Jeet Ganguly Durga Puja songs 2025 | কঠিন দিন পেরিয়ে সুরের জগতে, পুজোয় আজও কলকাতার টান অমোঘ জিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের

SHARE:

সঙ্গীতশিল্পী জিৎ গঙ্গোপাধ্যায় (Jeet Ganguly) শূন্য থেকে শুরু করেছিলেন জীবন। রগড়া প্যাটি ভাগ করে খাওয়া থেকে আজ পাঁচ-পাঁচটি গান নিয়ে পুজোয় আসছেন তিনি। কলকাতা ও দুর্গাপুজোর টান এখনও অটুট। Music director Jeet Ganguly recalls his struggling days with only 8 rupees in pocket. From sharing ragda patties with wife Chandrani to composing five new Durga Puja songs this year, his bond with Kolkata Puja remains unbreakable.

বসুধা চৌধুরী ★ সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক, কলকাতা : সঙ্গীতশিল্পী জিৎ গঙ্গোপাধ্যায় (Jeet Ganguly), বরাহনগরের ছেলে, আজ বলিউড ও টলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় সুরকার। কিন্তু খ্যাতির এই আলোয় পৌঁছতে তাঁর জীবনে ছিল একটি কঠিন সময়। পকেটে মাত্র আট টাকা, স্ত্রী চন্দ্রাণী গঙ্গোপাধ্যায়কে (Chandrani Ganguly) কোনও উপহার দেওয়ার সামর্থ্য ছিল না, শুরু তা-ই নয়, একটি রগড়া প্যাটি ভাগ করে খেয়ে দিন কেটেছে। এখন তিনি যখন দুর্গাপুজোর সময় কলকাতায় ফেরার কথা বলেন, তখন সেই দিনগুলির স্মৃতিও ভেসে ওঠে।মুম্বইতে স্থায়ী হওয়া সত্ত্বেও দুর্গাপুজো এলে জিৎ-এর মন ছুটে যায় কলকাতায়। তিনি বলেন, “আলমবাজারে আমাদের বাড়ি ছিল। পুজোর সময় হাঁটতে হাঁটতে দক্ষিণেশ্বর, উত্তরপাড়া, হিন্দমোটরের ঠাকুর দেখতে চলে যেতাম। বালি ব্রিজে কত যে হেঁটেছি! এখন বিমানবন্দরে নেমে শো করতে চলে যাই, মাঝে মাঝে মনে হয় যদি বালি ব্রিজে দাঁড়াতে পারতাম।”

সঙ্গীতশিল্পী জিৎ গঙ্গোপাধ্যায় (Jeet Ganguly) শূন্য থেকে শুরু করেছিলেন জীবন। রগড়া প্যাটি ভাগ করে খাওয়া থেকে আজ পাঁচ-পাঁচটি গান নিয়ে পুজোয় আসছেন তিনি। কলকাতা ও দুর্গাপুজোর টান এখনও অটুট।Music director Jeet Ganguly recalls his struggling days with only 8 rupees in pocket. From sharing ragda patties with wife Chandrani to composing five new Durga Puja songs this year, his bond with Kolkata Puja remains unbreakable.
জিৎ গঙ্গোপাধ্যায় ও চন্দ্রাণী গঙ্গোপাধ্যায়। ছবি : সংগৃহীত 

তাঁর মা আজও ছেলের অপেক্ষায় দিন গোনেন পুজোর চারটে দিন। যদিও প্রায়ই বিদেশে বা দেশের বাইরে শো-এর কারণে কলকাতায় থাকা হয়ে ওঠে না। গত বছরও তিনি আসতে পারেননি। এই বছরও হায়দরাবাদে গানের অনুষ্ঠান রয়েছে, তবে চেষ্টা করবেন অন্তত এক দিনের জন্য শহরে ফিরতে। উল্লেখ্য, স্ত্রী চন্দ্রাণীর সঙ্গে মুম্বইয়ে সংসার পেতেছিলেন জিৎ। একেবারে শূন্য থেকে শুরু। সেই সময়ের কথা বলতে গিয়ে গায়ক স্মৃতিচারণ করেন, “চন্দ্রাণীর সঙ্গে বিয়ে হওয়ার সময় পকেটে মাত্র আট টাকা ছিল। তখন মুম্বইয়ে জমি খুঁজছিলাম। কোনও উপহার দিতে পারিনি। এখন ভাবলে মনে হয়, যা হয় ভালর জন্য হয়।”

অর্থকষ্টের সেই সময়ে চন্দ্রাণী চেয়েছিলেন এক বিশেষ উপহার, বাংলা সিনেমার গান। সেই ইচ্ছাপূরণ করেছিলেন জিৎ নিজেই। তিনি বলেন, “মুম্বইয়ে রগড়া প্যাটি বলে একটা খাবার আছে। একটা কিনে দু’জনে ভাগ করে খেতাম। সেই সময় ওর কাছে উপহার ছিল আমার গান। পুজোর প্যান্ডেলে যখন আমার গান বাজত, সেটা মা-বাবা আর চন্দ্রাণীর কাছে বড় প্রাপ্তি।”
প্রসঙ্গত, সময় বদলেছে, রোজগার বেড়েছে। এখন প্রতিবছর দুর্গাপুজোয় স্ত্রীকে একটি বিশেষ শাড়ি উপহার দেন তিনি। তবে পুরনো দিনের সেই টান আর অভিজ্ঞতা এখনও তাঁকে নাড়া দেয়। এই বছরও বিশেষভাবে দুর্গাপুজোর জন্য গান তৈরি করেছেন জিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। তিনি জানিয়েছেন, এই বছর পাঁচটি গান মুক্তি পাবে। এর মধ্যে দুটি গানের কথা ও সুর দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। সুরুচি সংঘের জন্যও একটি গান গেয়েছেন তিনি। পাশাপাশি তাঁর ইউটিউব চ্যানেলে মুক্তি পাবে একটি আগমনীর গান, যার সুর করেছেন জিৎ, আর লিখেছেন ও গেয়েছেন স্ত্রী চন্দ্রাণী।

জিৎ গঙ্গোপাধ্যায় গানের জগতে আজ সাফল্যের শিখরে, কিন্তু জীবনের প্রথম দিনগুলোর সেই কষ্ট তাঁকে বিনম্র করে রেখেছে। তাঁর কথায়, “যখন কিছুই ছিল না, তখন চন্দ্রাণী আমার পাশে থেকেছে। আজও সেই শক্তিই আমাকে নতুন করে তৈরি করে।”
কলকাতার দুর্গাপুজো, আলমবাজারের স্মৃতি, বালি ব্রীজের ভ্রমণ, সব মিলিয়ে জিৎ গঙ্গোপাধ্যায় এখনও শহরটিকে নিজের শেকড় হিসেবে মানেন। আর সেই শেকড়ই তাঁকে প্রতি বছর টেনে আনে এই উৎসবের শহরে।

ছবি : সংগৃহীত 

আরও পড়ুন : Women’s ODI World Cup India | উদ্বোধনী মঞ্চে শ্রেয়া ঘোষাল, প্রকাশ্যে মেয়েদের বিশ্বকাপের টিকিটের দাম

Sasraya News
Author: Sasraya News

Leave a Comment