Justice BR Gavai, Chief Justice of India appointment | অটুট রইল প্রথা, উত্তরসূরি হিসেবে সূর্য কান্তকেই বাছলেন দেশের প্রধান বিচারপতি গভাই

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি, ২৭ অক্টোবর: ভারতের বিচারব্যবস্থায় দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য মেনে আবারও অটুট থাকল উত্তরসূরি নির্বাচনের প্রথা। সুপ্রিম কোর্টের বর্তমান প্রধান বিচারপতি (Chief Justice of India) বি. আর. গভাই (B. R. Gavai) নিজের উত্তরসূরি হিসেবে মনোনীত করলেন বিচারপতি সূর্য কান্তকে (Justice Surya Kant)। দেশের বিচারব্যবস্থার সর্বোচ্চ পদে আসীন হতে চলেছেন তিনি। এখন শুধু সরকারি ঘোষণার অপেক্ষা। সোমবার সুপ্রিম কোর্টের সূত্রে জানা গিয়েছে এই খবর, যা কার্যত নিশ্চিত করেছে দেশের পরবর্তী প্রধান বিচারপতির নাম।

চলতি বছরের ২৩ নভেম্বর
মেয়াদ শেষ হচ্ছে বর্তমান প্রধান বিচারপতি বি. আর. গভাইয়ের। তাঁর মেয়াদ শেষের আগে রীতি অনুযায়ী কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে প্রধান বিচারপতির কাছে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছিল, যাতে তাঁকে তাঁর উত্তরসূরির নাম প্রস্তাব করার অনুরোধ জানানো হয়। সংবিধান অনুযায়ী, প্রধান বিচারপতি নিজের উত্তরসূরির নাম প্রস্তাব করে সেই চিঠি ফেরত পাঠান কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রকের (Law Ministry) কাছে। এবারও সেই প্রক্রিয়াই অনুসরণ করা হয়েছে। জানা গেছে, বি. আর. গভাই সেই চিঠিতে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, বিচারপতি সূর্য কান্তই হবেন তাঁর উত্তরসূরি। উল্লেখ্য, এখন দেশের সর্বোচ্চ আদালতে প্রবীণতার ক্রমে দ্বিতীয় স্থানে আছেন বিচারপতি সূর্য কান্ত। তাই প্রথা অনুযায়ী তাঁর নামই মনোনয়ন পাওয়া ছিল প্রত্যাশিত। আইন মন্ত্রকের তরফে চূড়ান্ত অনুমোদন মিললেই আগামী ২৪ নভেম্বর ২০২৫ থেকে তিনি দেশের ৫২তম প্রধান বিচারপতি (Chief Justice of India) হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন। তাঁর মেয়াদ চলবে ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৭ পর্যন্ত, অর্থাৎ প্রায় ১৫ মাস তিনি এই পদে থাকবেন।

সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি সূর্য কান্তের যাত্রা শুরু হয়েছিল ২৪ মে ২০১৯ সালে। তাঁর আগে তিনি ছিলেন হিমাচল প্রদেশ হাইকোর্টের (Himachal Pradesh High Court) প্রধান বিচারপতি। ১৯৮৪ সালে আইনজীবী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন তিনি। পরে পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্টে (Punjab and Haryana High Court) সিনিয়র অ্যাডভোকেট হিসেবে বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেন। বিচারপতি হিসেবে তাঁর বিচারধারায় ছিল একদিকে সংবিধানিক শুদ্ধতা, অন্যদিকে মানবিক সংবেদনশীলতা।আইনজীবীদের মধ্যে তাঁর নাম সর্বদা উচ্চারিত হয় একজন ‘সৎ, সংবেদনশীল ও মানবিক বিচারক’ হিসেবে। এক সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী বলেন, ‘বিচারপতি সূর্য কান্ত (Justice Surya Kant) সর্বদা চেষ্টা করেন আইনের ব্যাখ্যায় সাধারণ মানুষের ন্যায়বোধের সঙ্গে ভারসাম্য রাখতে। তিনি বিচারকের আসনে বসে কখনও ঠান্ডা মস্তিষ্ক হারাননি। এমন একজন মানুষ প্রধান বিচারপতির আসনে বসলে বিচারব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা আরও বাড়বে।”

