সুজয়নীল দাশগুপ্ত ★ নতুন দিল্লি : ভারতীয় ক্রিকেটে বড় প্রস্তুতির ইঙ্গিত মিলল। আসন্ন আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপ ২০২৭-কে (ICC Cricket World Cup 2027) সামনে রেখে ইতিমধ্যেই সম্ভাব্য দল গঠনের কাজ শুরু করে দিয়েছে বিসিসিআই (BCCI)। জানা গিয়েছে, বিশ্বকাপের প্রায় দেড় বছর আগেই ২০ জন ক্রিকেটারকে চিহ্নিত করে রেখেছেন নির্বাচকেরা। এই তালিকায় থাকা খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সের উপর বিশেষ নজর রাখা হবে চলতি আইপিএল (Indian Premier League) মরশুমে। বোর্ডের একটি সূত্র জানিয়েছে, ‘এই ২০ জন ক্রিকেটারই মূলত বিশ্বকাপের সম্ভাব্য দল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন। আইপিএল তাদের জন্য বড় পরীক্ষার মঞ্চ।’ অর্থাৎ ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের পারফরম্যান্সই অনেকাংশে ঠিক করে দেবে, কারা চূড়ান্ত দলে জায়গা পাবেন। নির্বাচক কমিটির প্রধান অজিত আগারকার -সহ অন্যান্য সদস্যরা দেশজুড়ে ছড়িয়ে থেকে সরাসরি মাঠে গিয়ে ম্যাচ পর্যবেক্ষণ করবেন। মুম্বই, দিল্লি, বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ প্রায় প্রতিটি ভেন্যুতেই নির্বাচকদের উপস্থিতি দেখা যাবে। কলকাতার ম্যাচগুলিতে নজর রাখার দায়িত্ব পড়েছে শিব সুন্দর দাস -এর উপর।

বোর্ডের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ‘প্রত্যেক নির্বাচক সপ্তাহে অন্তত একটি ম্যাচ মাঠে বসে দেখবেন।’ ফলে প্রতি সপ্তাহে পাঁচজন নির্বাচক পাঁচটি আলাদা ম্যাচ পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন। এর পাশাপাশি টেলিভিশন এবং ডেটা বিশ্লেষণের মাধ্যমেও ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্স খতিয়ে দেখা হবে। এই উদ্যোগ শুধু নির্দিষ্ট ২০ জন ক্রিকেটারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। আইপিএলে নতুন কোনও প্রতিভা উঠে এলে তাকেও তালিকায় যুক্ত করার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে তরুণ ক্রিকেটারদের জন্যও এই মঞ্চ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। একটি সূত্রের কথায়, ‘নতুন কেউ নজর কাড়লে তাকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।’ অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক সূচির দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জুন মাসে ভারতীয় দল আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে একটি টেস্ট ম্যাচ খেলবে। এই ম্যাচটি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অন্তর্গত না হলেও গুরুত্ব কমানো হচ্ছে না। বরং পূর্ণ শক্তির দল নামানোর পরিকল্পনা করছে বোর্ড। ৬ থেকে ১০ জুন মুল্লানপুরে অনুষ্ঠিত হতে চলা এই টেস্ট ম্যাচে প্রথম সারির ক্রিকেটারদেরই খেলানোর ভাবনা রয়েছে। Jasprit Bumrah, Mohammed Siraj-দের মতো পেসারদেরও এই ম্যাচে দেখা যেতে পারে। বোর্ডের এক কর্তার কথায়, ‘টেস্ট ক্রিকেটে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জায়গা নেই। যারা মূল দলে রয়েছে, তাদেরই খেলতে হবে।’
এই সিদ্ধান্তের পিছনে রয়েছে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। অগস্ট থেকে মার্চের মধ্যে ভারতের সামনে রয়েছে মোট ন’টি টেস্ট ম্যাচ। ফলে প্রতিটি ম্যাচকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে, যাতে দলকে ধারাবাহিকভাবে প্রস্তুত রাখা যায়। এ প্রসঙ্গে আরও একটি দিক সামনে এসেছে, টেস্ট ক্রিকেটে তরুণদের সুযোগ দেওয়ার জন্য আলাদা পথ রাখা হয়েছে। ‘এ’ দলের সফরের মাধ্যমে নতুন ক্রিকেটারদের যাচাই করা হবে। জাতীয় দলের টেস্ট ম্যাচে মূল দলকেই গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে বোর্ড সূত্রে জানা গিয়েছে। নির্বাচক কমিটির ভবিষ্যৎ নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রধান নির্বাচক অজিত আগরকরের চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে। যদিও শোনা গিয়েছিল, তিনি ২০২৭ বিশ্বকাপ পর্যন্ত দায়িত্বে থাকতে চান, তবে বোর্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ‘চুক্তি বাড়ানোর বিষয়টি পরে আলোচনা করে ঠিক করা হবে।’
ভারতীয় ক্রিকেটে এখন পরিকল্পনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ২০২৭ বিশ্বকাপ। এক দিনের ফরম্যাটে ধারাবাহিক সাফল্য ধরে রাখতে হলে এখন থেকেই দল গঠনের কাজ জরুরি—এই ভাবনা থেকেই এগোচ্ছে বোর্ড। আইপিএল, আন্তর্জাতিক ম্যাচ এবং ঘরোয়া ক্রিকেট—সব ক্ষেত্রেই নজর রেখে একটি ভারসাম্যপূর্ণ দল তৈরি করার চেষ্টা চলছে। ক্রিকেট মহলে এই পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখা হচ্ছে। দীর্ঘ সময় ধরে খেলোয়াড়দের পর্যবেক্ষণ করলে তাঁদের ফর্ম, ফিটনেস এবং মানসিক প্রস্তুতি সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যায়। ফলে বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে দল নির্বাচনের ক্ষেত্রে ঝুঁকি কমে। উল্লেখ্য, ২০২৭ বিশ্বকাপের লক্ষ্যেই এখন থেকেই প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। আইপিএলের পারফরম্যান্স, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা এবং ধারাবাহিকতা, এই তিনের সমন্বয়ে তৈরি হতে পারে ভারতের ভবিষ্যৎ দল। আর সেই পথেই এগোচ্ছে নির্বাচক কমিটি।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : ICC Women’s T20 World Cup 2026 | মহিলা টি২০ বিশ্বকাপ ২০২৬ সূচি ঘোষণা: ইংল্যান্ডে ক্রিকেটের বিশ্বযুদ্ধ, এক গ্রুপে ভারত-পাকিস্তান, হরমনদের অভিযান শুরু ১৪ জুন




