সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নয়া দিল্লি: ভারতের মহাকাশ অভিযানের ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হল। জাতীয় মহাকাশ দিবসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) ঘোষণা করলেন, ভারত খুব শিগগিরই নিজস্ব আন্তর্জাতিক মানের স্পেস স্টেশন তৈরি করবে। এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে ভারত মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিল। এর মাধ্যমে একদিকে যেমন ভারতের প্রযুক্তিগত অগ্রগতি আরও দৃঢ় হবে, অন্যদিকে তেমনি আন্তর্জাতিক পরিসরে ভারতের অবস্থান আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠবে।
প্রধানমন্ত্রী মোদী তাঁর বক্তব্যে বলেন, “আজ ভারত দ্রুত অ্যাডভান্সড প্রযুক্তির দিকে এগোচ্ছে। সেমি-কাইরোজেনিক ইঞ্জিন, ইলেকট্রিক প্রপালশনের মতো অত্যাধুনিক প্রযুক্তি তৈরি করছে। খুব শিগগিরই বিজ্ঞানীদের কঠোর পরিশ্রম সফল হয়ে ভারত গগনযান মিশনে যাবে। আগামিদিনে ভারত নিজস্ব স্পেস স্টেশন তৈরি করবে।” প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-এর এই ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে মহাকাশবিজ্ঞানী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ সবার মধ্যেই এক প্রবল উৎসাহের সঞ্চার হয়েছে। দেশের তরুণ প্রজন্মকেও এই অভিযানে শামিল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ভারতের মহাকাশ অভিযানে আগামী দিনে যুব সমাজই হবে প্রধান শক্তি।
সম্প্রতি আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনে ভারতীয় মহাকাশচারী গ্রুপ ক্যাপ্টেন শুভাংশু শুক্লা (Shubhangshu Shukla) অংশ নিয়েছিলেন। তাঁর মহাকাশ অভিযানের সাফল্যের কথাই বিশেষভাবে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “তিন দিন আগে আমি শুভাংশু শুক্লার সঙ্গে দেখা করেছি। আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনে ভারতের তিরঙ্গা উত্তোলন করে তিনি গোটা দেশবাসীর হৃদয় গর্বে ভরিয়ে দিয়েছেন। যে মুহূর্তে তিনি আমায় তিরঙ্গা দেখাচ্ছিলেন, সেই অনুভূতি বলে বোঝানো সম্ভব নয়।” শুভাংশুর প্রতি দেশের গর্ব ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করার প্রসঙ্গও উঠে আসে মোদীর কথায়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “শুভাংশুর সঙ্গে আলোচনায় আমি নতুন ভারতের যুব প্রজন্মের অসংখ্য স্বপ্ন ও সাহস দেখেছি। এই স্বপ্নকে এগিয়ে নিয়ে যেতে আমরা ভারতের মহাকাশচারীর পুল তৈরি করব। আজ স্পেস ডে-তে আমি যুব প্রজন্মকে আহ্বান জানাচ্ছি, তারা যেন এই পুলে সামিল হয়ে ভারতের স্বপ্নকে ডানা দেয়।”
https://x.com/ANI/status/1959132748871803055
২০২৩ সালের ২৩ অগস্ট চন্দ্রযান-৩ (Chandrayaan-3) মিশনের সাফল্য ভারতীয় মহাকাশ গবেষণাকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে যায়। সেদিন চাঁদে সফলভাবে সফট ল্যান্ডিং করেছিল বিক্রম ল্যান্ডার (Vikram Lander) এবং প্রজ্ঞান রোভার (Pragyan Rover)। সেই ঐতিহাসিক দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতেই সরকার ২৩ অগস্টকে জাতীয় মহাকাশ দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। চন্দ্রযান-৩ এর সেই সফলতা থেকেই ভারতীয় মহাকাশ গবেষণার আত্মবিশ্বাস আরও বেড়ে গিয়েছে, আর আজকের এই ঘোষণা সেই আত্মবিশ্বাসেরই প্রতিফলন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভারত যদি নিজস্ব স্পেস স্টেশন গড়ে তুলতে পারে, তবে শুধু বৈজ্ঞানিক গবেষণাই নয়, আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও ভারত নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশন মূলত আমেরিকা (USA), রাশিয়া (Russia), ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সি (European Space Agency), জাপান (Japan) এবং কানাডা (Canada)-র যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত হয়। কিন্তু আগামী দিনে ভারত যদি নিজস্ব স্পেস স্টেশন তৈরি করে, তাহলে তা কেবল প্রযুক্তিগত সাফল্যই নয়, কূটনৈতিক ক্ষেত্রেও ভারতের জন্য হবে এক বড় জয়।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর এদিনের ঘোষণায় দেশের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এক নতুন উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। নয়া প্রজন্ম এখন শুধু মহাকাশ অভিযানের কীর্তিই নয়, সক্রিয়ভাবে তাতে অংশ নেওয়ার সুযোগও পাবে। প্রধানমন্ত্রী মোদী এদিন স্পষ্ট ভাষায় জানালেন, ভারত শুধু অন্য দেশের সাফল্য অনুসরণ করবে না, বরং নিজস্ব উদ্যোগে বিশ্বকে নতুন দিশা দেখাবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আজকের দিনে প্রযুক্তিই নতুন ভারতের মূল চালিকা শক্তি। মহাকাশের এই নতুন অধ্যায় আমাদের শুধু বৈজ্ঞানিক উন্নতির পথ দেখাবে না, বরং দেশের প্রতিটি যুবকের মনে স্বপ্নের আলো জ্বালাবে।” উল্লেখ্য, ভারতের মহাকাশ গবেষণায় এই ঘোষণা নিঃসন্দেহে এক বড় মাইলফলক হয়ে থাকবে। আগামী দিনে ভারতীয় বিজ্ঞানীরা কিভাবে এই প্রকল্পকে বাস্তবায়িত করেন, তার দিকেই এখন তাকিয়ে দেশবাসী।
ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Narendra Modi Mann Ki Baat | শুভাংশুর মহাকাশ বিজয়ে গর্বিত ভারত, ‘মন কি বাত’-এ বললেন মোদী, উঠে এল বিপ্লব ও স্বদেশির বার্তাও




