Kanchrapara : দোকানের বিরুদ্ধে ভুল ওষুধ দেওয়ার অভিযোগ
সুভাষ সরকার ★ সাশ্রয় নিউজ, উত্তর চব্বিশ পরগণা : উত্তর ২৪ পরগনা জেলার কাঁচরাপাড়ার একটি ওষুধের দোকানের ওপর রোগীকে ভুল ওষুধ দেওয়ার অভিযোগ করেছেন রোগীর পরিবার। রোগীর পরিবারের অভিযোগ, গত ১৩ জানুয়ারি আমাদের ছেলেকে ডাক্তার দেখাই। ডাক্তার আরও অন্যান্য ওষুধের সঙ্গে Deflax-6 নামে একটি ওষুধ প্রেসক্রিপশন করেন। ‘নিউ অর্চনা ফার্মেসী’ নামে একটি ওষুধের দোকান থেকে ওষুধগুলি কিনি। ডাক্তারবাবুকে ওষুধগুলি কেনার পরে দেখাতে গেলে, তিনি প্রেসক্রিপশনে গোল করে ঘিরে দিয়ে বলেন, এই ওষুধটি ভুল দিয়েছেন। ডাক্তারবাবুর কথা মতো আমরা ওই দোকানে গিয়ে বলি, ডাক্তারকে না জেনে ভুল ওষুধ দিয়েছেন কেন? নিউ অর্চনা ফার্মেসী-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়, “একই কম্পোজিশনের ওষুধ।” এবং আমাদের সঙ্গে অপমানজনক কথাবার্তা বলেন। রোগীর পরিবার সংবাদমাধ্যমে বিষয়টি সম্পর্কে অভিযোগ করেন।

কাঁচরাপাড়ার ওই দোকানের মালিক সুব্রত পাল-এর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, “আমরা ঠিক ওষুধই দিয়েছি। একই কম্পোজিশনের ওষুধ।” এবং রোগীর পরিবার মিথ্যে নিউজ দিয়েছে বলে সুব্রত পাল নামে ওই ওষুধ দোকান মালিক আক্রোশের সঙ্গে বলেন “আপনারা “ফেক” নিউজ করলে আপনাদের ক্ষতি হয়ে যাবে।” এবং ব্যস্ততার অজুহাত দেখিয়ে তিনি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আর কথা বলতে চাননি। জনৈক রোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, সুব্রত বাবু মিথ্যে কথা বলছেন বলে অভিযোগ।
রোগী আমান দেব-এর চিকিৎসক ডা: শান্তনু ব্যানার্জি-এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, “সে মেডিসিনের কম্পোজিশন হয়ত ঠিক দিয়েছিলেন, কিন্তু আমাকে জিজ্ঞেস করেই তিনি দিতে পারতেন।” তাহলে দেখা যায় যে, ভুল নিউ অর্চনা ফার্মেসীরই ছিল। ভবিষ্যতে যেন এমন ভুল না হয়, যেখানে চিকিৎসককে জিজ্ঞাসা না করেই ওষুধ দোকানদার নিজেরাই যদি অন্য কোম্পানির ওষুধ দিতে যান, তাহলে রোগীর অনেক বড় ক্ষতি হয়ে যেতে পারে বলে তাঁর পরামর্শ। শান্তনু বাবু এ-প্রসঙ্গে আরও জানান যে, “যেহেতু একটি মেডিসিন আরও একাধিক কোম্পানির কম্পোজিশনের মেডিসিন হলেও, অনেক সময় কম্পোজিশনে যে সমস্ত মেটেরিয়ালস থাকে তা অনেক ক্ষেত্রেই কম বেশি থাকে। সেক্ষেত্রে প্রবলেম হয় বলেই যে ওষুধটি প্রয়োজন সে ওষুধটিই লেখা হয়। ওই ওষুধ না পেলে তখন আমাদের জেনে নিয়ে অন্য কোম্পানির ওষুধ দেওয়া ঠিক।”

উল্লেখ্য যে, রোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ, ‘নিউ অর্চনা ফার্মেসী’ থেকে তাঁদেরকে ওষুধের বিলও দেওয়া হয়নি। সাদা কাগজে ওষুধের মূল্য লিখে দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে সুব্রত বাবু জানান, ”বিল না চাইলে তো আমরা বিল দিই না। বিল চাইলে তখন বিল দিই। কারও যদি তাড়াহুড়ো থাকে, বিল না নিতে চায়, আমি তো তাকে জোর করে বিল দিতে পারি না।”




