেনি চিন। আবার ১৯৮২ সালের পর আবার এশিয়ান গেমসে মহিলা হকিতে সোনা জিতল ভারত। দীর্ঘ ৪৪ বছরের অপেক্ষার পর পাওয়া এই সাফল্য দেশের মহিলা হকির ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হয়ে থাকল। শুধু সোনার পদকই না, এই জয়ের ফলে লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিক্সে ভারতের মহিলা হকি দলের অংশগ্রহণের পথও নিশ্চিত হল। ফলে এশিয়ান গেমসের সাফল্যের পর ভারতীয় মহিলা হকির সামনে এখন নতুন লক্ষ্য অলিম্পিক্সের মঞ্চ। উল্লেখ্য যে, লালরেমসিয়ামির গোল থেকে শুরু করে বিচু দেবীর দুর্দান্ত গোলরক্ষা, পুরো ফাইনালেই ভারতকে লড়তে হয়েছে প্রবল চাপের মধ্যে। সেই চাপ সামলে শেষ পর্যন্ত ১-০ ব্যবধান ধরে রাখাই হয়ে উঠল সাফল্যের চাবিকাঠি। ৪৪ বছর পর এশিয়ান গেমসে মহিলা হকিতে সোনা জিতে ভারতীয় দল দেখিয়ে দিল, দীর্ঘ অপেক্ষার পরও সাফল্যের মুহূর্ত ফিরতে পারে। আর সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তের কেন্দ্রে থাকলেন ২০০তম ম্যাচে গোল করা লালরেমসিয়ামি ও তাঁর সতীর্থরা।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Virat Kohli Shubman Gill conversation, India vs West Indies ODI | বিরাট-শুভমনের ১৫১ রানের জুটি: একসঙ্গে ব্যাট করার সময় কী কথা হয়?

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন