প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদী ★সাশ্রয় নিউজ স্পোর্টস ডেস্ক, কলকাতা : ভারত নারী ক্রিকেট দলের বিশ্বকাপ জয়ের পর যাঁর দিকে তাকিয়ে গোটা দেশ, তিনি জেমাইমা রদ্রিগেজ (Jemimah Rodrigues)। মাঠে তাঁর ব্যাটিং দক্ষতা, সাবলীল স্ট্রোকপ্লে এবং চাপের মুখে ঠান্ডা মাথার ইনিংস ক্রিকেটপ্রেমীদের মুগ্ধ করেছে। কিন্তু ক্রিকেটের বাইরেও তাঁর জীবনে যে এমন এক ভয়ংকর অভিজ্ঞতা লুকিয়ে ছিল, তা এত দিন জানতেন না অনেকে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে শৈশবের সেই অজানা, রোমহর্ষক ঘটনার কথা প্রকাশ্যে আনলেন জেমাইমা নিজেই। সম্প্রতি ইউটিউবের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘ব্রেকফাস্ট উইথ চ্যাম্পিয়ন্স’ -এ (Breakfast With Champions) অতিথি হয়ে এসে নিজের জীবনের নানা অধ্যায়ের কথা তুলে ধরেন জেমাইমা রদ্রিগেজ। সেখানেই তিনি জানান, মাত্র আট বছর বয়সে খেলতে খেলতে দোতলা থেকে পড়ে গিয়েছিলেন তিনি। সেই সময় তাঁর ভাইবোনেরা পর্যন্ত ভেবেছিলেন, হয়তো আর বেঁচে নেই জেমাইমা। ভারত বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দের মাঝেই এই স্মৃতিচারণ ক্রিকেটপ্রেমীদের আরও একবার জেমাইমার প্রতি আবেগী করে তুলেছে। কারণ, বর্তমানে যাঁকে দেশের অন্যতম সেরা মহিলা ক্রিকেটার হিসেবে দেখা হয়, ছোটবেলায় তাঁর জীবন যে এক মুহূর্তের জন্য মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েছিল, সেই গল্প শিউরে ওঠার মতো।

জেমাইমার কথায়, ঘটনাটি ঘটেছিল একটি গীর্জায়। তিনি তাঁর ভাইবোনদের সঙ্গে সেখানে গিয়েছিলেন। বড়রা তখন একটি প্রেক্ষাগৃহের ভিতরে অনুষ্ঠানে ব্যস্ত ছিলেন। আর ছোটরা, মানে জেমাইমা ও তাঁর ভাইবোনেরা, প্রেক্ষাগৃহের বাইরে খেলাধুলায় মেতে উঠেছিলেন। ঠিক যেমনটা সাধারণত বাচ্চারা করে থাকে, হাসি, দৌড়ঝাঁপ আর দুষ্টুমিতে ভরে উঠেছিল সেই মুহূর্ত। শৈশবের সেই দিনের কথা বলতে গিয়ে জেমাইমা জানান, ‘আমরা সবাই বাইরে ছিলাম। মজা করে একে অপরের দিকে চপ্পল বা জুতো ছুড়ছিলাম।’ সেই খেলাই এক মুহূর্তে ভয়ংকর রূপ নেয়। তাঁর এক ভাই মজার ছলে তাঁর দিকে একটি জুতো ছুড়ে দেন। সেটি ধরতে হলে তাঁকে একটু অন্য দিকে ঝাঁপাতে হতো।
সেই বয়সেই যে তিনি বেশ সাহসী ও চ্যালেঞ্জ নিতে ভালবাসতেন, সেটাও অকপটে স্বীকার করেন জেমাইমা। তিনি বলেন, ‘আমি তখন পুরো হিরোর মতো আচরণ করছিলাম। মনে হয়েছিল, যাই হোক, জুতোটা ধরবই।’ সেই সিদ্ধান্তই প্রায় সর্বনাশ ডেকে এনেছিল। জুতো ধরতে গিয়ে ভারসাম্য হারিয়ে দোতলা থেকে নীচে পড়ে যান জেমাইমা। কয়েক সেকেন্ডের সেই ঘটনা তাঁর ভাইবোনদের চোখের সামনে ঘটে। তাঁরা হতভম্ব হয়ে যান। তাঁদের মনে হয়েছিল, এত উপর থেকে পড়ে গিয়ে জেমাইমা হয়ত আর বেঁচে নেই।
কিন্তু ভাগ্য যেন সেদিন জেমাইমার পাশেই ছিল। তিনি নিজেই জানান, নিচে কেউ একজন বসে ছিলেন। দোতলা থেকে পড়ে গিয়ে সরাসরি তাঁর মাথার উপর এসে পড়েন জেমাইমা। ফলে ধাক্কাটা অনেকটাই কমে যায়। অল্পের জন্য বড় কোনও চোট থেকে রক্ষা পান তিনি। আশ্চর্যজনকভাবে, সেই ভয়ংকর পতনের পরেও তাঁর গুরুতর কোনও আঘাত লাগেনি।এই ঘটনার পর স্বাভাবিকভাবেই পরিবারে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছিল। জেমাইমার ভাইবোনেরা যখন বুঝতে পারেন তিনি নিরাপদ, তখন যেন তাঁরা প্রাণ ফিরে পান। জেমাইমার কথায়, ‘ওরা সবাই ভেবেছিল আমি মারা গিয়েছি।’ আজও নাকি পরিবারে এই ঘটনা নিয়ে মাঝেমধ্যে আলোচনা হয়।
এই কাহিনি জেমাইমার জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ চ্যাপ্টারের অংশ। অনেকেই মনে করেন, ছোটবেলার এই সাহসী মানসিকতাই তাঁকে পরবর্তী জীবনে ক্রিকেটের মাঠে এতটা নির্ভীক করে তুলেছে। বিপদের মুখে দাঁড়িয়েও পিছিয়ে না যাওয়ার যে মানসিক শক্তি, তার বীজ হয়তো রোপিত হয়েছিল সেই আট বছর বয়সেই। বর্তমানে জেমাইমা রদ্রিগেজ ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটের অন্যতম মুখ। বিশ্বকাপ জয়ের পর তিনি দেশের লক্ষ লক্ষ নারীদের মুখ। মাঠের বাইরে তাঁর এই ব্যক্তিগত গল্পও সেই সাহস আরও গভীর করে তোলে। জীবন যে কতটা অনিশ্চিত, আর এক মুহূর্ত কীভাবে সবকিছু বদলে দিতে পারে, জেমাইমার এই শৈশবের অভিজ্ঞতা যেন সেই কথাই নতুন করে মনে করিয়ে দেয়।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Women’s Premier League news, Smriti Mandhana RCB | মেয়েদের আইপিএলের আগে বড় ধাক্কা, চাপে স্মৃতি মন্ধানা ও জেমাইমা রদ্রিগেস




