সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : ভারত ও আমেরিকার (US) মধ্যে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত সরকারি বাণিজ্যচুক্তিতে অবশেষে সই হতে চলেছে আগামী মার্চ মাসে। এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানালেন কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গয়াল (Piyush Goyal)। তাঁকে উদ্ধৃত করে খবর প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স (Reuters)। গয়ালের বক্তব্য অনুযায়ী, চুক্তির খসড়া চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে এবং আগামী চার থেকে পাঁচ দিনের মধ্যেই ভারত ও আমেরিকা যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করবে। সেই বিবৃতি প্রকাশের পর থেকেই দু’দেশের মধ্যে শুল্ক কাঠামোয় বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। পীযূষ গয়াল জানিয়েছেন, সরকারি বাণিজ্যচুক্তিতে সই হলে ভারত মার্কিন পণ্যের উপর শুল্ক কমাবে। একই সঙ্গে আমেরিকাও ভারতীয় পণ্যের উপর শুল্ক কমানোর প্রক্রিয়া শুরু করবে। এই সমঝোতা কার্যকর হলে ভারতীয় রফতানিকারকদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলবে বলে মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তি, বস্ত্র, কৃষিজ পণ্য ও ওষুধ শিল্পে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
এই ঘোষণার প্রেক্ষাপটও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। গত সোমবার রাতে (ভারতীয় সময়) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) -এর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলার পরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) আচমকাই দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যসমঝোতার কথা ঘোষণা করেন। ট্রাম্প জানান, ভারতীয় পণ্যের উপর মার্কিন শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশ করা হবে। এই ঘোষণার পরেই নতুন দিল্লিতে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মহলে তৎপরতা বেড়ে যায়। প্রধানমন্ত্রী মোদীও সমাজমাধ্যমে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন এবং পরের দিন এনডিএ বৈঠকেও এই চুক্তিকে ‘ঐতিহাসিক পদক্ষেপ’ বলে উল্লেখ করেন।।তবে ট্রাম্পের ঘোষণার পর কয়েকটি বিষয় অস্পষ্ট থেকেই যায়। বিশেষ করে রাশিয়া থেকে তেল আমদানির জন্য ভারতের উপর যে অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপানো হয়েছিল, তা নিয়ে ধন্দ তৈরি হয়। এর ফলে মোট শুল্কের হার দাঁড়িয়েছিল ৫০ শতাংশে। প্রশ্ন উঠেছিল, নতুন সমঝোতার পরে কি এই অতিরিক্ত শুল্কও প্রত্যাহার করা হবে? হোয়াইট হাউস (White House) সূত্রে পরে জানা যায়, আমেরিকা সেই অতিরিক্ত শুল্কও তুলে নিতে চলেছে এবং ভারতীয় পণ্যের উপর কার্যকর শুল্ক ১৮ শতাংশেই সীমাবদ্ধ থাকবে।
এই ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে আর একটি বিতর্কও সামনে আসে। ট্রাম্প দাবি করেন, রাশিয়া (Russia) থেকে তেল কেনা বন্ধ করতে রাজি হয়েছে ভারত এবং পরিবর্তে আমেরিকা ও ভেনেজুয়েলা (Venezuela) -এর কাছ থেকে বেশি তেল কিনবে। কিন্তু এই দাবিকে ঘিরে নয়াদিল্লির তরফে কোনও সরকারি ঘোষণা না আসায় ধন্দ আরও বেড়ে যায়। মস্কোও স্পষ্ট করে জানিয়ে দেয়, ভারত তাদের কাছে এমন কোনও বার্তা দেয়নি। এই পরিস্থিতিতে পীযূষ গয়াল বুধবার আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘ভারত তার জ্বালানি নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই সিদ্ধান্ত নেয়। দেশবাসীর প্রয়োজন মেটাতে বিভিন্ন দেশ থেকেই তেল কেনা হবে, এটাই ভারতের দীর্ঘদিনের নীতি।’
উল্লেখ্য, ভারত-আমেরিকা মুক্ত বাণিজ্যসমঝোতা নিয়ে গত এক বছর ধরে আলোচনা চলছিল। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী মোদীর ওয়াশিংটন সফরের পর থেকেই দুই দেশের বাণিজ্য প্রতিনিধিদের মধ্যে দফায় দফায় বৈঠক শুরু হয়। মাঝখানে শুল্ক ও বাজার প্রবেশাধিকার নিয়ে জটিলতার কারণে আলোচনা কিছুটা থমকে যায়। তবে পরে আবার সেই আলোচনা গতি পায়। শেষ পর্যন্ত সোমবার ট্রাম্পের আকস্মিক ঘোষণায় স্পষ্ট হয়, বহু প্রতীক্ষিত চুক্তি বাস্তবের পথে এগোচ্ছে। এই চুক্তি নিয়ে জনমানসে সংশয়ও কম ছিল না। নানা শর্তে আটকে থাকা সমঝোতা আদৌ হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছিল। কিন্তু ট্রাম্পের ঘোষণার পরে সেই সংশয়ের অনেকটাই কাটতে শুরু করেছে। ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, এই চুক্তি কার্যকর হলে ভারত আমেরিকার কাছ থেকে ৫০,০০০ কোটি ডলারেরও বেশি মূল্যের জ্বালানি, প্রযুক্তি, কৃষিপণ্য, কয়লা এবং অন্যান্য সামগ্রী কিনবে। ভারতীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ ৪৫ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি। অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ (Nirmala Sitharaman) এই চুক্তিকে ভারতের রফতানি বৃদ্ধির ক্ষেত্রে ‘গেমচেঞ্জার’ বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর দাবি, ভারতীয় পণ্যের উপর মার্কিন শুল্ক কমে ১৮ শতাংশ হওয়ায় রফতানির অঙ্ক উল্লেখযোগ্য ভাবে বাড়বে। একই সঙ্গে দিল্লি চেষ্টা করবে আমেরিকার বাজারে ভারতের পণ্যের উপর থাকা শুল্ক সংক্রান্ত ও অন্যান্য বাণিজ্যিক প্রতিবন্ধকতা কমিয়ে শূন্যে নামিয়ে আনতে। মার্চে বাণিজ্যচুক্তিতে সই হওয়ার ঘোষণা ভারত-আমেরিকা সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন পথ চলা শুরু করতে চলেছে। যৌথ বিবৃতি প্রকাশের দিকেই এখন তাকিয়ে দুই দেশের শিল্পমহল ও বিনিয়োগকারীরা। সেই বিবৃতিতেই স্পষ্ট হবে, শুল্ক ছাড়, জ্বালানি আমদানি ও বাজার প্রবেশাধিকার নিয়ে চূড়ান্ত রূপরেখা। আপাতত এটুকু নিশ্চিত, এই চুক্তি কার্যকর হলে ভারত ও আমেরিকার বাণিজ্য সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছবে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Kalki 2 new actress, Sai Pallavi Kalki sequel | দীপিকার জায়গায় নতুন নায়িকা? কল্কি ২-এ চমক দিতে চলেছে দক্ষিণী ইন্ডাস্ট্রি, সাই পল্লবী কী প্রভাসের নতুন সঙ্গী




