সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে উত্তপ্ত রাজনীতির আবহে হঠাৎই কলকাতায় উপস্থিত হলেন বলিউড অভিনেত্রী ও বিজেপি সাংসদ কঙ্গনা রানাওয়াত (Kangana Ranaut)। ভোটের প্রচার যখন চূড়ান্ত পর্যায়ে, তখন তাঁর এই সফর ঘিরে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। শুধুই কি ধর্মীয় উদ্দেশ্যে কালীঘাট (Kalighat) মন্দিরে পুজো দিতে এলেন তিনি, নাকি এর নেপথ্যে রয়েছে রাজনৈতিক বার্তা, এই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষের আলোচনায়। মঙ্গলবার সকালে শহরে পৌঁছে সরাসরি কালীঘাট মন্দিরে যান কঙ্গনা। পরনে হালকা গোলাপি রঙের পৈঠানি শাড়ি, কমলা রঙের চওড়া পাড় এবং গলায় ভারী অলঙ্কার, রাজকীয় সাজেই তিনি মন্দিরে প্রবেশ করেন। মা কালী (Goddess Kali) -এর দর্শন ও পুজোর পাশাপাশি নকুলেশ্বর ভৈরব (Nakuleshwar Bhairav) মন্দিরেও পুজো দেন তিনি। মন্দির প্রাঙ্গণে তাঁর উপস্থিতি ঘিরে ভিড় জমে যায়, অনেকেই তাঁকে দেখতে এবং ছবি তুলতে আগ্রহ দেখান। পুজো দেওয়ার পর কঙ্গনা রনৌত বলেন, ‘আমি বরাবরই শক্তির উপাসক। আজ কালীমায়ের ডাকে এখানে এসেছি।’ তাঁর কথায়, ‘আমি দেশের মঙ্গল কামনা করে পুজো দিয়েছি, তবে বিশেষ করে বাংলার মেয়েদের জন্য প্রার্থনা করেছি।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘এখানকার মেয়েরা যেন সুরক্ষা পায়, ন্যায় পায়, এই কামনাই করেছি মা কালীকে।’

আরও পড়ুন : Kangana Ranaut diamond ring viral | গোপনে বাগদান সারলেন কঙ্গনা রানাওয়াত? নেটদুনিয়ায় তুমুল জল্পনা
কঙ্গনার এই মন্তব্য ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক তাৎপর্য বহন করছে বলে মনে করছেন অনেকে। কারণ, নির্বাচনের আগে বাংলার নারী সুরক্ষা নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ইতিমধ্যেই একাধিকবার সরব হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে তাঁর এই মন্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘আসন্ন নির্বাচনে বিজেপি (Bharatiya Janata Party) -এর ফল ভাল হোক, সেই প্রার্থনাও করেছি।’ এই মন্তব্যের পর তাঁর সফর যে শুধুই ধর্মীয় ছিল না, বরং রাজনৈতিক বার্তাও বহন করছে, এমন ধারণা জোরালো হয়েছে। তবে কঙ্গনা সরাসরি কোনও প্রার্থীর হয়ে প্রচারে নামবেন কি না, সে বিষয়ে তিনি মুখ খোলেননি। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এড়িয়ে যান এই প্রসঙ্গ। তাঁর সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়া, ‘আমি এখানে পুজো দিতে এসেছি, মানুষের মঙ্গল কামনা করেছি।’ কিন্তু রাজনৈতিক মহলে আলোচনা থামেনি। বিজেপির পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো না হলেও, সূত্রের খবর, কঙ্গনার এই সফরকে ঘিরে একাধিক কর্মসূচি পরিকল্পনা করা হয়েছিল। যদিও শেষ মুহূর্তে তা পরিবর্তন হয়েছে কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে।
কঙ্গনা রানাওয়াত বর্তমানে বিজেপির সাংসদ, এর আগেও বিভিন্ন রাজনৈতিক ইস্যুতে সরব হয়েছেন। তাঁর মন্তব্য এবং অবস্থান প্রায়ই বিতর্কের জন্ম দেয়। ফলে নির্বাচনের মুখে তাঁর কলকাতা সফর যে নজর কেড়েছে, তা বলাই বাহুল্য। কালীঘাট মন্দির বাংলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় কেন্দ্র। ভোটের আগে এই মন্দিরে বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের আগমন নতুন কিছু নয়। অতীতেও একাধিক নেতা-নেত্রী এখানে পুজো দিয়ে নিজেদের রাজনৈতিক কর্মসূচী শুরু করেছেন। সেই ধারাবাহিকতায় কঙ্গনার এই সফরও নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এদিন মন্দিরে উপস্থিত সাধারণ দর্শনার্থীদের মধ্যেও কৌতূহল ছিল তুঙ্গে। অনেকেই মনে করছেন, ‘নির্বাচনের আগে এই ধরনের সফর মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর একটি উপায়।’ আবার কেউ কেউ বলছেন, ‘এটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ধর্মীয় বিশ্বাসের অংশ হতে পারে।’ রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি যখন ক্রমশ উত্তপ্ত হচ্ছে, তখন এই ধরনের সফর এবং মন্তব্য যে নির্বাচনী সমীকরণে প্রভাব ফেলতে পারে, তা অস্বীকার করা যায় না। বিশেষ করে নারী সুরক্ষা, উন্নয়ন এবং সামাজিক ইস্যুগুলি এখন ভোটের অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয়।
কঙ্গনা তাঁর বক্তব্যের শেষে বলেন, ‘আমি চাই বাংলার মানুষের মঙ্গল হোক।’ এই সংক্ষিপ্ত মন্তব্যই যেন তাঁর সফরের সারমর্ম তুলে ধরেছে। তবে তাঁর এই সফর শুধুই পুজোতে সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি আগামী দিনে তাঁকে প্রচারের ময়দানে দেখা যাবে, তা সময়ই বলবে। ভোটের আগে এই ধরনের প্রতিটি ঘটনা এখন রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। কঙ্গনা রনৌতের কালীঘাট সফরও তার ব্যতিক্রম নয়। তাঁর প্রার্থনা, মন্তব্য এবং উপস্থিতি, এই সফর এখন নির্বাচনী আলোচনার কেন্দ্রে জায়গা করে নিয়েছে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Kangana Ranaut Birthday Meeting Modi | ৪০ -এ কঙ্গনা: প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জন্মদিন উদ্যাপন, কী উপহার পেলেন?




