তনুজা বন্দ্যোপাধ্যায় ★ সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক, কলকাতা : রাজ ও সুচিন্তার বছর পাঁচেক আগে বিয়ে হয়েছে। একে অপরের বহু বছরের বন্ধু হলেও দাম্পত্য জীবনের পর প্রথম সন্তানধারণের ভাবনা তাঁদের জীবনে এনেছে নতুন অধ্যায়। তবে ছ’মাস ধরে চেষ্টার পরও সুখবর আসেনি। চিকিৎসকের পরামর্শে জানা গেল, রাজের শুক্রাণু উৎপাদন ক্ষমতা অনেকটাই কম। আর এখানেই উঠে এসেছে আজকের আলোচনার মূল বিষয়। কীভাবে দৈনন্দিন জীবনের কিছু ছোট ছোট পরিবর্তন এনে একজন পুরুষ বাবা হওয়ার সম্ভাবনা বাড়াতে পারেন! চিকিৎসকেরা বলছেন, শুধুমাত্র চিকিৎসার উপর ভরসা না রেখে জীবনধারায় কিছু ইতিবাচক বদল আনলেই অনেকটাই সাফল্য মিলতে পারে। গবেষণা বলছে, আধুনিক জীবনের মানসিক চাপ, অনিয়ম, খাদ্যাভ্যাস ও বিশ্রামের অভাব, এসব কিছুরই প্রভাব পড়ে পুরুষের প্রজনন ক্ষমতার উপর।বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. অনিন্দ্য মৈত্র বলেন,”আজকাল অনেক কমবয়সী পুরুষই শুক্রাণুর নিম্ন উৎপাদন সমস্যায় ভুগছেন। নিয়মিত ওজন নিয়ন্ত্রণ, সুষম খাদ্য, বিশ্রাম আর ধূমপান-মদ্যপান থেকে বিরত থাকলেই অনেক ক্ষেত্রেই সন্তান ধারণের সম্ভাবনা বাড়ে।”

চিকিৎসকদের মতে, বাড়তি ওজন পুরুষ হরমোন টেস্টোস্টেরনের ক্ষরণে বাধা দেয়। ফলে শুক্রাণুর সংখ্যা ও গুণমান দুটোই কমে যায়। তাই ওজন কমাতে হবে বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতিতে। “ইউটিউব দেখে ডায়েট নয়, পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিয়ে খাদ্যতালিকা ঠিক করুন”, বলছেন ডায়েট বিশেষজ্ঞ রিমা চক্রবর্তী।

ভিটামিন ডি-র অভাব পুষিয়ে দিন। ভিটামিন ডি-এর ঘাটতিতেও শুক্রাণুর সংখ্যা হ্রাস পায়। সপ্তাহে অন্তত ২০-৩০ মিনিট রোদে থাকলে শরীরে এই ভিটামিনের ঘাটতি পূরণ হয়। খাদ্যতালিকায় রাখুন চিজ়, ডিমের কুসুম ও সামুদ্রিক মাছ। প্রয়োজনে নিন চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সাপ্লিমেন্ট।

আজই ধূমপান ও মদ্যপান বন্ধ করুন। অতিরিক্ত অ্যালকোহল গ্রহণ ও ধূমপান শুক্রাণুর গতিশীলতা ও পরিমাণ দুই-ই কমায়। এই দু’টি অভ্যাস সম্পূর্ণ বন্ধ করা ছাড়া সন্তান ধারণের সম্ভাবনা বাড়ানোর সহজ উপায় নেই।

মানসিক চাপ হ্রাস করুন। স্ট্রেস শরীরের হরমোনে বিরূপ প্রভাব ফেলে। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, “অফিস বা সংসারের চাপ যদি মানসিক অবসাদের দিকে ঠেলে দেয়, তাহলে শুক্রাণু উৎপাদনে মারাত্মক প্রভাব পড়ে।” তাই কাজের মাঝে ছোট ছোট বিরতি, গান শোনা, ঘুরতে যাওয়া, কিংবা প্রয়োজনে কাউন্সেলিং নেওয়াও হতে পারে চাবিকাঠি।

ঘুমই শক্তি। পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবেও প্রজনন ক্ষমতা কমে। রোজ ৬-৭ ঘণ্টা ঘুম শরীরের হরমোন ব্যালান্স রাখে ও শুক্রাণু উৎপাদন স্বাভাবিক রাখে। শুধু দৈহিক নয়, মানসিক শক্তি পুনরুদ্ধারের জন্যও ঘুম অপরিহার্য।

মনে রাখতে হবে, রাজ ও সুচিন্তার গল্প এখন অনেক দম্পতিরই বাস্তব। চিকিৎসকদের মতে, “চিকিৎসা শুরু করার আগে জীবনধারার উপরে নজর দিন। শরীর ও মনের ভারসাম্য বজায় রাখলেই সুসংবাদ আসা সময়ের অপেক্ষা মাত্র।”
সব ছবি: প্রতীকী
আরও পড়ুন : open communication in relationships | বাঁধ ভাঙবে যৌবন, দাম্পত্যে উঠবে প্রেমের তুফান, এই ৫ টোটকায় সম্পর্কে বাজিমাত




