সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা জোরদার করতে বড় সিদ্ধান্ত নিল নির্বাচন কমিশন। ভোটকেন্দ্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে চালু করা হল নতুন বিধি, যেখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন বুথ লেভেল অফিসার বা বিএলও। কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, প্রতিটি বুথে চালু থাকবে ‘ভোটার সহায়তা কেন্দ্র’ (Voter Assistance Booth), এবং সেখানে উপস্থিত বিএলও-ই নির্ধারণ করবেন কোন ভোটার লাইনে দাঁড়ানোর অনুমতি পাবেন। কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, ভোটগ্রহণ শুরুর আগেই সহায়তা বুথে হাজির থাকবেন বিএলও এবং তাঁর সহকারী। তাঁদের কাছেই থাকবে সংশ্লিষ্ট বুথের সম্পূর্ণ ভোটার তালিকা। ভোটারদের নাম, সিরিয়াল নম্বর খুঁজে বের করা থেকে শুরু করে পরিচয় যাচাই, সবটাই করতে হবে তাঁদের। এক আধিকারিকের কথায়, ‘ভোটার তালিকার সঙ্গে মিলিয়ে পরিচয় নিশ্চিত না হলে কাউকে লাইনে দাঁড়াতে দেওয়া হবে না।’
নতুন এই ব্যবস্থায় ভোটারদের বুথে প্রবেশের আগে একাধিক ধাপ পেরোতে হবে। প্রথমে সহায়তা কেন্দ্রে গিয়ে নিজের নাম তালিকায় খুঁজে বের করতে হবে। এরপর বৈধ পরিচয়পত্র দেখাতে হবে বিএলও-কে। তালিকায় থাকা ছবির সঙ্গে ভোটারের মুখ মিলিয়ে দেখা হবে। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে তবেই ভোটারকে লাইনে দাঁড়ানোর অনুমতি দেওয়া হবে। একই সঙ্গে বিএলও-কে খেয়াল রাখতে হবে ভোটারের বাঁ হাতের তর্জনীতে আগে থেকে কালি দেওয়া আছে কি না। মহিলা ভোটারদের ক্ষেত্রেও রাখা হয়েছে বিশেষ বিধান। যাঁরা মুখ ঢেকে ভোট দিতে আসবেন, তাঁদের পরিচয় যাচাইয়ের দায়িত্বে থাকবেন মহিলা কর্মীরা। এতে নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত মর্যাদা, দু’দিকই বজায় থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে। প্রতিটি সহায়তা বুথে দু’জন করে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান মোতায়েন থাকবে। তাঁদের কাজ হবে গোটা প্রক্রিয়ার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। ভোটকর্মী, ইভিএম (EVM বা Electronic Voting Machine), ওয়েব ক্যামেরা, ভোটের সরঞ্জাম এবং সহায়তা বুথে কর্মরতদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে তাঁদের। কোনও রকম উত্তেজনা বা অশান্তি দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
২৩ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গে প্রথম দফার বিধানসভা ভোট অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, এই দফার ভোটে মোট ২,৪০৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে। নিরাপত্তার এই ব্যাপক বন্দোবস্তের মধ্যেই নতুন নিয়ম কার্যকর হতে চলেছে। প্রথম দফার ভোটে উত্তরবঙ্গের প্রায় সমস্ত জেলাই অন্তর্ভুক্ত। দার্জিলিং (Darjeeling), কালিম্পং (Kalimpong), জলপাইগুড়ি (Jalpaiguri), আলিপুরদুয়ার (Alipurduar), কোচবিহার (Cooch Behar), উত্তর দিনাজপুর (Uttar Dinajpur), দক্ষিণ দিনাজপুর (Dakshin Dinajpur) এবং মালদহ (Malda) এই জেলাগুলিতে এই পর্যায়েই ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হবে। পাশাপাশি জঙ্গলমহল অঞ্চলের ঝাড়গ্রাম (Jhargram), পুরুলিয়া (Purulia), বাঁকুড়া (Bankura) জেলাতেও একই দিনে ভোট রয়েছে। এছাড়াও বীরভূম (Birbhum), মুর্শিদাবাদ (Murshidabad), পূর্ব মেদিনীপুর (Purba Medinipur), পশ্চিম মেদিনীপুর (Paschim Medinipur) এবং পশ্চিম বর্ধমান (Paschim Bardhaman) জেলাও প্রথম দফার অন্তর্ভুক্ত। ফলে রাজ্যের একটি বড় অংশেই একসঙ্গে ভোটের আবহ তৈরি হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম দফায় মোট ১৫২টি আসনে ভোটগ্রহণ হবে। এই আসনগুলিতে লড়াই করছেন মোট ১,৪৭৮ জন প্রার্থী। সংখ্যার দিক থেকে কোচবিহার দক্ষিণ (Cooch Behar Dakshin) এবং ইটাহার (Itahar) আসনে সবচেয়ে বেশি প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রতিটি আসনে প্রার্থীর সংখ্যা ১৫। নতুন এই নিয়ম চালুর ফলে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া আরও সুশৃঙ্খল ও নিয়ন্ত্রিত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। ভোটারদের পরিচয় যাচাইয়ের ক্ষেত্রে একাধিক স্তর থাকায় ভুয়ো ভোট বা অনিয়ম রোধে সহায়ক হতে পারে এই ব্যবস্থা। পাশাপাশি ভোটারদেরও আগে থেকে প্রস্তুত হয়ে বুথে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে পরিচয়পত্র, সিরিয়াল নম্বরসহ প্রয়োজনীয় তথ্য সঙ্গে থাকে। ভোটের দিন যাতে অযথা ভিড় বা বিভ্রান্তি না তৈরি হয়, তার জন্যই এই সহায়তা বুথ ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। নির্বাচন কমিশন এই ব্যবস্থাকে ভোটারদের সুবিধা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরেছে।
ছবি : সংগৃহীত ও প্রতীকী
আরও পড়ুন : Election Commission voter list correction | ট্রাইবুনালের রায়ে বড় বদল, তালিকায় ফিরল ১৩৯ ভোটার, বাদ পড়ল আরও ৮, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় নতুন সমীকরণ



