সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নাগপুর: শিক্ষিকার ছদ্মবেশে ভয়ঙ্কর প্রতারণার জাল! আট জন স্বামীকে একের পর এক বিয়ে করে তাঁদের থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা আদায় করে যিনি পার করেছিলেন দীর্ঘ ১৫ বছরের প্রতারণা, সেই সমীরা ফতিমা (Sameera Fatima) শেষমেশ পুলিশের জালে। নবম বিয়ের তোড়জোড় চলাকালীনই গ্রেফতার হন ‘লুটেরি দুলহন’।

পেশায় স্কুলশিক্ষিকা ফতিমা। তবে বিয়ে ছিল তাঁর প্রধান ‘আয়ের উৎস’। পুলিশের দাবি, ফেসবুক ও ঘটকালি অ্যাপের মাধ্যমে পাত্রের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করতেন ফতিমা। তাঁদের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলার পর বিয়ে করতেন। বিয়ের পর কৌশলে আর্থিক প্রতারণা করতেন স্বামীদের সঙ্গে। কেউ তাঁর সন্তানসম্ভব হওয়ার অভিযোগে, কেউ বা ভয়ভীতি প্রদর্শনের শিকার হয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা দিতে বাধ্য হয়েছেন। অবশেষে নবম বিয়ের আগে পুলিশ হস্তক্ষেপে ভেস্তে যায় সেই পরিকল্পনা।

নাগপুর পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ফতিমা উচ্চশিক্ষিতা ও একটি বেসরকারি স্কুলের শিক্ষিকা। গত ১৫ বছরে তিনি পরপর আটটি বিয়ে করেছেন। এবং প্রতিটি ক্ষেত্রেই ঘটেছে ভয়ঙ্কর প্রতারণা। প্রথমদিকে কেউই লোকলজ্জার ভয়ে পুলিশের কাছে মুখ খোলেননি। কিন্তু সম্প্রতি দু’জন ভুক্তভোগী সাহস করে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁদের একজন জানান, ‘‘আমাকে বিয়ে করে ফতিমা স্বেচ্ছায় ছেড়ে চলে যান। এরপর বিভিন্ন ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস করার ভয় দেখিয়ে আমার থেকে ৫০ লক্ষ টাকা আদায় করেন।’’ অন্য ভুক্তভোগী জানান, ‘‘আমার কাছ থেকে প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা বিভিন্ন সময়ে চেয়ে নিয়েছেন ফতিমা। আমি ভাবতাম, তিনি কষ্টে আছেন, সন্তান মানুষ করছেন। কিন্তু এখন বুঝেছি, আমিও ওই প্রতারণার শিকার।’’
পুলিশ সূত্রে খবর, ফতিমার মূল লক্ষ্য ছিলেন সফল ও আর্থিকভাবে সচ্ছল মুসলিম যুবকরা। তিনি এক ব্যবসায়ী, একাধিক সরকারি আধিকারিক, এমনকী রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার (Reserve Bank of India) এক কর্মীকে পর্যন্ত বিয়ে করেছেন। প্রত্যেকের কাছ থেকেই তিনি কৌশলে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করেছেন। এক তদন্তকারী আধিকারিক জানান, “ফেসবুক, ঘটকালি সাইট এবং হোয়াটসঅ্যাপ ছিল তাঁর প্রধান অস্ত্র। প্রথমে সম্পর্ক গড়ে তোলা, তারপর প্রেমের জাল ছড়িয়ে বিয়ে, তারপর শুরু হত মূল খেলা।”

বিয়ের পর একের পর এক মিথ্যে গল্প শোনাতেন ফতিমা। কারও কাছে দাবি করতেন, তিনি সন্তানসম্ভবা এবং সেই সন্তানের পিতা হলেন তাঁর স্বামী। আবার কখনও দাবি করতেন, তিনি ডিভোর্সি ও এক সন্তানের মা। সন্তানের মানুষ করার জন্য প্রয়োজন অর্থসাহায্যের। এই গল্পে বিভ্রান্ত হয়েই বহু মানুষ তাঁকে টাকা দিয়েছেন। তদন্তকারীরা আরও জানিয়েছেন, প্রতিটি বিয়ের পরই ফতিমা কোনও না কোনও অজুহাতে বাড়ি ছেড়ে চলে যেতেন। এরপর শুরু হত ব্ল্যাকমেলিং। কিছুর ভিডিও, মেসেজ বা পারিবারিক সম্মান নষ্টের ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়ের চেষ্টা চলত। একাধিকবার তিনি মোটা অঙ্কের খোরপোশও দাবি করেছেন। কিন্তু, নবম বিয়ের আগে নাগপুর পুলিশ গোপন সূত্রে খবর পেয়ে ফাঁদ পাতে। গত ২৯ জুলাই (29 July), ফতিমাকে নাগপুর (Nagpur) শহর থেকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ সূত্রে প্রাথমিকভাবে জানা যায়, তাঁর একটি সংগঠিত দল রয়েছে যারা পাত্র বাছাই থেকে শুরু করে প্রতারণার পরিকল্পনা সাজাত।
এই ঘটনার পর নাগপুর জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে চাঞ্চল্য। পুলিশ জানিয়েছে, আরও একাধিক ভুক্তভোগীর খোঁজ পাওয়া যেতে পারে ও এই চক্রে যুক্ত অন্য সদস্যদের খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে। নাগরিকদের উদ্দেশে পুলিশের পরামর্শ, বিয়ের ক্ষেত্রে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে সম্পর্ক গড়ার সময় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন : extramarital affair | হোটেলে ধরা পড়লেন স্ত্রী, নগ্ন হয়ে পালালেন প্রেমিক! হাপুরে চাঞ্চল্যকর পরকীয়া কাণ্ডের ভিডিও ভাইরাল



