সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ শান্তিপুর : নদীয়া (Nadia) জেলার শান্তিপুরে (Shantipur) ফের চাঞ্চল্যকর চুরির ঘটনা। বুধবার রাত পর্যন্ত সবকিছু ছিল স্বাভাবিক। নিয়মমাফিক শিবমন্দিরে পুজো শেষ করে মন্দিরের দরজায় তালা ঝুলিয়ে বাড়ি ফিরে যান পুরোহিত। কিন্তু বৃহস্পতিবার ভোরে মন্দিরের দরজা খুলতেই সামনে আসে ভয়াবহ ছবি। মহাদেবের (Lord Shiva) গা থেকে উধাও সমস্ত অলঙ্কার। চোখের সামনে শূন্য শিবলিঙ্গ দেখে স্তম্ভিত হয়ে পড়েন পুরোহিত থেকে শুরু করে স্থানীয় বাসিন্দা ও ভক্তেরা। কয়েক দিনের ব্যবধানে নদীয়ায় একের পর এক মন্দির, বাড়ি ও দোকানে চুরির ঘটনার মাঝেই এবার শিবমন্দিরকে নিশানা করায় এলাকায় আতঙ্ক আরও বেড়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছে শান্তিপুর পৌরসভার (Shantipur Municipality) সদস্য কৌশিক প্রামাণিকের (Kaushik Pramanik) বাড়ির সংলগ্ন একটি শিবমন্দিরে। এই মন্দিরটি দীর্ঘদিন ধরেই এলাকার মানুষের কাছে অত্যন্ত পবিত্র ও গুরুত্বপূর্ণ বলে পরিচিত। প্রতিদিন ভোর থেকে রাত পর্যন্ত বহু ভক্ত এখানে পুজো দিতে আসেন। বুধবার রাতেও নিয়মমাফিক পুজো-আচ্চা হয়। তখনও শিবলিঙ্গের গায়ে ঝলমল করছিল সোনা ও রুপোর একাধিক অলঙ্কার।
কিন্তু গভীর রাতে দুষ্কৃতীরা মন্দিরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেঙে ভিতরে ঢোকে বলে প্রাথমিক অনুমান পুলিশের। শিবলিঙ্গের গায়ে থাকা একাধিক সোনার হার, রুপোর গয়না এবং শিবলিঙ্গের সঙ্গে থাকা একটি বড় রুপোর সাপ খুলে নিয়ে যায় তারা। শুধু তাই নয়, মন্দিরের ভিতরে রাখা দানবাক্সও ভাঙা হয়েছে বলে অভিযোগ। বৃহস্পতিবার সকালে এই দৃশ্য চোখে পড়তেই দ্রুত খবর ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়।মন্দির সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা ও পৌরসভার সদস্য কৌশিক প্রামাণিক বলেন, ‘গত প্রায় ছয় বছর ধরে মন্দিরের দানবাক্স খোলা হয়নি। ফলে দানবাক্সে লক্ষাধিক টাকা জমা ছিল বলে আমরা অনুমান করছি। তার পাশাপাশি মন্দিরে যে পরিমাণ সোনার গহনা সংরক্ষিত ছিল, তার মূল্যও কম নয়। দুষ্কৃতীরা পরিকল্পিতভাবেই সব কিছু নিয়ে পালিয়েছে।’ তাঁর কথায়, এই চুরি শুধু আর্থিক ক্ষতির নয়, ভক্তদের ধর্মীয় অনুভূতিতে গভীর আঘাত।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে শান্তিপুর থানায় (Shantipur Police Station) লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় শান্তিপুর থানার পুলিশ। মন্দির এলাকা ঘিরে তদন্ত শুরু হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মন্দির ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গভীর রাতে কোনও সন্দেহজনক ব্যক্তির যাতায়াত বা যানবাহনের গতিবিধি ধরা পড়েছে কি না, তা খুঁটিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। প্রসঙ্গত, এর আগেও শান্তিপুরের জনবহুল এলাকায় সিদ্ধেশ্বরী মন্দির (Siddheshwari Temple) থেকে গহনা চুরির ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিল। সেই ঘটনার তদন্ত এখনও পুরোপুরি শেষ হয়নি। তার মধ্যেই ফের একটি শিবমন্দিরে চুরির ঘটনা সামনে আসায় পুলিশের ভূমিকা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ‘একটার পর একটা চুরির ঘটনা ঘটছে, কিন্তু দুষ্কৃতীদের ধরা যাচ্ছে না। ফলে চোরের দল আরও সাহস পাচ্ছে।’
অন্যদিকে, ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে মন্দির চত্বরে ভিড় জমতে থাকে। বহু ভক্ত মহাদেবের শূন্য দেহরূপ দেখে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। কারও চোখে জল, কারও মুখে ক্ষোভ। এক প্রবীণ ভক্ত বলেন, ‘আমরা তো ভাবতেই পারিনি, শিবঠাকুরকেও এভাবে লুট করা হবে। এটা শুধু চুরি নয়, আমাদের বিশ্বাসে আঘাত।’ অনেকেই অবিলম্বে মন্দিরে অতিরিক্ত নিরাপত্তা, স্থায়ী পাহারা ও আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থার দাবি তুলেছেন। পুলিশ অবশ্য আশ্বাস দিয়েছে, দ্রুত দুষ্কৃতীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হবে। তদন্তকারীদের একাংশের অনুমান, এটি কোনও সাধারণ চুরি নয়। আগে থেকে রেইকি করে, মন্দিরে কী কী মূল্যবান সামগ্রী রয়েছে, সে সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা নিয়েই দুষ্কৃতীরা এই কাণ্ড ঘটিয়েছে। ফলে এর সঙ্গে কোনও সংগঠিত চক্র জড়িত থাকতে পারে বলেও সন্দেহ করা হচ্ছে।
এই ঘটনার জেরে ফের একবার নদীয়ার নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও পুলিশের টহল নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ধর্মীয় স্থানগুলির নিরাপত্তা কতটা জোরদার, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। স্থানীয় প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, মন্দির কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে ভবিষ্যতে নিরাপত্তা আরও কড়া করা হবে। স্থানীয় মানুষজনের মতে, রাতের অন্ধকারে শিবমন্দিরে ঘটে যাওয়া এই দুঃসাহসিক চুরি নদীয়ার মানুষকে নতুন করে আতঙ্কিত করেছে। ভক্তদের একটাই দাবি, ‘দোষীরা যেন দ্রুত ধরা পড়ে এবং মহাদেবের অলঙ্কার আবার তাঁর স্থানেই ফিরে আসে।’
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Narendra Modi Sheikh Mohammed bin Zayed meeting | ভারত-আমিরশাহি বন্ধুত্বে নতুন গতি, দিল্লি বিমানবন্দরে UAE প্রেসিডেন্টকে উষ্ণ স্বাগত জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী




