men vs women sleep research | পুরুষ না মহিলা কে বেশি ঘুমান? চমকপ্রদ গবেষণা

SHARE:

পুরুষ না মহিলা, কে বেশি ঘুমায়? নতুন গবেষণায় উঠে এলো অবাক করা তথ্য। জানুন কেন মহিলাদের ঘুমের প্রয়োজন পুরুষদের তুলনায় বেশি।

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : ঘুম শরীর ও মনের সুস্থতার জন্য অপরিহার্য। প্রতিদিন পর্যাপ্ত ঘুম শরীরকে যেমন চাঙ্গা রাখে, তেমনি মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরেও এর ইতিবাচক প্রভাব রয়েছে। দীর্ঘদিনের গবেষণায় বিশেষজ্ঞরা বারবারই জানিয়েছেন, প্রাপ্তবয়স্কদের প্রতিদিন অন্তত সাত থেকে আট ঘণ্টা ঘুম জরুরি। কিন্তু একটি প্রশ্ন বহুদিন ধরেই বিতর্কের জন্ম দিয়েছে, পুরুষদের তুলনায় মহিলারা কি সত্যিই বেশি ঘুমান? নাকি এটা নিছকই গুজব? সাম্প্রতিক গবেষণার ফলাফল বলছে, মহিলাদের শরীর ও জীবনযাত্রার ধরন এমন যে, তাঁদের ঘুমের চাহিদা পুরুষদের চেয়ে সামান্য হলেও বেশি।

বেশ কয়েকজন বিশেষজ্ঞের মতে, মহিলাদের ক্ষেত্রে ঘুম কেবলমাত্র বিশ্রামের মাধ্যম নয়, তা স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধারের অন্যতম হাতিয়ার। চিকিৎসক ড. রিচার্ড ওয়াইজম্যান বলেন, “মহিলাদের ঘুম ভাঙা বা ভেঙে যাওয়ার প্রবণতা পুরুষদের চেয়ে অনেক বেশি। এর মূল কারণ তাঁদের জৈবিক গঠন এবং দৈনন্দিন চাপ।” অর্থাৎ মহিলারা যদিও ঘুমের জন্য পুরুষদের তুলনায় বেশি সময় ব্যয় করেন, তবুও তাঁদের ঘুম গভীর নয় এবং সহজেই ব্যাহত হতে পারে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, মহিলাদের শরীরে জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে হরমোনজনিত পরিবর্তন ঘটে। মাসিক চক্র, গর্ভাবস্থা ও মেনোপজের সময় ঘুমের ধরনে বড় রকম পরিবর্তন দেখা যায়। এই সময়গুলোতে অনিদ্রা, হালকা ঘুম বা বারবার ঘুম ভেঙে যাওয়ার মতো সমস্যাও সাধারণ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ কারণে মহিলাদের প্রতিদিন অন্তত সাত থেকে নয় ঘণ্টা ঘুম অপরিহার্য। অন্যদিকে পুরুষদের ক্ষেত্রেও প্রতিদিন সাত থেকে আট ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন হলেও তাঁরা তুলনামূলকভাবে গভীর ঘুমে থাকেন এবং তাঁদের ঘুম এত সহজে ভাঙে না।

ড. মাইকেল ব্রিউস ঘুম গবেষণায় আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত, তিনি জানাচ্ছেন, “মহিলারা একসঙ্গে বহু কাজ করেন, কর্মক্ষেত্র, পরিবার, সন্তান ও সামাজিক দায়বদ্ধতার চাপ তাঁদের ঘুমের মান নষ্ট করে। ফলে মানসিক শান্তি ও শারীরিক পুনর্জীবনের জন্য তাঁদের বেশি সময় ঘুমানো দরকার।”
আবার, আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল মহিলাদের ঘুম অনেক সময়েই ‘সতর্ক ঘুম’। তাঁরা ঘুমিয়েও ছোটখাটো শব্দ, আলো বা অস্বস্তিতে জেগে ওঠেন। তুলনায় পুরুষদের ঘুম গভীর হয়, তাই ঘুম একবার হলে সহজে ভাঙে না। এর ফলে একই সময় ঘুমালেও পুরুষরা বেশি বিশ্রাম পেয়ে যান, কিন্তু মহিলারা সেই সুফল পুরোপুরি পান না।

বর্তমান প্রজন্মে ঘুমের অভাব একটি বড় সমস্যা। কৈশোর বয়স থেকেই পড়াশোনা, অতিরিক্ত মোবাইল ও গ্যাজেট ব্যবহার, রাত জাগা এবং কর্মক্ষেত্রের চাপের কারণে ঘুমের সময় অনেকটাই কমে গেছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুম না হলে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, স্থূলতা, হৃদরোগ এবং মানসিক সমস্যার ঝুঁকি অনেকটা বেড়ে যায়। তাই শুধু ঘুমের পরিমাণ নয়, তা মানের দিকেও নজর দিতে হবে। গবেষকরা আরও জানাচ্ছেন, ঘুম সপ্তাহজুড়ে পুষিয়ে নেওয়া যায় না। অর্থাৎ সপ্তাহের দিনগুলোতে কম ঘুমিয়ে সপ্তাহান্তে দীর্ঘ সময় ঘুমানোর অভ্যাস শরীরের ক্ষতি কমায় না। বরং নিয়মিত একই সময়ে শুতে যাওয়া এবং জেগে ওঠার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। ড. শার্লট ব্রেইন বলেন, “আমাদের মস্তিষ্ক ও শরীর ঘুমের সময়ই পুনর্গঠিত হয়। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীর যেমন দুর্বল হয়, তেমনই মানসিক স্থিরতাও নষ্ট হয়। বিশেষ করে মহিলাদের ক্ষেত্রে হরমোন ও স্ট্রেস, দু’টোই ঘুমের মানকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করে।” এখানে পুরুষ ও মহিলার মধ্যে ঘুমের ব্যবধান খুব বিশাল না হলেও মহিলাদের জীবনের প্রতিটি ধাপে ঘুমের ভূমিকা স্পষ্টভাবে চোখে পড়ে। তাঁদের মানসিক চাপ, শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তন এবং সামাজিক দায়িত্বের কারণে ঘুম আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। সুতরাং প্রশ্নের উত্তর স্পষ্ট, হ্যাঁ, মহিলাদের ঘুমের প্রয়োজন পুরুষদের তুলনায় বেশি। তবে বিষয়টি সময়ের চাহিদা এবং ব্যক্তিগত পরিস্থিতির ওপরেও নির্ভরশীল। পর্যাপ্ত ও মানসম্মত ঘুমই দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতার মূল চাবিকাঠি।

ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Fusion Bengali Chicken Recipe, Weekend Lunch Ideas | উইকএন্ড স্পেশাল ইটালিয়ান ফিউশন চিকেন কারি, বাড়ির লাঞ্চে দিন অভিনব চমক

Sasraya News
Author: Sasraya News

Leave a Comment

আরো পড়ুন