Kejriwal supports Mamata Banerjee | ভোটের আগে বড় বার্তা কেজরীবালের, ফোনে মমতার পাশে কেজরীবাল, ‘গণতন্ত্রের লড়াইয়ে পূর্ণ সমর্থন’ দাবি আপ প্রধানের

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণ শুরুর ঠিক আগের দিন রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে এক ফোনালাপ ঘিরে। তৃণমূল কংগ্রেস -এর নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee) সরাসরি ফোন করে সমর্থনের বার্তা দিলেন আম আদমি পার্টি (Aam Aadmi Party) -এর প্রধান অরবিন্দ কেজরীবাল (Arvind Kejriwal)। বুধবার এই ফোনালাপের কথা নিজেই সমাজমাধ্যমে প্রকাশ করেন কেজরীবাল, যা ঘিরে নতুন করে জোরদার হয়েছে বিরোধী রাজনীতির সমীকরণ। সমাজমাধ্যমে কেজরীবাল লিখেছেন, ‘এইমাত্র ফোনে মমতাদিদির সঙ্গে কথা বললাম। সম্পূর্ণ সংহতি ও সমর্থন প্রকাশ করেছি। তিনি সবচেয়ে কঠিন লড়াইগুলির একটি লড়ছেন, যা ভারতীয় গণতন্ত্রের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ লড়াইগুলির একটি।’ তাঁর এই মন্তব্য রাজনৈতিক পর্যবেক্ষণে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে, কারণ ভোটের প্রাক্কালে এমন সরাসরি সমর্থন বিরোধী শিবিরে নতুন বার্তা বহন করে।

আরও পড়ুন : Narendra Modi Jhargram rally, West Bengal Election 2026 | ঝাড়গ্রামে নরেন্দ্র মোদীর সভা: অনুপ্রবেশ ইস্যুতে তীব্র আক্রমণ, একাধিক প্রতিশ্রুতিতে ভোটের ডাক

এই ফোনালাপের মধ্য দিয়ে শুধু ব্যক্তিগত সৌজন্য নয়, বৃহত্তর রাজনৈতিক অবস্থানও তুলে ধরেছেন কেজরীবাল। তিনি একই পোস্টে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India) এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর কথায়, ‘সিইসি-সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে ব্যবহার করেও মোদীজি শেষ পর্যন্ত হারবেন।’ এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বেড়েছে। প্রসঙ্গত, এর আগের দিন তামিলনাড়ুতে (Tamil Nadu) ডিএমকে (DMK), কংগ্রেস (Congress) এবং বামপন্থী দলগুলির প্রচারে অংশ নিয়েছিলেন কেজরীবাল। সেখানে তিনি বিজেপি (BJP) -এর বিরুদ্ধে বিভাজনের রাজনীতি করার অভিযোগ তোলেন। সেই ধারাবাহিকতায় পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের প্রেক্ষাপটেও কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, কেজরীবালের এই পদক্ষেপ শুধুমাত্র সমর্থনের বার্তা নয়, বরং বিরোধী জোটের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর ইঙ্গিতও বহন করছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় রাজনীতিতে বিরোধী দলগুলির মধ্যে সমন্বয়ের যে আলোচনা চলছে, তার মধ্যে এই ফোনালাপ একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবে উঠে আসছে। গত সপ্তাহেই লোকসভায় (Lok Sabha) মহিলা সংরক্ষণ বিল এবং আসন পুনর্বিন্যাস নিয়ে কেন্দ্রের উদ্যোগ ঘিরে বিরোধী দলগুলি একজোট হয়ে প্রতিবাদ জানায়। সেই আবহে কেজরীবালের এই সক্রিয়তা রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, বিরোধী শক্তিকে একত্রিত করার ক্ষেত্রে এই ধরনের যোগাযোগ ভবিষ্যতে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন বরাবরই জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রে থাকে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেস দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। অন্যদিকে বিজেপিও এই রাজ্যে নিজেদের প্রভাব বিস্তার করতে আগ্রহী। ফলে এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা অত্যন্ত তীব্র।

এই প্রেক্ষাপটে কেজরীবালের সরাসরি সমর্থন তৃণমূলের জন্য মনস্তাত্ত্বিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। যদিও তৃণমূলের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি, তবে রাজনৈতিক অন্দরে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা অব্যাহত। নির্বাচনের আগে এই ধরনের বার্তা ভোটারদের উপর কতটা প্রভাব ফেলবে, তা সময়ই বলবে। তবে বিরোধী শিবিরে সমন্বয়ের বার্তা যে জোরদার হয়েছে, তা নিয়ে সন্দেহ নেই। কেজরীবালের বক্তব্যে জাতীয় স্তরে রাজনৈতিক লড়াইয়ের যে ছবি উঠে এসেছে, তা পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী আবহকেও প্রভাবিত করতে পারে। একই সঙ্গে এই ঘটনাকে ঘিরে কেন্দ্রীয় রাজনীতিতেও নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। শাসক ও বিরোধী, দুই পক্ষের মধ্যেই পাল্টা মন্তব্যের সম্ভাবনা রয়েছে। নির্বাচনের আগে এমন পরিস্থিতি রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে।
ভোটের ঠিক আগে এই ফোনালাপ যে শুধুমাত্র একটি সাধারণ যোগাযোগ নয়, বৃহত্তর রাজনৈতিক বার্তা বহন করছে, তা স্পষ্ট। আগামী দিনে এই ধরনের যোগাযোগ আরও বাড়বে কি না, সেটাই এখন দেখার।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : West Bengal Election 2026 analysis, Bengal vote war TMC BJP | ভোট যুদ্ধ ২০২৬: বাংলার মাটিতে ক্ষমতার মহারণ, কার দখলে যাবে নবান্ন?

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন