পরিধি চক্রবর্তী ✪ সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক : বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী ক্যাটরিনা কইফ (Katrina Kaif) আজ যে বিষয়ে কথা বলেছেন, তা নিয়ে বহু সম্পর্কেই ঝড় ওঠে। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে স্বচ্ছতা থাকাটা যেমন জরুরি, তেমনই ব্যক্তিগত পরিসরের সম্মানও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। তিন বছর ধরে বিবাহিত জীবন কাটাচ্ছেন ক্যাটরিনা ও ভিকি কৌশল (Vicky Kaushal)। সম্পর্ক সুখের, বোঝাপড়াও দারুণ। কিন্তু, ব্যক্তিগত পরিসর রক্ষা করার বিষয়ে দু’জনেই অত্যন্ত সচেতন। সম্প্রতি অভিনেতা আরবাজ খান (Arbaaz Khan)-এর একটি পডকাস্টে অংশ নিয়ে ক্যাটরিনা বলেন, ‘আমি কখনও বিনা অনুমতিতে কারও ফোনে হাত দিই না। এমনকী যদি কোনও ছবি তুলতেও হয়, তাও আমি শুধু প্রয়োজনীয় অংশেই সীমাবদ্ধ থাকি, স্ক্রল করি না। প্রত্যেকেরই একটা ব্যক্তিগত পরিসর থাকা উচিত, আর তাকে সম্মান করাই ভালবাসা।’

ক্যাটরিনার এই মন্তব্য আজকের দিনে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। কারণ বহু সম্পর্কেই ব্যক্তিগত পরিসর না থাকা বা তার সীমা অতিক্রম করার ফলেই শুরু হয় অশান্তি, সন্দেহ, এমনকী বিচ্ছেদও। সম্পর্কবিষয়ক বিশেষজ্ঞ ও মনোবিদদের মতে, বিশ্বাস না থাকলে সম্পর্ক টিকে না। আর বিশ্বাস তৈরির জন্য সবচেয়ে জরুরি হল পারস্পরিক সম্মান।গুরুগ্রামের মনোবিদ গুরলীন বড়ুয়া (Gurleen Barua) বলেন, ‘বিনা অনুমতিতে সঙ্গীর ফোন দেখা বা মেসেজ পড়া কখনওই সম্পর্কের পক্ষে স্বাস্থ্যকর নয়। যদি তাতে সন্দেহের ভিত্তি থাকে, তবু না। কারণ বিশ্বাসের অভাব থেকেই এসব কাজ শুরু হয়, আর সেই বিশ্বাসের টানই শেষ পর্যন্ত সম্পর্ককে শেষ করে দেয়।’
এই বিষয়ে সমর্থন জানিয়ে মনোচিকিৎসক শর্মিলা চক্রবর্তী (Sharmila Chakraborty) বলেন, ‘সন্দেহ হলে ফোন ঘাঁটার আগে খোলাখুলি কথা বলাটাই বেশি কার্যকরী। ফোন দেখা মানেই গোপনে নজরদারি। অথচ মুখোমুখি আলোচনায় অধিকাংশ সমস্যার সমাধান হয়।’ কিন্তু, অনেকেই প্রশ্ন তোলেন, সম্পর্কের মধ্যে গোপনীয়তার প্রয়োজন কী? মনোবিদদের মতে, গোপন কিছু রাখা মানেই প্রতারণা নয়। কেউ নিজের একটি নির্দিষ্ট জায়গা নিজের মধ্যেই রাখতে চাইলে তাতে সমস্যা নেই, যতক্ষণ না তা সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

বিশ্বাস, খোলামেলা ভাবনা ও একে অপরকে বোঝার মানসিকতাই সম্পর্কের ভিত গড়ে তোলে। যতটা কম সন্দেহ, ততটাই মজবুত হয় সম্পর্ক। এই প্রসঙ্গে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক উঠে আসে, প্রতারণা। কেন অনেকেই দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কে থেকেও সঙ্গীকে ঠকান? কেন কেউ গোপনে অন্য সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন?মনোবিশ্লেষক অনুরাধা সেনগুপ্ত (Anuradha Sengupta) জানাচ্ছেন, ‘প্রতারণার প্রধান কারণ একটাই, নিজেকে বুঝতে না পারা ও সম্পর্কের মধ্যেও একাকিত্ব অনুভব করা। যখন কেউ নিজের অনুভব সঙ্গীর সঙ্গে ভাগ করে নিতে পারেন না, তখনই শুরু হয় বাইরের আশ্রয়ের খোঁজ।’

বিশ্লেষকরা এই প্রবণতার ক’য়েকটি মূল কারণ হিসেবে যা উল্লেখ করেন
◑আত্মবিশ্বাসের অভাব: নিজের প্রতি বিশ্বাস না থাকলে বাইরের কেউ প্রয়োজন হয়ে পড়ে, যার কাছে নিজের দুর্বলতাও বলা যাবে বিচারহীনভাবে।
◑একঘেয়েমি: দীর্ঘদিনের সম্পর্ক অনেক সময় রোমাঞ্চ হারায়। তখন কেউ কেউ নতুন অভিজ্ঞতার খোঁজে অন্য সম্পর্কে জড়ান।
◑একাকিত্ব: সঙ্গী পাশে থাকলেও মানসিকভাবে পাশে না থাকলে তৈরি হয় ফাঁকা জায়গা, যা অন্য কেউ পূরণ করতে আসে।
◑মানসিক বিচ্ছিন্নতা: যখন একজন অনুভব করেন, তিনি আর ভালবাসা পাচ্ছেন না বা সঙ্গী তাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না, তখনই অন্য কারও প্রয়োজন অনুভব করেন।
◑সমাজমাধ্যমের প্রভাব: ডিজিটাল দুনিয়ায় বহু বিকল্প মানুষের সহজলভ্যতা অনেক সময় অবচেতনভাবেই সম্পর্কের বাইরে পা ফেলতে প্রলুব্ধ করে।
কিন্তু, এ সবের মধ্যেও বারবার উঠে আসে একটা কথা প্রতারণা নয়, সম্পর্ক বাঁচানোর উপায় খুঁজতে গেলে ‘কথা বলুন’। কারণ প্রতারণার আগেই সুযোগ থাকে স্বচ্ছতাকে। যাঁরা সেই সুযোগ নেন না, তাঁরাই অবশেষে ঠকান কিংবা ঠকেন। ক্যাটরিনা ও ভিকির দাম্পত্য জীবনের উদাহরণ আজকের যুগে অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণা হতে পারে। যেখানে প্রেম আছে, বিশ্বাস আছে, ও তার চেয়েও বেশি রয়েছে একে অপরের ব্যক্তিসত্তাকে সম্মান জানানোর মানসিকতা। সম্পর্কের ক্ষেত্রে এই তিনটি বিষয়, প্রেম, বিশ্বাস এবং সম্মান-ই আজকের দিনে সবচেয়ে জরুরি।
ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Salman Khan marriage | প্রাক্তন প্রেমিকার জন্মদিনে হাজির সলমন, বিয়ের ইঙ্গিতেই কি উষ্ণতা?