প্রথামতো, বর্তমান প্রধান বিচারপতি নিজের উত্তরসূরি মনোনীত করেন প্রবীণতার ভিত্তিতে। ভারতের সংবিধান এই রীতি বাধ্যতামূলক না করলেও ১৯৫০ সালের পর থেকে একাধিক প্রধান বিচারপতি এই নিয়ম অনুসরণ করেছেন। কেবল একাধিক বিতর্কিত ব্যতিক্রম বাদ দিলে বিচারপতিরা এই ধারাটিই বজায় রেখেছেন। এবারের ক্ষেত্রেও সেই ঐতিহ্য রক্ষা করলেন বিচারপতি গভাই। বিচারপতি সূর্য কান্ত মূলত হরিয়ানার হিশার (Hisar) জেলার বাসিন্দা। তিনি গুরুকুল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনশাস্ত্রে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। কর্মজীবনের শুরু থেকেই তিনি সংবিধানিক ও প্রশাসনিক আইনে বিশেষ পারদর্শিতা দেখান। তাঁর বিচারিক রায়গুলিতে বারবার উঠে এসেছে ন্যায়বিচারের সামাজিক দায়বদ্ধতার কথা। ২০২১ সালে কেন্দ্রীয় সরকারের কৃষি আইন বিরোধী আন্দোলনের সময় তাঁর মন্তব্য বিশেষভাবে আলোচিত হয়েছিল, “আইন যখন জনগণের জীবনে প্রভাব ফেলে, তখন তার ন্যায়সঙ্গত প্রয়োগই গণতন্ত্রের মুখ্য শক্তি।”

সূত্রের খবর, বিচারপতি গভাই ইতিমধ্যেই তাঁর উত্তরসূরির নাম সংক্রান্ত চিঠি আইন মন্ত্রকের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছেন। কেন্দ্রীয় সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন দিলেই রাষ্ট্রপতির (President of India) আদেশে সূর্য কান্ত দেশের পরবর্তী প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নেবেন। উল্লেখ্য, সুপ্রিম কোর্টের এক সিনিয়র কর্তা বলেন, “এই প্রথা শুধুমাত্র রীতি নয়, এটি ভারতের বিচারব্যবস্থার ধারাবাহিকতা ও স্থিতিশীলতার প্রতীক।” অন্যদিকে বিচারপতি সূর্য কান্তের ঘনিষ্ঠ এক প্রাক্তন সহকর্মী জানিয়েছেন, “তিনি সর্বদা দলমত নির্বিশেষে যুক্তির ভিত্তিতে বিচার করেন। তাঁর সময়ে আদালতে বিচার হবে আরও স্বচ্ছ ও দ্রুত।” অন্যদিকে, ভারতের বিচারব্যবস্থায় বিচারপতি সূর্য কান্তের উত্থান নতুন নয়। বিভিন্ন সংবিধানিক ইস্যুতে তাঁর যুক্তি ও ব্যাখ্যা সুপ্রিম কোর্টের বহু রায়ে প্রতিফলিত হয়েছে। তাঁর প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্বগ্রহণের পর প্রশাসনিক সংস্কার ও মামলার দ্রুত নিষ্পত্তিতে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি আসবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আইনজীবী সমাজে ইতিমধ্যেই শুভেচ্ছার ঢল নেমেছে। বিচারপতি গভাইয়ের সঙ্গে বহু গুরুত্বপূর্ণ মামলায় সহবিচারক হিসেবে কাজ করেছেন সূর্য কান্ত। তাই আদালতের অভ্যন্তরীণ কাজকর্ম ও প্রশাসনিক রীতি সম্পর্কে তাঁর যথেষ্ট অভিজ্ঞতা রয়েছে। এই পটভূমিতে অনেকেই মনে করছেন, সুপ্রিম কোর্টের স্থিতিশীলতা ও ভারসাম্য বজায় থাকবে তাঁর নেতৃত্বে।

ছবি : সংগৃহীত 

আরও পড়ুন : Supreme Court India, Kolkata High Court verdict | সুপ্রিম কোর্ট বহাল রাখল হাইকোর্টের রায়, বাংলায় ফের শুরু হচ্ছে ১০০ দিনের কাজ

Sasraya News
Author: Sasraya News

Leave a Comment

আরো পড়ুন