Bengaluru Gang Rape, Kolkata Woman Assault | দীপাবলির রাতে নরকযন্ত্রণা! বেঙ্গালুরুতে গণধর্ষণের শিকার কলকাতার তরুণী, গ্রেফতার ৩, পলাতক আরও ২ অভিযুক্ত

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ বেঙ্গালুরু , ২৩ অক্টোবর: উৎসবের আলো নিভে গিয়েছিল এক তরুণীর জীবনে। দীপাবলির রাতে দক্ষিণ ভারতের আইটি নগরী বেঙ্গালুরুতে (Bengaluru) ঘটে যায় ভয়াবহ এক ঘটনা। মদনায়কানহল্লী থানা এলাকায় কলকাতার এক তরুণীকে তাঁর ভাড়া বাড়িতে ঢুকে তিনজন ব্যক্তি মিলে গণধর্ষণ (Gang Rape) করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার রাত ৯টা ৩০ মিনিট থেকে প্রায় মধ্যরাত অবধি। অভিযুক্তরা শুধু ধর্ষণই নয়, তরুণীর কাছ থেকে ২৫,০০০ টাকা এবং দু’টি মোবাইল ফোনও লুট করে নিয়ে পালিয়ে যায় বলে উল্লেখ। 

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্তরা মদ্যপ অবস্থায় বারবার তরুণীর দরজায় ধাক্কা দেয়। তরুণী দরজা না খোলায় তারা জোর করে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকে। এরপর তাঁকে পাশের ঘরে নিয়ে গিয়ে গণধর্ষণ করা হয়। নির্যাতিতার অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ইতিমধ্যেই তিনজন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে। বাকি দু’জন এখনও পলাতক, তাঁদের খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে। বেঙ্গালুরু গ্রামীণ পুলিশ সুপার সি কে বাবা (C.K. Baba) বলেন, “গত রাত ৯.৩০ থেকে ১২.১৫-এর মধ্যে ঘটনাটি ঘটে। অভিযুক্তরা দরজায় কড়া নাড়ে, জোর করে ভেতরে ঢুকে তরুণীকে পাশের ঘরে টেনে নিয়ে যায় এবং নির্যাতন চালায়। তারা তার কাছ থেকে দু’টি মোবাইল ফোন এবং ২৫,০০০ টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়।” তিনি আরও জানান, “নির্যাতিতা সাহসিকতার সঙ্গে সঙ্গে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। আমরা তাঁর নিরাপত্তার দায়িত্ব নিয়েছি এবং ফরেনসিক প্রমাণ সংগ্রহের জন্য মেডিক্যাল টিম কাজ করছে।” 

আরও পড়ুন : West Bengal Voting-politics: পশ্চিমবঙ্গের ভোট-রাজনীতি: এগিয়ে কে-বিজেপি, তৃণমূল, সিপিএম না কংগ্রেস (আজ আঠেরো-তম কিস্তি)

পুলিশ সূত্রে আরও খবর, ঘটনার তদন্তে নামানো হয়েছে বিশেষ পুলিশ টিম। ঘটনাস্থল ঘিরে রেখে পুলিশ বোম্যানহল্লি এবং রামনগর (Ramanagara) অঞ্চলে একযোগে অভিযান চালাচ্ছে। সন্দেহভাজনদের মোবাইল টাওয়ার লোকেশন ও সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সিনিয়র অফিসার বলেন, “এই ঘটনার পিছনে অভিযুক্তদের পরিকল্পনা ছিল। তাঁরা ভিকটিমকে আগে থেকেই চিনত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মদ্যপ অবস্থায় তারা জোর করে ঢোকে এবং অপরাধের পর সমস্ত প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা করে।”

সূত্রের খবর, বেঙ্গালুরুতে কর্মরত তরুণীটি কলকাতার বাসিন্দা। তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থায় চাকরি করতেন বলে জানা গিয়েছে। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন, তবে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। পুলিশ তাঁর গোপনীয়তা রক্ষায় বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করছে। অন্যদিকে, এই ঘটনা আবারও প্রশ্ন তুলেছে বেঙ্গালুরুর নারীর নিরাপত্তা নিয়ে। দেশের তথাকথিত আইটি রাজধানী হয়েও এই শহরে মহিলাদের ওপর হামলার ঘটনা একের পর এক সামনে আসছে। কয়েক মাস আগেই একটি পিজি হোস্টেলে ঢুকে এক তরুণীকে গণধর্ষণ ও চুরির অভিযোগ উঠেছিল। মানবাধিকার কর্মী অঞ্জনা রাও (Anjana Rao) বলেন, “বেঙ্গালুরুর মতো আধুনিক শহরেও মহিলারা নিরাপদ নন, এই বাস্তবতা মেনে নেওয়া অসম্ভব। প্রশাসনের উচিত শুধু অভিযুক্তদের শাস্তি নয়, এমন ঘটনা রুখতে কঠোর নজরদারি এবং আলোকিত জায়গায় নিরাপত্তা টহল বাড়ানো।”

