সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা ১১ সেপ্টেম্বর : বঙ্গোপসাগরে ফের নিম্নচাপের ভ্রুকুটি। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই তার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়ায়। কলকাতার (Kolkata) বিভিন্ন এলাকায় দফায় দফায় বৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কিছুক্ষণ বৃষ্টি, আবার কোথাও অল্প সময়ের মধ্যেই মেঘ কেটে গিয়ে দেখা দিয়েছে রোদের ঝলক। তবে নতুন করে নিম্নচাপ তৈরি হওয়ায় শহরজুড়ে টানা ভারী বৃষ্টির যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, আপাতত তেমন কোনও পূর্বাভাস নেই। আবহাওয়া দফতরের (IMD) পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিন কলকাতায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি ও বিক্ষিপ্ত ভাবে কয়েক দফা বর্ষণ হতে পারে। তবে কলকাতার তুলনায় দক্ষিণবঙ্গের কয়েকটি জেলায় পরিস্থিতি অন্য রকম হতে পারে। নতুন নিম্নচাপের প্রভাবে পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম এবং বাঁকুড়ায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। নিম্নচাপের গতিপথ এবং অবস্থানের কারণে পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিম দিকের জেলাগুলিতে বৃষ্টির পরিমাণ তুলনামূলক ভাবে বেশি হতে পারে। ফলে ওই জেলাগুলির বাসিন্দাদের আবহাওয়ার পরিবর্তনের দিকে নজর রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার সকালে উত্তর বঙ্গোপসাগর এবং সংলগ্ন এলাকায় নতুন করে নিম্নচাপ অঞ্চল তৈরি হয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগর ও বাংলাদেশের কাছাকাছি এলাকায় অবস্থান করা একটি উচ্চস্তরের ঘূর্ণাবর্তের প্রভাবে এই নিম্নচাপের সৃষ্টি হয়েছে। বঙ্গোপসাগরের উপর তৈরি হওয়া এই আবহাওয়া ব্যবস্থা ধীরে ধীরে স্থলভাগের দিকে এগোতে পারে বলে পূর্বাভাস রয়েছে। বর্তমান গতিপথ অনুযায়ী, নিম্নচাপটি ওড়িশার (Odisha) দিকে অগ্রসর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে এই নিম্নচাপের মূল প্রভাব পড়তে পারে ওড়িশা এবং তার সংলগ্ন এলাকায়। পশ্চিমবঙ্গের সব জেলায় এর সমান প্রভাব পড়বে না। কলকাতাও সরাসরি নিম্নচাপের কেন্দ্রের প্রভাববলয়ে না থাকায় শহরে প্রবল বৃষ্টির সম্ভাবনা তুলনামূলক ভাবে কম।
তবে তার অর্থ এই নয় যে শহরে বৃষ্টি হবে না। আগামী তিন দিন কলকাতার আবহাওয়ায় বার বার পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। কখনও আকাশ মেঘলা থাকবে, আবার কিছু সময়ের জন্য বৃষ্টি নামতে পারে। বৃষ্টির পরিমাণও সব জায়গায় এক রকম হবে না। শহরের কোনও অংশে বৃষ্টি হলেও অন্য এলাকায় তখন হয়তো শুকনো আবহাওয়া থাকতে পারে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাসে এই ধরনের বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনাই বেশি রাখা হয়েছে। কলকাতায় একটানা কয়েক ঘণ্টা প্রবল বৃষ্টির বদলে ‘পাসিং শাওয়ার’-এর পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। অর্থাৎ আচমকা বৃষ্টি নামবে, কিছু সময় চলবে এবং তার পর আবার বৃষ্টি থেমে যেতে পারে। মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তা ও বঙ্গোপসাগরে তৈরি নতুন নিম্নচাপ, দুইয়ের প্রভাবেই এমন আবহাওয়া দেখা দিতে পারে।
