সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : জনশুমারি ২০২৭ (Census 2027) ঘিরে দেশজুড়ে তৈরি হওয়া নানা জল্পনা ও বিভ্রান্তির অবসান ঘটাল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক (Ministry of Home Affairs)। জাতিগত গণনা (Caste Census) আদৌ এ বছর শুরু হচ্ছে কি না, এই প্রশ্নে সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে যে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছিল, তা দূর করতে স্পষ্ট বিবৃতি দিল কেন্দ্র। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, চলতি বছরে জম্মু ও কাশ্মীর (Jammu and Kashmir), হিমাচল প্রদেশ (Himachal Pradesh) এবং উত্তরাখণ্ড (Uttarakhand) ছাড়া দেশের অন্য কোনও রাজ্য বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে জাত বা জাতিগত ভিত্তিতে জনশুমারি করা হচ্ছে না। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের বক্তব্য অনুযায়ী, জনশুমারি ২০২৭ একটি দীর্ঘমেয়াদি ও সুপরিকল্পিত প্রক্রিয়া। হঠাৎ করে বা ধাপে ধাপে কোনও রাজ্যে জাতিগত গণনা শুরু করার প্রশ্নই নেই। সম্প্রতি সমাজমাধ্যম ও বিভিন্ন মহলে যে দাবি উঠেছিল, এ বছর থেকেই সারা দেশে জাতিগত তথ্য সংগ্রহ শুরু হবে, তা সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর বলেই দাবি করেছে কেন্দ্র।
মন্ত্রকের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, জনশুমারি ২০২৭ হবে মোট দু’টি ধাপে। প্রথম ধাপটি মূলত গৃহ তালিকা (House Listing) এবং আবাসন শুমারি (Housing Census) সংক্রান্ত। এই পর্বে কোনও ব্যক্তির জাত, উপ-জাত বা সম্প্রদায়গত পরিচয় নথিভুক্ত করা হবে না। বরং ঘরবাড়ির পরিকাঠামো, জীবনযাত্রার মান এবং পরিবারের সামাজিক-অর্থনৈতিক অবস্থার উপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। প্রথম দফায় যেসব তথ্য সংগ্রহ করা হবে, তার মধ্যে রয়েছে, একটি বাড়িতে কতগুলি ঘর রয়েছে, বাড়ির নির্মাণসামগ্রী কী ধরনের, বিদ্যুৎ, পানীয় জল ও শৌচাগারের সুবিধা আছে কি না, রান্নার জ্বালানি হিসেবে কী ব্যবহার করা হয়, পরিবারের সদস্য সংখ্যা, বিবাহিত দম্পতির সংখ্যা, পরিবারের প্রধানের লিঙ্গ পরিচয়, খাদ্যাভ্যাস ও খাদ্যশস্যের ধরন, টেলিভিশন, ফ্রিজ, মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট সংযোগের মতো মৌলিক ও আধুনিক সুবিধার উপস্থিতি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের মতে, এই তথ্যগুলি দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনা ও সামাজিক কল্যাণমূলক প্রকল্পের রূপরেখা তৈরি করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অন্য দিকে, জনশুমারির দ্বিতীয় ধাপেই হবে জাত ও জাতিগত গণনা। এই ধাপের সূচনা হবে ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে। তখনই দেশজুড়ে নাগরিকদের জাত, উপ-জাত এবং সম্প্রদায়গত পরিচয় সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা হবে। ফলে চলতি বছরে জাতিগত গণনা নিয়ে আতঙ্কিত বা বিভ্রান্ত হওয়ার কোনও কারণ নেই বলেই স্পষ্ট করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক।মন্ত্রকের এক কর্তা জানিয়েছেন, ‘জনশুমারি একটি সাংবিধানিক ও প্রশাসনিকভাবে সংবেদনশীল প্রক্রিয়া। কোনও গুজব বা অসম্পূর্ণ তথ্যের ভিত্তিতে নাগরিকদের বিভ্রান্ত হওয়া উচিত নয়। সরকার নির্ধারিত সময় সূচী মেনেই প্রতিটি ধাপ সম্পন্ন করা হবে।’ তাঁর কথায়, জাতিগত গণনার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যথেষ্ট প্রস্তুতি ও প্রশিক্ষিত কর্মীবাহিনী ছাড়া করা সম্ভব নয়।
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরেই দেশে জাতিগত গণনা নিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক চলছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠন দাবি করে আসছে, জাতভিত্তিক তথ্য প্রকাশ পেলে সামাজিক ন্যায় ও কল্যাণমূলক প্রকল্প বাস্তবায়নে সুবিধা হবে। আবার বিরোধীদের একাংশের মতে, এতে সামাজিক বিভাজন আরও প্রকট হতে পারে। এই আবহেই জনশুমারি ২০২৭ ঘিরে গুজব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে আরও জানানো হয়েছে, যেসব রাজ্যে চলতি বছরে সীমিত আকারে কিছু প্রস্তুতিমূলক কাজ হবে, সেগুলি মূলত প্রশাসনিক ও পরিকাঠামোগত। জম্মু ও কাশ্মীর, হিমাচল প্রদেশ এবং উত্তরাখণ্ডে বিশেষ ভৌগোলিক ও আবহাওয়াজনিত কারণে কিছু কাজ আগে শুরু করা হতে পারে। তবে সেখানেও জাতিগত তথ্য সংগ্রহের প্রশ্ন নেই।
প্রশাসনিক মহলের একাংশ মনে করছে, এই স্পষ্টীকরণ নির্বাচনী রাজনীতির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ জনশুমারি ও জাতিগত গণনা নিয়ে ভুল বার্তা ছড়ালে তা ভোটের আগে সামাজিক উত্তেজনার কারণ হতে পারে। তাই আগেভাগেই কেন্দ্রের এই অবস্থান ব্যাখ্যা করা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক নাগরিকদের উদ্দেশ্যে, আবেদন জানিয়েছে, জনশুমারি সংক্রান্ত কোনও তথ্য জানার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র সরকারি বিজ্ঞপ্তি ও নির্ভরযোগ্য সূত্রের উপর ভরসা করতে। গুজব বা অসত্য খবর ছড়ানো হলে তার বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করা হবে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। প্রসঙ্গত, জনশুমারি ২০২৭ নিয়ে যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল, তা অনেকটাই কাটল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের এই স্পষ্ট বিবৃতিতে। জাতিগত গণনা হবে, তবে নির্ধারিত সময়েই, এই বার্তাই কেন্দ্রের তরফে পরিষ্কার ভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
ছবি : প্রতীকী
আরও পড়ুন : Sundarbans Tiger Census 2025 | সুন্দরবনের গহিনে ব্যাঘ্রগণনা শুরু: রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার নজরবন্দী করতে বসানো হবে ১৪০০ -এর বেশি ক্যামেরা




