সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু ভারতের মূল ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে চলেছে। ভারতীয় মৌসম ভবন বা আইএমডি -এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, সবকিছু অনুকূল থাকলে ৪ জুন কেরলে পা রাখবে বর্ষা। নির্ধারিত সময়ের তুলনায় কয়েক দিন দেরি হলেও আবহাওয়ার এই পরিবর্তন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে স্বস্তির ইঙ্গিত দিচ্ছে। ইতিমধ্যেই কেরল (Kerala Monsoon 2026) এবং দক্ষিণ ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, এই বর্ষা কবে পশ্চিমবঙ্গে পৌঁছবে? খাতায়-কলমে ভারতের মূল ভূখণ্ডে বর্ষার আগমনের নির্ধারিত দিন ১ জুন। তবে এ বছর সেই সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও খুব বেশি দেরি হয়নি। আবহবিদদের মতে, ৪ জুন কেরলে বর্ষা ঢোকার সম্ভাবনা প্রবল। তার পরবর্তী কয়েক দিনে সেখানে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে। অনুমান করা হচ্ছে, বর্ষা প্রবেশের পর টানা কয়েক দিন কেরলের বিভিন্ন জেলায় ৭ থেকে ২০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে।
আরও পড়ুন : মোবাইল রিচার্জের দাম ঊর্ধ্বমুখী: ভারতে বাড়ছে ডিজিটাল খরচের চাপ, বিপাকে মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র পরিবার
শুধু কেরল নয়, বর্ষার প্রভাবে তামিলনাড়ু (Tamil Nadu) এবং কর্নাটক (Karnataka) -এর কিছু অংশেও বৃষ্টির পরিমাণ বাড়তে পারে। জলীয় বাষ্পে ভরপুর বায়ুমণ্ডলের কারণে দক্ষিণ ভারতের বিস্তীর্ণ এলাকায় বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। ধীরে ধীরে এই মৌসুমি বায়ু উত্তর ও পূর্ব ভারতের দিকে অগ্রসর হবে, যা দেশের কৃষি ও অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পশ্চিমবঙ্গের দিকে নজর রাখছেন সাধারণ মানুষ থেকে কৃষক সকলেই। কারণ বর্ষার আগমন মানেই গরমের দাপট থেকে কিছুটা মুক্তি এবং চাষের প্রস্তুতি। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, উত্তরবঙ্গে ১০ জুন নাগাদ বর্ষা প্রবেশ করে। এরপর ধাপে ধাপে দক্ষিণবঙ্গে পৌঁছতে সময় লাগে আরও কয়েক দিন। তবে এ বছর ঠিক কবে বর্ষা রাজ্যে প্রবেশ করবে, তা নিয়ে এখনও নির্দিষ্ট দিন ঘোষণা করেনি আলিপুর আবহাওয়া দফতর। আবহাওয়া সংক্রান্ত হিসাব অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের চার দিন আগে বা পরে বর্ষা আসা স্বাভাবিক ঘটনা।
গত কয়েক দিনে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় প্রাকবর্ষার বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। এর ফলে তাপমাত্রা কিছুটা কমেছে এবং গরমের তীব্রতা খানিকটা প্রশমিত হয়েছে। তবে পূর্ণমাত্রায় বর্ষার আগমন এখনও বাকি। দক্ষিণবঙ্গের মানুষ অপেক্ষা করছেন স্থায়ী বৃষ্টির জন্য। আইএমডি জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনে দেশের উত্তর-পশ্চিম, মধ্য এবং পূর্বাঞ্চলেও বিক্ষিপ্ত ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দিল্লি (Delhi), এনসিআর (NCR), রাজস্থান (Rajasthan), পাঞ্জাব (Punjab)-সহ একাধিক এলাকায় বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রদেশ (Madhya Pradesh), ছত্তীসগঢ় (Chhattisgarh), বিহার (Bihar), ঝাড়খণ্ড (Jharkhand) এবং পশ্চিমবঙ্গেও ছিটেফোঁটা বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। কিছু জায়গায় ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। এ বছর বর্ষা আগমনের সময় নিয়ে একাধিকবার পরিবর্তন দেখা গিয়েছে। প্রথমদিকে ধারণা করা হয়েছিল, মে মাসের শুরুতেই কেরলে বর্ষা প্রবেশ করতে পারে। পরে সেই পূর্বাভাস সংশোধন করে ২৮ মে বলা হয়। তার পর আবার ১ জুনের সম্ভাবনা জানানো হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা পিছিয়ে গিয়ে ৪ জুনে দাঁড়িয়েছে। আবহাওয়ার স্বাভাবিক ওঠানামার কারণেই এই পরিবর্তন হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
গত বছরের তুলনায় এ বছরের পরিস্থিতি কিছুটা আলাদা। ২০২৫ সালে নির্ধারিত সময়ের আগেই, অর্থাৎ ২৪ মে কেরলে বর্ষা প্রবেশ করেছিল। ২০২৪ সালেও সময়ের আগে বর্ষার দেখা মিলেছিল। সেই তুলনায় এ বছর বর্ষা কিছুটা দেরিতে আসছে। তবে এই দেরি খুব অস্বাভাবিক নয় বলেই মত আবহাওয়া দফতরের। ভারতের কৃষি ব্যবস্থার সঙ্গে বর্ষার নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। দেশের বৃহৎ অংশের কৃষিকাজ এই মৌসুমি বৃষ্টির উপর নির্ভর করে। ফলে বর্ষার সময়মতো আগমন এবং পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত অর্থনীতির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। সেই দিক থেকে কেরলে বর্ষার প্রবেশ দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতির জন্য ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবে ধরা হচ্ছে।
এখন নজর পশ্চিমবঙ্গের দিকে। যদি সব কিছু স্বাভাবিক গতিতে এগোয়, তবে জুনের দ্বিতীয় সপ্তাহে উত্তরবঙ্গে বর্ষা পৌঁছতে পারে। তার পর দক্ষিণবঙ্গেও ধীরে ধীরে বর্ষার বিস্তার ঘটবে। ততদিন পর্যন্ত প্রাকবর্ষার বৃষ্টিই ভরসা। উল্লেখ্য বর্ষার আগমন মানেই আবহাওয়ার পরিবর্তন তা নয়, নতুন ঋতুচক্রের সূচনা। কেরলে সেই সূচনার কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গিয়েছে। এখন অপেক্ষা, কবে সেই স্নিগ্ধ ছোঁয়া বাংলার মাটিতেও পৌঁছবে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Early monsoon Kerala 2026, El Nino impact monsoon | কেরলে ২৬ মে-ই বর্ষা ঢোকার সম্ভাবনা, এল নিনোর মাঝেও চমকপ্রদ পূর্বাভাস আইএমডি-র




