সুজয়নীল দাশগুপ্ত, সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ আহমেদাবাদ : বিশ্ব ক্রিকেটে আবারও ইতিহাস গড়ল ভারত। রুদ্ধশ্বাস লড়াই হওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি দাঁড়াল একপেশে লড়াইয়ে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ ফাইনালে নিউজিল্যান্ডকে ৯৭ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার ট্রফি জিতল ভারতীয় দল (India T20 World Cup 2026 Champions)। এই জয়ের ফলে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তিনবার শিরোপা জয়ের কৃতিত্বও অর্জন করল ভারত। এই ঐতিহাসিক ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয় আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে। আড়াই বছর আগে এই মাঠেই বিশ্বকাপ ফাইনালে হার দেখে হতাশ হয়েছিল ভারতীয় সমর্থকেরা। কিন্তু রবিবার সেই স্মৃতিতে যেন প্রলেপ পড়ল। লক্ষাধিক দর্শকের উল্লাসে মুখরিত স্টেডিয়ামে ভারতীয় ক্রিকেট দল আবারও প্রমাণ করল, বিশ্ব ক্রিকেটে তারা এখন একটি নতুন শক্তি।
২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এবং ২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির পর ২০২৬ সালেও বড় ট্রফি ঘরে তুলল ভারত। অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব (Suryakumar Yadav) এবং কোচ গৌতম গম্ভীর (Gautam Gambhir) -এর নেতৃত্বে এই ধারাবাহিক সাফল্য ভারতীয় ক্রিকেটের নতুন অধ্যায় রচনা করল। ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলতে দেখা যায় ভারতকে। ওপেনিং জুটিতে নামেন সঞ্জু স্যামসন (Sanju Samson) ও অভিষেক শর্মা (Abhishek Sharma)। পাওয়ার প্লের প্রথম ছয় ওভারে তাঁদের ব্যাটিং ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়। ভারত তখন ৬ ওভারে তুলে ফেলে ৯২ রান, যা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে অন্যতম সর্বোচ্চ পাওয়ার প্লে স্কোর। অন্যদিকে নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার (Mitchell Santner) টসে জিতে প্রথমে বোলিং নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। পিচে কিছুটা ঘাস থাকায় পেসারদের সাহায্য পাবে, এমনটাই তিনি ভেবেছিলেন। কিন্তু সেই সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত দলের বিপর্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ভারতীয় ওপেনাররা শুরু থেকেই কিউয়ি বোলারদের উপর চড়াও হয়ে ওঠেন। বিশেষ করে অভিষেক শর্মা নিজের ব্যাটিং দিয়ে সমালোচকদের মুখ বন্ধ করে দেন। গোটা টুর্নামেন্ট জুড়ে তাঁর ফর্ম নিয়ে প্রশ্ন উঠছিল। কিন্তু ফাইনালের মতো বড় মঞ্চেই তিনি নিজের আসল ক্ষমতা দেখালেন। জেকব ডাফি (Jacob Duffy) ও লকি ফার্গুসন (Lockie Ferguson) -এর মতো বোলারদের অনায়াসে বাউন্ডারির বাইরে পাঠাতে দেখা যায় তাঁকে। তাঁর প্রতিটি শট যেন সমালোচনার জবাব হয়ে উঠেছিল।
ভারতের ইনিংসের মাঝপথে কিছুটা ধাক্কা আসে। এক ওভারে জিমি নিশাম (Jimmy Neesham) তিনটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নেন। সঞ্জু স্যামসন, ঈশান কিশন (Ishan Kishan) এবং সূর্যকুমার যাদব তিনজনই ফিরে যান সাজঘরে। তখন মনে হচ্ছিল ভারতের স্কোর হয়ত থমকে যাবে। কিন্তু শেষ দিকে শিবম দুবে (Shivam Dube) ঝড় তোলেন। শেষ ওভারে নিশামের বিরুদ্ধে তিনি ২৪ রান তুলে ভারতের স্কোর ২৫০-এর গণ্ডি পার করিয়ে দেন। এই ইনিংস ম্যাচের গতি আবার ভারতের দিকে ঘুরিয়ে দেয়। ২৫০ -এরও বেশি রান তাড়া করতে নেমে শুরুতেই চাপে পড়ে নিউজিল্যান্ড। ভারতের স্পিনার অক্ষর পটেল (Axar Patel) প্রথম দিকেই বড় ধাক্কা দেন। দলের সতীর্থদের কাছে ‘বাপু’ নামে পরিচিত এই অলরাউন্ডার ফিন অ্যালেন (Finn Allen) ও গ্লেন ফিলিপসকে (Glenn Phillips) দ্রুত ফিরিয়ে দেন। অক্ষরের এই স্পেল ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। আহমেদাবাদের কাছেই তাঁর বাড়ি হওয়ায় ঘরের মাঠে খেলার আলাদা আবেগও ছিল। দর্শকদের সামনে দুরন্ত পারফরম্যান্স করে তিনি সেই আবেগের যথার্থ মর্যাদা দেন।
নিউজিল্যান্ডের ইনিংসে আরেকটি বড় ধাক্কা আসে ফিল্ডিংয়ে। ঈশান কিশান দুর্দান্ত ফিল্ডিং করে তিনটি অসাধারণ ক্যাচ নেন। রাচিন রবীন্দ্র (Rachin Ravindra) -এর ক্যাচটি ছিল বিশেষ নজরকাড়া। ডিপ ব্যাকওয়ার্ড লেগে ছুটে গিয়ে ঝাঁপিয়ে তিনি যে ক্যাচটি নেন, তা ম্যাচের অন্যতম সেরা মুহূর্ত হয়ে থাকে। উল্লেখ্য, ড্যারিল মিচেল (Daryl Mitchell)-সহ নিউজিল্যান্ডের ব্যাটাররা চেষ্টা করলেও ভারতের শক্তিশালী বোলিং আক্রমণের সামনে দাঁড়াতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত বড় ব্যবধানে ম্যাচ হারতে হয় কিউয়িদের। এই নিয়ে গত দশ বছরে নিউজিল্যান্ড একাধিক আইসিসি ফাইনালে উঠেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পরাজিত হয়েছে। ২০২১ সালে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ জিতলেও অন্য বেশ কয়েকটি ফাইনালে হারতে হয়েছে তাদের। ফলে ক্রিকেট মহলে আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে ‘চোকার্স’ তকমা।
https://www.facebook.com/100044527235621/posts/1725035522324006/?app=fbl
ভারতের এই ঐতিহাসিক জয়ের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) সামাজিক মাধ্যমে ভারতীয় দলকে অভিনন্দন জানান। উল্লেখ্য, ভারতের এই জয় শুধু বিশ্ব ক্রিকেটে আধিপত্য প্রতিষ্ঠার আরেকটি সূচনা। কোটি কোটি ভারতীয় সমর্থকের স্বপ্ন পূরণ করে আবারও বিশ্বজয় করল টিম ইন্ডিয়া।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : T20 World Cup Final India vs New Zealand | বিশ্বকাপ ফাইনালে ভারত, ইংল্যান্ডকে হারিয়ে আহমেদাবাদে কিউয়িদের বিরুদ্ধে মহারণ




