সুজয়নীল দাশগুপ্ত ★ সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক, কলকাতা : আইপিএল (IPL) ২০২৬ মরসুমের আগে শুরু হয়েছে দলবদলের গুঞ্জন। প্রতিটি ফ্র্যাঞ্চাইজি এখন ব্যস্ত নিজেদের স্কোয়াড সাজাতে। ১৫ নভেম্বরের মধ্যে জানাতে হবে কোন দল কাদের ধরে রাখছে। সেই সময়সীমা ঘনিয়ে আসতেই কেকেআর (KKR – Kolkata Knight Riders), দিল্লি ক্যাপিটালস (Delhi Capitals) ও সানরাইজার্স হায়দরাবাদ (Sunrisers Hyderabad) ঘিরে তৈরি হয়েছে চরম উত্তেজনা।

বিশেষ সূত্রের খবর, লোকেশ রাহুলকে (KL Rahul) দলে নেওয়ার জন্য মরিয়া কলকাতা নাইট রাইডার্স। গত মরসুমে অজিঙ্ক রাহানের (Ajinkya Rahane) নেতৃত্বে প্লে-অফে উঠতে ব্যর্থ হয়েছিল কেকেআর। তাই নেতৃত্বে পরিবর্তনের ভাবনা শুরু হয়েছে শাহরুখ খানের (Shah Rukh Khan) দলের ভেতরেই।
রাহুল দলে এলে অধিনায়ক ও উইকেটকিপারের সমস্যা এক ধাক্কায় মিটে যাবে বলেই মনে করছেন কেকেআর শিবির। সূত্রের খবর, কেকেআর কর্তারা ইতিমধ্যেই রাহুলের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছেন। তবে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দিল্লির কড়া শর্ত।দিল্লি ক্যাপিটালস নাকি কেকেআরকে তিনটি প্রস্তাব দিয়েছে। প্রথম প্রস্তাবে বলা হয়েছে, রাহুলের বদলে কেকেআরকে দিতে হবে সুনীল নারাইনকে (Sunil Narine)। দ্বিতীয় প্রস্তাবে দিল্লি চেয়েছে রিঙ্কু সিংহ (Rinku Singh) ও অঙ্গকৃশ রঘুবংশীকে (Angkrish Raghuvanshi)। তৃতীয় প্রস্তাবে ছিল হর্ষিত রানা (Harshit Rana) ও রঘুবংশীর নাম। কিন্তু তিনটি প্রস্তাবেই নাকি রাজি হয়নি কেকেআর। তারা চায় নগদ অর্থের বিনিময়ে রাহুলকে আনতে, ক্রিকেটার অদলবদলে নয়। দিল্লির তরফে অবশ্য জানানো হয়েছে, “রাহুলের সমমানের কাউকে না দিলে ট্রেড সম্ভব নয়।” ফলে কলকাতায় রাহুলকে দেখা যাবে কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। এই সময়েই আরও এক বড় খবর এসেছে দিল্লি শিবির থেকে। জানা গিয়েছে, সঞ্জু স্যামসন (Sanju Samson) যোগ দিতে পারেন দিল্লিতে। তার বদলে রাজস্থান রয়্যালসকে (Rajasthan Royals) পাঠানো হবে ট্রিস্টান স্টাবসকে (Tristan Stubbs)। যদি রাহুল দিল্লিতেই থেকে যান এবং সঞ্জুও যোগ দেন, তাহলে দিল্লির টপ অর্ডারে থাকবেন দুই অভিজ্ঞ উইকেটরক্ষক-ব্যাটার, যা দলের ব্যাটিং লাইনআপকে আরও শক্তিশালী করবে।
এদিকে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ থেকেও এসেছে খবর। শোনা যাচ্ছে, ২৩ কোটির তারকা হেনরিখ ক্লাসেনকে (Heinrich Klaasen) ছেড়ে দিতে পারে তারা। গত মরসুমে হায়দরাবাদের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ছিলেন ক্লাসেন, ১৩ ইনিংসে ১৭২ স্ট্রাইক রেটে করেছিলেন ৪৮৭ রান। শুধু তাই নয়, গত তিন মরসুমে তিনি প্রতি বছরই ১৭০ -এর বেশি স্ট্রাইক রেটে ৪০০ -এর বেশি রান করেছেন। তবু তাঁকেই ছেড়ে দেওয়ার চিন্তা করছে হায়দরাবাদ। কেন এই সিদ্ধান্ত? দলের এক কর্তার কথায়, “ক্লাসেনকে ছেড়ে দিলে আমাদের বাজেট অনেকটা হালকা হবে। নতুন নিলামে বেশি অর্থ নিয়ে নামতে পারব।” জানা গিয়েছে, পরিকল্পনা রয়েছে ক্লাসেনকে ছেড়ে আবার কম দামে তাঁকেই কিনে নেওয়ার। এতে দলের অর্থ সাশ্রয় হবে, আবার ক্রিকেটারও থাকবে নিজের জায়গায়। তবে নিলামে ক্লাসেন নামলে তাঁকে নিয়ে যে ঝাঁপিয়ে পড়বে একাধিক দল, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। এই অস্থিরতা ও দলবদলের সময়েই হায়দরাবাদে ফিরছেন টম মুডি (Tom Moody)। লখনউ সুপার জায়ান্টসের (Lucknow Super Giants) গ্লোবাল ডিরেক্টর অফ ক্রিকেট পদ ছাড়ার পর তাঁকে আবারও আনা হচ্ছে হায়দরাবাদের পরামর্শক ভূমিকায়। সঞ্জীব গোয়েন্কা (Sanjeev Goenka) গ্রুপের তিনটি দলেই এখন থেকে কাজ করবেন তিনি, আইপিএলের পাশাপাশি দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবান সুপার জায়ান্টস (Durban Super Giants) ও ইংল্যান্ডের দ্য হান্ড্রেডে (The Hundred) ম্যাঞ্চেস্টার টিমের ক্রিকেট ডিরেক্টর হিসেবেও। মুডির সঙ্গে হায়দরাবাদের সম্পর্ক নতুন নয়। ২০১৩ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত তিনি ছিলেন দলের প্রধান কোচ। তাঁর কোচিংয়েই ২০১৬ সালে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল হায়দরাবাদ। ২০২১ সালে ফের দায়িত্ব নেন, যদিও ২০২২ -এর পর পদ ছাড়েন। আইপিএলে তাঁর প্রত্যাবর্তনে হায়দরাবাদ শিবিরে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। এখন দেখার, আসন্ন নিলামের আগে কে কাকে ধরে রাখে, কে কাকে ছাড়ে। রাহুলের ভবিষ্যৎ যেমন ধোঁয়াশায়, তেমনই প্রশ্ন, সত্যিই কি ২৩ কোটির ক্লাসেনকে ছাড়বে হায়দরাবাদ? আইপিএলের ছোট নিলামকে ঘিরে এইসব গুঞ্জনই এখন ক্রিকেটপ্রেমীদের মুখে মুখে।
ছবি : সংগৃহীত