কলকাতায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠেছে। কারণ বঙ্গোপসাগরে নতুন করে নিম্নচাপ তৈরি হলেই শহরবাসীর মধ্যে জল জমা এবং যানজটের আশঙ্কা বাড়ে। কিন্তু আপাতত আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাসে কলকাতার জন্য তেমন কোনও বড় ধরনের দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির ইঙ্গিত নেই। হাওয়া অফিস সূত্রের খবর, আঞ্চলিক আবহাওয়া নিম্নচাপের সরাসরি প্রভাব শহরের উপর তুলনামূলক ভাবে কম থাকতে পারে। ফলে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিই বেশি হওয়ার সম্ভাবনা। কিন্তু, শহরে একাধিক দফায় বৃষ্টি হতে পারে। অর্থাৎ দিনের কোনও একটি সময়ে বৃষ্টি হওয়ার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে গেলেও পরে ফের মেঘ জমে বৃষ্টি নামতে পারে। ফলে রাস্তায় বেরোনোর সময় কলকাতাবাসীকে আবহাওয়ার হঠাৎ পরিবর্তনের কথা মাথায় রাখতে হবে।
দক্ষিণবঙ্গের পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিমের জেলাগুলিতে অবশ্য বৃষ্টির ছবি আলাদা। পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম এবং বাঁকুড়ায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কিছু জায়গায় বৃষ্টির তীব্রতা আরও বাড়তে পারে। নিম্নচাপের সম্ভাব্য গতিপথ ওড়িশামুখী হওয়ায় পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিমাঞ্চলীয় জেলাগুলিতে তার প্রভাব তুলনামূলক ভাবে বেশি পড়তে পারে। বিশেষ করে মেদিনীপুরের দুই জেলা ও ঝাড়গ্রামে ভারী বৃষ্টির ফলে নিচু এলাকা, গ্রামীণ রাস্তা ও স্থানীয় যোগাযোগ ব্যবস্থায় সমস্যা তৈরি হতে পারে। বাঁকুড়াতেও প্রবল বৃষ্টির জেরে কোথাও কোথাও জল জমার পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কৃষিকাজের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত বৃষ্টির প্রভাব পড়তে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট জেলাগুলিতে প্রশাসনিক নজরদারি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
আবহাওয়ার এই পরিবর্তনের পিছনে শুধু বঙ্গোপসাগরের নিম্নচাপকেই দায়ী করা হচ্ছে না। সক্রিয় মৌসুমি বায়ুও দক্ষিণবঙ্গের আকাশে বৃষ্টির অনুকূল পরিবেশ তৈরি করছে। ফলে নিম্নচাপটি ধীরে ধীরে পশ্চিমবঙ্গের প্রভাববলয় থেকে সরে গেলেও সঙ্গে সঙ্গে বৃষ্টি পুরোপুরি থেমে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই। মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তার কারণে আরও কয়েক দিন শহর ও দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি চলতে পারে। ওড়িশায় নিম্নচাপের প্রভাব তুলনামূলক ভাবে বেশি হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও পশ্চিমবঙ্গের কয়েকটি জেলাও বাদ যাচ্ছে না।
বিশেষ করে, দক্ষিণবঙ্গের পশ্চিমাঞ্চলে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকায় আবহাওয়া পরিস্থিতির দিকে নজর রাখা জরুরি। কলকাতায় আপাতত বড় ধরনের দুর্যোগের আশঙ্কা না থাকলেও আচমকা বৃষ্টি এবং মেঘলা আকাশ আগামী কয়েক দিন শহরের স্বাভাবিক ছন্দে কিছুটা প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে কলকাতার ক্ষেত্রে আপাতত স্বস্তির খবরই রয়েছে, টানা প্রবল বৃষ্টির সম্ভাবনা কম। কিন্তু ছাতা ছাড়া রাস্তায় বেরিয়ে পড়লে বিপাকে পড়ার আশঙ্কা থাকছে। কারণ কখন মেঘ জমে বৃষ্টি নামবে, তার নিশ্চয়তা নেই। অন্যদিকে পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম ও বাঁকুড়ায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় ওই চার জেলার বাসিন্দাদের আরও সতর্ক থাকতে হবে। বঙ্গোপসাগরের নিম্নচাপ আগামী কয়েক দিনে কোন দিকে কতটা শক্তি নিয়ে এগোয়, তার উপরই দক্ষিণবঙ্গের বৃষ্টির পরিমাণ অনেকটাই নির্ভর করবে।
ছবি : সংগৃহীত ও প্রতীকী
আরও পড়ুন : Smriti Mandhana most runs, Smriti Mandhana breaks Mithali Raj record | মিতালি রাজকে টপকে ইতিহাস স্মৃতি মন্ধানার, মহিলা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সর্বাধিক রানের মালকিন ভারতীয় তারকা




