সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ মুম্বাই : গেরুয়া শিবিরে বয়স ৭৫ মানেই কী অবসর? এই প্রশ্ন দীর্ঘদিন ধরেই রাজনীতির অন্দরে ঘুরপাক খাচ্ছে। বিশেষ করে ভারতীয় রাজনীতিতে যখন বয়সসীমা নিয়ে আলোচনা নতুন নয়, তখন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ (Rashtriya Swayamsevak Sangh) -এর প্রধান মোহন ভগবত (Mohan Bhagwat) -এর বয়স ৭৫ পেরনো সত্ত্বেও দায়িত্বে থাকা নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে। রবিবার সেই বিতর্কের মাঝেই আরএসএস-এর এক সভা থেকে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে দিলেন সরসঙ্ঘচালক। তাঁর বক্তব্যে পরিষ্কার, বয়স নয়, সংগঠনের সিদ্ধান্তই শেষ কথা।উল্লেখ্য, সাধারণভাবে বিজেপি ও সঙ্ঘ পরিবারের অন্দরে একটি অলিখিত নিয়ম বহুদিন ধরেই আলোচনায় ৭৫ বছর বয়সে পৌঁছনো মানেই ধীরে ধীরে সক্রিয় রাজনীতি বা সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে সরে যাওয়া। একাধিক প্রবীণ নেতার ক্ষেত্রে এই নিয়ম কার্যকর হয়েছে বলেই রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করে। সেই প্রেক্ষিতেই মোহন ভগবতের বয়স ৭৫ ছুঁলেও তাঁর অবসর না নেওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। রবিবারের সভায় সেই প্রশ্ন সরাসরি তাঁর সামনে তোলা হয়।
উত্তরে মোহন ভগবত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, বিষয়টি ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের নয়। তিনি বলেন, ‘সংগঠন আমাকে এখনও এই দায়িত্বে দেখতে চায়। আমি নিজেই আরএসএস-কে জানিয়েছিলাম যে আমার ৭৫ বছর বয়স পূর্ণ হয়েছে। কিন্তু সংগঠন বলেছে, কাজ চালিয়ে যেতে। যে দিন তারা বলবে, এই দায়িত্ব ছেড়ে দিতে, সেদিনই আমি সরে যাব। কিন্তু আমি নিজে থেকে কোনও অবসরগ্রহণ করব না।’ এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে তিনি বুঝিয়ে দিলেন, সঙ্ঘে ব্যক্তির চেয়ে সংগঠনের ইচ্ছাই প্রাধান্য পায়। এই মন্তব্য শুধু তাঁর নিজের ভূমিকা নিয়েই নয়, সঙ্ঘের সাংগঠনিক দর্শন সম্পর্কেও একটি বার্তা বহন করে। আরএসএস-এর অভ্যন্তরে নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা, অভিজ্ঞতার মূল্য এবং সংগঠনের প্রয়োজন, এই তিনের ভারসাম্যই যে সিদ্ধান্তের ভিত্তি, তা যেন আবারও স্পষ্ট করলেন ভগবত। বয়সসীমা থাকলেও, সেটি চূড়ান্ত নয়, এমন ধারণাও তাঁর কথায় উঠে এসেছে।
তবে এই বক্তব্য নতুন নয় বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ। কারণ, গত বছর নাগপুর (Nagpur) -এর একটি সভায় মোহন ভগবতের বক্তব্য ছিল খানিক ভিন্ন সুরের। সেই সময় তিনি বলেছিলেন, ‘যখন কেউ ৭৫ বছর বয়সে পৌঁছনোর পর অত্যন্ত উৎসাহ নিয়ে আপনাকে অভিনন্দন জানাতে আসবে, তখনই বুঝতে হবে থামার সময় এসেছে। অন্যদের জন্য কাজের জায়গা ছেড়ে দিতে হবে।’ সেই মন্তব্য তখন অনেকেই অবসরগ্রহণের ইঙ্গিত হিসেবেই দেখেছিলেন। ফলে রবিবারের বক্তব্যের সঙ্গে গত বছরের ওই মন্তব্যের তুলনা টেনে প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি পরিস্থিতি বদলেছে? সঙ্ঘ সূত্রে খবর, সংগঠনের অভ্যন্তরে দায়িত্ব বণ্টনের ক্ষেত্রে বয়স একটি মানদণ্ড হলেও, তা একমাত্র শর্ত নয়। কোনও ব্যক্তির অভিজ্ঞতা, গ্রহণযোগ্যতা এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে তাঁর প্রয়োজনীয়তা, এই সব দিক বিচার করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মোহন ভগবতের ক্ষেত্রে সংগঠন মনে করছে, তাঁর অভিজ্ঞ নেতৃত্ব এখনই প্রয়োজন। তাই বয়স ৭৫ পেরলেও তাঁকে সরসঙ্ঘচালকের দায়িত্বে বহাল রাখা হয়েছে।
এই বক্তব্য রাজনৈতিক দিক থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, বিজেপি (Bharatiya Janata Party) ও আরএসএস -এর সম্পর্ক নিয়ে বরাবরই কৌতূহল রয়েছে। বিজেপির একাধিক প্রবীণ নেতা বয়সসীমার কারণে সক্রিয় রাজনীতি থেকে ধীরে ধীরে সরে গিয়েছেন। সেই প্রেক্ষিতে মোহন ভগবতের অবস্থান আলাদা মাত্রা পাচ্ছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এর মাধ্যমে সঙ্ঘ বুঝিয়ে দিল যে তারা রাজনৈতিক দলের মতো একই নিয়মে বাঁধা নয়। সংগঠনের প্রয়োজনে নিয়মে ব্যতিক্রম হতেই পারে। অন্যদিকে, মোহন ভগবতের বক্তব্যের আর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল ‘অবসরগ্রহণ’ শব্দটি নিয়ে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি। তিনি বলেন, তিনি অবসর নেবেন না। অর্থাৎ দায়িত্ব বদলাতে পারে, কিন্তু কাজ থেকে সরে দাঁড়ানোর প্রশ্ন নেই। সঙ্ঘের দর্শনে ‘অবসর’ ধারণাটিই যে ভিন্ন, সেটাই যেন তাঁর কথায় প্রতিফলিত। দায়িত্ব থাকুক বা না থাকুক, সংগঠনের কাজ চালিয়ে যাওয়াই শেষ লক্ষ্য। উল্লেখ্য, রবিবারের সভা থেকে দেওয়া এই বার্তা শুধু বয়স বিতর্কের জবাব নয়, সঙ্ঘের সাংগঠনিক চিন্তাধারারও প্রতিফলন। ৭৫ -এর প্রশ্নে যেখানে রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা, সেখানে মোহন ভগবত স্পষ্ট করে দিলেন, তিনি থাকবেন বা যাবেন, সেই সিদ্ধান্ত নেবে আরএসএস। আর সেই সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত তিনি দায়িত্ব পালন করেই যাবেন।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : India Russia oil import decision, Donald Trump India oil claim | রাশিয়ার তেল নিয়ে ধোঁয়াশা কাটল না: ট্রাম্পের দাবির পরে দিল্লির বার্তা ‘১৪০ কোটির জ্বালানি নিরাপত্তাই অগ্রাধিকার’




