সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা, ২৩ অক্টোবর: ভাইফোঁটার (Bhai Phonta) উৎসবের সকালে হঠাৎ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে উত্তর কলকাতার আমহার্স্ট স্ট্রিটে (Amherst Street)। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকাল প্রায় ৮টা নাগাদ এলাকার একটি প্রিন্টিং প্রেস ভবন (Printing Press Building) থেকে ঘন কালো ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুনের তীব্রতা বাড়তে থাকে, আর আতঙ্কে এলাকাজুড়ে শুরু হয় চাঞ্চল্য। খবর পেয়ে দমকল (Fire Department) দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার তৎপরতা শুরু করে। এখন পর্যন্ত চারটি দমকল ইঞ্জিন আগুন নেভানোর কাজ চালাচ্ছে বলে দমকল সূত্রে জানা যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা সুব্রত দত্ত বলেন, “সকালেই ধোঁয়ার গন্ধ পাই। প্রথমে ভেবেছিলাম কেউ হয়ত আবর্জনা পুড়িয়েছে, কিন্তু পরে দেখি ঘন ধোঁয়া পুরো গলিটা ঢেকে ফেলেছে। সঙ্গে সঙ্গে দমকলকে ফোন করি।” আরেক প্রত্যক্ষদর্শী অনন্যা মুখোপাধ্যায় জানান, “আগুন এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে যে আশপাশের ঘরবাড়ির লোকজন ভয় পেয়ে যায়। আমরা সবাই রাস্তায় বেরিয়ে আসি।”
উল্লেখ্য যে, দমকলের চারটি ইঞ্জিন বউবাজার, কলেজ স্ট্রিট, সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ ও হেডকোয়ার্টার থেকে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। দমকল কর্মীরা জানিয়েছেন, ভবনটি পুরনো এবং ভিতরে প্রচুর কাগজ ও দাহ্য বস্তু থাকায় আগুন দ্রুত ছড়াতে থাকে। এই প্রিন্টিং প্রেসে দীর্ঘদিন ধরে বই ও ব্যানার ছাপার কাজ চলছিল। দমকলের প্রাথমিক অনুমান, শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। দমকলের এক আধিকারিক সঞ্জয় সেনগুপ্ত (Sanjay Sengupta) বলেন, “ভবনটি তিনতলা এবং ভেতরে প্রচুর কাগজ মজুত ছিল। আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে কাগজের স্তূপে দাউ দাউ করে শিখা ছড়িয়ে পড়ে। আমাদের প্রথম কাজ ছিল আগুনের বিস্তার রোধ করা। আপাতত আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে, তবে সম্পূর্ণ নেভাতে আরও কিছু সময় লাগবে।”
এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা ও কর্মীকে ধোঁয়ার কারণে শ্বাসকষ্টের সমস্যা নিয়ে নিকটবর্তী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাঁদের অবস্থা স্থিতিশীল। অন্যদিকে, পুলিশ ও দমকল যৌথভাবে আগুনের কারণ অনুসন্ধান শুরু করেছে। দমকল কর্মীদের পাশাপাশি কলকাতা পুলিশের (Kolkata Police) বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীও ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। এলাকাটি সাময়িকভাবে ঘিরে ফেলা হয়েছে যাতে কেউ কাছাকাছি যেতে না পারে।
স্থানীয় কাউন্সিলর অমিত দে (Amit Dey) জানিয়েছেন, “এটি একটি পুরনো ভবন, দীর্ঘদিন ধরে রক্ষণাবেক্ষণের অভাব রয়েছে। আমরা দমকল ও পুরসভার সঙ্গে সমন্বয় রেখে ভবনটির নিরাপত্তা পর্যালোচনা করব।” তিনি আরও বলেন, “ভাইফোঁটার সকালে এমন দুর্ঘটনা খুবই দুঃখজনক। সৌভাগ্যবশত দমকল দ্রুত এসে আগুন ছড়িয়ে পড়তে দেয়নি।” সূত্রের খবর, আগুন লাগার সময় ভবনের ভিতরে কয়েকজন কর্মী উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা দ্রুত বেরিয়ে আসতে পারায় বড় বিপদ এড়ানো গিয়েছে। দমকলের টিম ভবনটি সম্পূর্ণ ঠাণ্ডা না হওয়া পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করছে। সন্ধ্যার মধ্যে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে বলে দমকলের তরফে আশা প্রকাশ করা হয়েছে। আগুনের সঠিক কারণ জানতে দমকল তদন্ত কমিটি গঠন করছে। প্রাথমিকভাবে শর্ট সার্কিটের আশঙ্কা থাকলেও, অগ্নিসংযোগ বা অবহেলা থেকেও বিপত্তি ঘটেছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
শহরজুড়ে উৎসবের আমেজের মাঝেই এমন অগ্নিকাণ্ডে নাগরিকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অনেকেই সামাজিক মাধ্যমে প্রশ্ন তুলেছেন, পুরনো ভবনগুলির অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা কেন নিয়মিত পর্যালোচনা করা হয় না। বিশেষজ্ঞদের মতে, পুরনো বাণিজ্যিক ভবনগুলিতে ফায়ার অ্যালার্ম ও ইলেকট্রিক তারের মান যাচাই বাধ্যতামূলক করা প্রয়োজন। দমকল বিভাগ নাগরিকদের উদ্দেশ্যে আবেদন জানিয়েছে, ঘরে বা অফিসে পুরনো তার, ওভারলোডেড মাল্টিপ্লাগ ও অব্যবহৃত বৈদ্যুতিক যন্ত্র যেন নিয়মিত পরীক্ষা করা হয়। কলকাতা পুরসভা (Kolkata Municipal Corporation) জানিয়েছে, এই ঘটনার পর শহরের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অঞ্চলে নিরাপত্তা পর্যালোচনা অভিযান শুরু হবে। বিশেষ করে প্রিন্টিং প্রেস, গুদামঘর এবং বাজার এলাকায় ফায়ার সেফটি অডিট চালানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। ভাইফোঁটার দিনে এমন অগ্নিকাণ্ডে শহরবাসীর মধ্যে দুঃখ ও আতঙ্কের ছায়া নেমে এসেছে। তবে দমকল ও স্থানীয়দের দ্রুত উদ্যোগে বড় দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলেই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন সকলে।
ছবি: সংগৃহীত