আইনি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ঘটনা ভারতীয় দণ্ডবিধির (IPC) ৩৭৬-ডি (ধর্ষণ), ৩৯৫ (ডাকাতি) ও ৪৫২ (বাড়িতে অনধিকার প্রবেশ) ধারায় ফৌজদারি মামলা হিসেবে বিবেচিত হবে। অভিযুক্তদের দোষ প্রমাণিত হলে আজীবন কারাদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে। অন্যদিকে, বেঙ্গালুরু সিটি কমিশনার বি. দয়ানন্দ (B. Dayananda) জানান, “আমরা কোনও অভিযুক্তকে ছাড় দেব না। ভুক্তভোগী নিরাপদ আছেন, তাঁকে মানসিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। ঘটনাটি আমাদের নজরে আছে এবং আইনি প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন হবে।” এই ঘটনার পর থেকেই স্থানীয় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই বলছেন, উৎসবের রাতেও এই ধরনের নৃশংস ঘটনা ঘটতে পারে, তা কল্পনা করাও কঠিন। প্রতিবেশী রামাকৃষ্ণা শেঠি (Ramakrishna Shetty) বলেন, “আমরা ওই সময় আতশবাজির শব্দে কিছুই বুঝতে পারিনি। পরে পুলিশের সাইরেন শুনে বাইরে বেরিয়ে দেখি চারদিক ঘিরে ফেলা হয়েছে।”

পুলিশ সূত্রের খবর, অভিযুক্তদের বয়স ২৫ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে। তাঁদের মধ্যে দু’জন এলাকারই বাসিন্দা এবং অতীতে ক্ষুদ্র অপরাধে জড়িত ছিল বলে জানা গেছে। তদন্তে তাঁদের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট ও কল রেকর্ডও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রসঙ্গত, কলকাতা ও পূর্ব ভারতের বহু তরুণ-তরুণী কর্মসূত্রে বেঙ্গালুরুতে যান। কিন্তু বারবার এমন ঘটনার পর সেখানে মহিলা নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। নাগরিক সমাজের দাবি, বেঙ্গালুরু পুলিশ ও প্রশাসনের উচিত ‘নিরাপদ পিজি জোন’ তৈরির মাধ্যমে মেয়েদের জন্য নিরাপদ বাসস্থান নিশ্চিত করা।সামাজিক বিশ্লেষক সুবীর দত্ত বলেন, “বেঙ্গালুরু এখন ভারতের আইটি রাজধানী, কিন্তু নৈতিকতার রাজধানী নয়। কর্মক্ষেত্রে নারীর ভূমিকা যতই গুরুত্বপূর্ণ হোক না কেন, যদি সমাজ তার নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়, তবে উন্নয়ন অর্থহীন।”

বর্তমানে পুলিশ অভিযুক্তদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। তদন্তে ফরেনসিক রিপোর্ট ও ডিজিটাল প্রমাণ মিলিয়ে একটি চার্জশিট প্রস্তুত করা হচ্ছে। এই ঘটনায় আবারও স্পষ্ট, নারীর নিরাপত্তা এখনও দেশের বহু শহরে অন্ধকারে ঢাকা এক অধ্যায়। দীপাবলির আলো নিভে গেলেও, বিচার ও ন্যায়বিচারের দাবিতে এই তরুণীর লড়াই চলবে,  সেটাই সমাজের একমাত্র প্রত্যাশা।

ছবি : সংগৃহীত ও প্রতীকী 

আরও পড়ুন : gang rape Gurugram, gym trainer arrested | গুরুগ্রামে শিক্ষিকাকে পার্টিতে ডেকে নিয়ে গণধর্ষণ, চার জিম প্রশিক্ষক গ্রেফতার

Sasraya News
Author: Sasraya News

Leave a Comment

আরো পড়ুন