তনুজা বন্দ্যোপাধ্যায় ★ সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক : বর্ষা এলেই বাঙালির মনে জাগে একটাই প্রশ্ন, ইলিশ কবে আসবে বাজারে? কবে পাত ঘিরে বসবে ইলিশ ভাজা, সরষে ইলিশ বা ভাপা ইলিশ? দক্ষিণবঙ্গ থেকে বাংলাদেশ, যেখানেই হোক, বাঙালির খাদ্য তালিকায় ইলিশ (Hilsa) মানে এক অন্য আবেগ। তবে এই ইলিশ যে সারা বিশ্বের মাছপ্রেমীদের মন জয় করেছে, এমনটা কিন্তু একেবারেই নয়। জাতিপুঞ্জের (United Nations) সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে, ইলিশ মাছ বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় মাছের তালিকায় অনেক নিচে রয়েছে। জাতিপুঞ্জের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (FAO – Food and Agriculture Organization) তথ্য অনুযায়ী, গোটা পৃথিবীতে যেসব মাছ সবচেয়ে বেশি খাওয়া হয়, তাদের মধ্যে এক নম্বরে রয়েছে টুনা (Tuna)। প্রায় ৮৫ শতাংশ মাছপ্রেমীই পাতে রাখেন টুনা। দুই নম্বরে রয়েছে স্যামন (Salmon)। তিন নম্বরে আছে আলাস্কা পোলক (Alaska Pollock)। চারে ও পাঁচে রয়েছে যথাক্রমে কড (Cod) ও সার্ডিন (Sardine)। এছাড়াও সিবাস (Seabass), হ্যালিবাট (Halibut), ক্যাটফিশ (Catfish)-এর মতো মাছগুলোও আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যাপক চাহিদাসম্পন্ন।

কিন্তু ইলিশ? বাঙালির অমৃততুল্য এই মাছের অবস্থান ওই তালিকায় কোথায় জানলে অনেকেই মন খারাপ করে ফেলবেন। কারণ ইলিশ রয়েছে অনেক নিচে। আন্তর্জাতিকভাবে ইলিশের গ্রহণযোগ্যতা খুবই সীমিত। শুধু ভারত, বাংলাদেশ, মায়ানমার, শ্রীলঙ্কা ও কিছু অংশে থাইল্যান্ডে এই মাছের কদর দেখা যায়। পশ্চিমা দেশে বা ইউরোপ-আমেরিকায় মানুষ সাধারণত কাঁটাযুক্ত মাছ খেতে অভ্যস্ত নন। তাদের পছন্দের শীর্ষে থাকে ফিলে-করা, হাড়-কাঁটা মুক্ত মাছ। এই কারণেই ইলিশের জায়গা হয়নি শীর্ষের তালিকায়।বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘ইলিশের স্বাদ নিঃসন্দেহে অসাধারণ। কিন্তু এর কাঁটার জটিলতা একে আন্তর্জাতিক বাজারে বড় প্রতিবন্ধকতায় ফেলে দেয়।’ একজন মৎস্য গবেষক জানান, ‘ইউরোপ বা আমেরিকায় মাছ খাওয়ার চল থাকলেও তারা চায় সহজে খাওয়া যায় এমন মাছ। ইলিশের স্বাদ তাদের কাছে অজানা থেকে যায়, কারণ তারা এর কাঁটার ধাক্কায় আগেই পিছিয়ে যান।’

কিন্তু এই ‘অন্তর্জাতীয় অবহেলা’র মধ্যেও ইলিশের স্বমহিমায় জ্বলজ্বল করছে দক্ষিণ এশিয়ায়। এ বছর বর্ষা শুরুর সঙ্গেই সুখবর এসেছে, এবার ইলিশের পরিমাণ বেশি। মৎস্য দফতর সূত্রে খবর, এবছর বঙ্গোপসাগরে ও পদ্মা-মেঘনায় যথেষ্ট পরিমাণ ইলিশ ধরা পড়ছে। ফলে বাজারে ইলিশের জোগান ভালই থাকবে বলে আশাবাদী বিক্রেতারা। তার প্রভাব পড়তে পারে দামে। ইতিমধ্যেই কিছু বাজারে ইলিশের দাম কমতির দিকে। কলকাতার একটি নামী মাছ বাজারের এক বিক্রেতা বলেন, ‘গত বছরের তুলনায় এবার জুনের শেষে থেকেই ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে। ওজনেও ভাল, দামেও খানিকটা কম। আশা করছি বর্ষার মাঝামাঝি দাম আরও কিছুটা পড়বে।’

কিন্তু আবেগে যতই ইলিশ প্রথম হোক, বাস্তবের মাপকাঠিতে তা বিশ্ববাজারে এখনো অনেকটাই পিছিয়ে। আন্তর্জাতিকভাবে মাছ রপ্তানির পরিসংখ্যান বলছে, টুনা, স্যামন, কড জাতীয় মাছের ব্যবসা ইলিশের তুলনায় বহু গুণ বেশি। এর পেছনে যেমন রয়েছে স্বাদের রুচিগত পার্থক্য, তেমনই রয়েছে সাংস্কৃতিক খাওয়ার ধরন। বিশ্ব বাজারে মাছের এই র্যাংকিং ইলিশপ্রেমী বাঙালিকে হয়ত হতাশ করবে, তবে একথা বলাই যায়, ‘ইলিশ শুধু একটা মাছ নয়, এটা একটা আবেগ।’ আর এই আবেগে কোনও পরিসংখ্যান হার মানে। বিশ্বে সবচেয়ে বেশি খাওয়া হয় মাছ টুনা, দ্বিতীয় স্যামন। কিন্তু বাঙালির প্রিয় ইলিশ কোথায়? জেনে নিন আন্তর্জাতিক স্তরে ইলিশের অবস্থান, এবং কেন তা বিশ্ববাজারে পিছিয়ে।
ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Hilsa : আষাঢ়ের প্রথমেই ‘রুপোলি শস্য’-র ঝলক, কাকদ্বীপে উঠল ২৫ টন ইলিশ!




