Kalendranath Mandi BJP | ‘বঙ্গভূষণ’ কলেন্দ্রনাথ মান্ডির দলবদল, তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ, রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মোড়

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ভোটের আগে আবারও বড় চমক। তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপি’তে যোগ দিলেন পুরুলিয়ার পরিচিত মুখ, ‘বঙ্গভূষণ’ সম্মানপ্রাপ্ত সাঁওতালি সাহিত্যিক ও জেলা পরিষদের সদস্য কলেন্দ্রনাথ মান্ডি (Kalendranath Mandi)। বৃহস্পতিবার বিধাননগরে বিজেপির রাজ্য দফতরে আনুষ্ঠানিকভাবে পদ্ম শিবিরে যোগ দেন তিনি। উপস্থিত ছিলেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya) এবং পুরুলিয়ার সাংসদ তথা দলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক জ্যোতির্ময় সিংহ মাহাতো (Jyotirmoy Singh Mahato)।

আরও পড়ুন : Rajanya Haldar Sonarpur, Niamal Nasir Raninagar Independent candidate | সোনারপুরে নির্দল লড়াইয়ে রাজন্যা, রানিনগরে কবি নিয়ামাল নাসির, বিধানসভা ভোটে নতুন সমীকরণে তৃণমূলকে চ্যালেঞ্জ

এই দলবদলকে ঘিরে ইতিমধ্যেই জঙ্গলমহলের রাজনীতিতে চর্চা শুরু হয়েছে। কারণ কলেন্দ্রনাথ মান্ডি শুধু একজন জনপ্রতিনিধি নন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে সাঁওতালি ভাষা ও সংস্কৃতির এক পরিচিত মুখ। ১৯৭৮ সাল থেকে কবিতা, গল্প, নাটক এবং প্রবন্ধ রচনার মাধ্যমে তিনি সাহিত্যচর্চায় যুক্ত। পাশাপাশি ভাষাতত্ত্ব নিয়েও তাঁর কাজ উল্লেখযোগ্য। সমাজের নানা সমস্যার বিরুদ্ধে তিনি দীর্ঘদিন ধরে সরব, বিশেষ করে ডাইনিপ্রথার মতো কুসংস্কারের বিরুদ্ধে তাঁর আন্দোলন বহু মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে বান্দোয়ান ব্লকের একটি আসন থেকে তৃণমূলের টিকিটে জয়ী হয়ে জেলা পরিষদের সদস্য হন কলেন্দ্র। এর কিছুদিন আগেই, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) -এর হাত থেকে ‘বঙ্গভূষণ’ সম্মান গ্রহণ করেন তিনি। সেই জায়গা থেকে কয়েক মাসের মধ্যেই তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান বদল রাজনীতিতে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর কলেন্দ্রনাথ মান্ডি বলেন, ‘আমি মানুষের জন্য কাজ করতে চাই। সমাজের যে সমস্যাগুলি দীর্ঘদিন ধরে দেখছি, সেগুলির সমাধানের জন্য বৃহত্তর পরিসরে কাজ করার প্রয়োজন রয়েছে।’ তিনি আরও জানান, তাঁর লেখা ইতিমধ্যেই সিধো-কানহো-বীরসা বিশ্ববিদ্যালয় (Sidho Kanho Birsha University) এবং ঝাড়গ্রাম সাধু রামচাঁদ মুর্মু বিশ্ববিদ্যালয় (Jhargram Sadhu Ramchand Murmu University) -এর পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। অন্যদিকে কলেন্দ্রর এই যোগদানকে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে তুলে ধরেছেন বিজেপি নেতৃত্ব। জ্যোতির্ময় সিংহ মাহাতো বলেন, ‘কলেন্দ্রনাথ মান্ডি জঙ্গলমহলের মানুষের কাছে পরিচিত নাম। তিনি আদিবাসী ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতিনিধিত্ব করেন। তাঁর বিজেপিতে আসা জনজাতি সমাজের কাছে একটি বড় ইঙ্গিত।’ তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘তৃণমূলের আমলে আদিবাসী সমাজ বঞ্চনার শিকার হয়েছে এবং সেই ক্ষোভই আগামী নির্বাচনে প্রতিফলিত হবে।’ প্রসঙ্গত, জঙ্গলমহলের রাজনীতিতে গত কয়েক মাসে একাধিক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কুড়মি আন্দোলনের অন্যতম নেতা অজিত মাহাতো (Ajit Mahato) ইতিমধ্যেই বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। তাঁর পুত্র রাজেশ মাহাতো (Rajesh Mahato) ঝাড়গ্রামের গোপীবল্লভপুর কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হয়েছেন। একইভাবে, কুড়মি আন্দোলনের আর এক নেতা বিশ্বজিৎ মাহাতোকে (Biswajit Mahato) পুরুলিয়ার জয়পুর আসনে প্রার্থী করেছে বিজেপি।

এই ধারাবাহিকতায় কলেন্দ্রনাথ মান্ডির যোগদান বিজেপির সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় তাঁর প্রভাব ভোটের অঙ্কে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া না এলেও, এই দলবদল যে তাদের জন্য চাপ তৈরি করবে, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। কারণ, কলেন্দ্র শুধু রাজনৈতিক নেতা নন, তিনি সমাজ ও সংস্কৃতির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত একজন ব্যক্তি। ফলে তাঁর অবস্থান পরিবর্তন স্থানীয় ভোটারদের মনোভাবেও প্রভাব ফেলতে পারে। রাজনৈতিক বিশ্লেষণে উঠে আসছে, জঙ্গলমহল বরাবরই রাজ্যের নির্বাচনে একটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল। এখানে জনজাতি সমাজের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে একের পর এক প্রভাবশালী মুখের দলবদল নির্বাচনের আগে সমীকরণ বদলে দিতে পারে। তবে কলেন্দ্রনাথ মান্ডির এই পদক্ষেপ ভবিষ্যতে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা এখনই বলা কঠিন। তবে তাঁর মতো একজন সাহিত্যিক ও সমাজকর্মীর রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত যে ভোটের লড়াইকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলবে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Samik Bhattacharya, Rajya Sabha debate on heritage | আদিনাথ মন্দির নিয়ে সংসদে তীব্র বিতর্ক: মালদার ঐতিহ্য রক্ষায় জরুরি হস্তক্ষেপের দাবি বিজেপি সাংসদ শমীক ভট্টাচার্যের

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন