how to brighten a blah day, gratitude journal benefits | মনখারাপের দিনে মনকে ফেরান আলোর ওপর, মনোবিজ্ঞান বলছে এই ছয় অভ্যাসেই বদলে যেতে পারে আপনার দিন

SHARE:

সংবেদন শীল ★ সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক, কলকাতা : প্রতিদিনই হয়ত ভাল যায় না। কখনও মনে হয় জীবনের গতি থেমে গিয়েছে, মনের ভিতর জমে থাকে এক অদ্ভুত ক্লান্তি; না ঠিক দুঃখ, না ঠিক আনন্দ। ইংরেজিতে এই অনুভূতির জন্য আছে একটা বিশেষ শব্দ: “Blah Day”। অর্থাৎ, এমন একদিন যখন কিছুই ঠিক মনে হয় না। মনোবিজ্ঞান বলছে, এই দিনগুলো আসলে সম্পূর্ণ স্বাভাবিক, কিন্তু এগুলোর সঙ্গে বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে মোকাবিলা করাটাই জরুরি। কারণ একটু যত্ন নিলেই এমন মনখারাপের দিনও হয়ে উঠতে পারে স্নিগ্ধ, প্রাণবন্ত ও আত্মচিন্তার সময়।

মনোবিজ্ঞানীরা যেমন জেমস জ্যাকসন (James Jackson), গবেষক ও অধ্যাপক, ভ্যান্ডারবিল্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের (Vanderbilt University) মেডিসিন এবং সাইকিয়াট্রির গবেষক, বলেন : “আমাদের মস্তিষ্কে আনন্দের রাসায়নিক যেমন ডোপামিন (Dopamine) বা সেরোটোনিন (Serotonin) উৎপন্ন হয় দৈনন্দিন কিছু অভ্যাসের মাধ্যমে। তাই মনের ঝিম ধরা দিনে নিজের ভেতরের শক্তিকে জাগিয়ে তুলতে হবে।”

ছবি: প্রতীকী

প্রকৃতির সংস্পর্শে ফিরে যান

মনোবিজ্ঞান বলছে, দিনে অন্তত ২০ থেকে ৩০ মিনিট প্রকৃতির মধ্যে কাটানো আমাদের শরীর ও মনের জন্য এক আশ্চর্য টনিকের মতো কাজ করে। জেমস জ্যাকসন বলেন, “এই অল্প সময়টাই কর্টিসল (Cortisol), মানসিক চাপের হরমোন কমিয়ে দেয়, আর মানুষের মধ্যে এক ধরনের ‘অওয়্যারনেস’ বা বিস্ময়ের অনুভূতি তৈরি করে।” পার্কে হাঁটা, গাছের নিচে বসা, কিংবা শুধু বারান্দা থেকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখা যেভাবেই হোক, প্রকৃতির সঙ্গে যুক্ত থাকুন। এটা মনের ভার নামিয়ে দেয়, আর জীবনের ছোট ছোট সৌন্দর্যগুলো অনুভব করতে শেখায়।

মন খারাপের দিনে আমরা প্রায়শই যা নেই, সেটাকেই মনে করি। অথচ মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, গ্রাটিটিউড জার্নালিং (Gratitude Journaling) মানসিক স্বাস্থ্যের এক সহজ কিন্তু কার্যকর থেরাপি। প্রতিদিন কয়েক মিনিট সময় নিয়ে লিখে ফেলুন, আজ আপনি কোন তিনটি বিষয়ে কৃতজ্ঞ। সেটা হতে পারে সকালে কারও হাসিমুখ দেখা, প্রিয় গান শোনা, বা চায়ের কাপে নির্ভার সময় কাটানো। জ্যাকসনের মতে, “কৃতজ্ঞতার চর্চা আমাদের মানসিক ভারসাম্য ফেরায়, উদ্বেগ ও হতাশা কমায়।”

আরও পড়ুন : Samantha comeback, Samantha personal life | বড় তারকা হওয়ার দৌড়েই হারাচ্ছিলেন শান্তি, অকপটে সামান্থা রুথ প্রভু

মন খারাপের সময় আমাদের মস্তিষ্কের সৃজনশীল অংশটি নিস্তেজ হয়ে পড়ে। কেইট রোজিয়ার (Kait Rosiere), ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট ও ব্লুম সাইকোলজিক্যাল সার্ভিসেস (Bloom Psychological Services) -এর প্রতিষ্ঠাতা, বলেন, “সৃজনশীল কাজ মানে কেবল আঁকা বা লেখা নয়, বরং এমন কিছু করা যা মনকে খেলায় রাখে।” নতুন রেসিপি রান্না করা, ঘর সাজানো, প্রিয় সুরে নাচা, এমন কোনও ছোট আনন্দের কাজ মনকে নতুন করে প্রাণবন্ত করে তোলে। বিজ্ঞানের ভাষায়, ব্যায়াম মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য এক প্রাকৃতিক ওষুধ। জেমস জ্যাকসন বলেন, “যখন আমরা শরীর নড়াচ্ছি, তখন মস্তিষ্কে সেরোটোনিন ও ডোপামিন তৈরি হয়, যা মুড রেগুলেট করে।” জিমে না গিয়েও আপনি এটি করতে পারেন, সকালবেলা হাঁটা, ঘরে নাচা, যোগাসন বা সহজ স্ট্রেচিং। তাঁর মতে, “বন্ধুদের সঙ্গে একসঙ্গে ব্যায়াম করলে সেই প্রভাব দ্বিগুণ হয়, কারণ সামাজিক সংযোগও আমাদের মনের রাসায়নিক ভারসাম্যে প্রভাব ফেলে।”

মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, মন ভাল রাখার অন্যতম উপায় হল মাইন্ডফুলনেস (Mindfulness) অর্থাৎ, বর্তমান মুহূর্তে পুরোপুরি উপস্থিত থাকা। কেইট রোজিয়ার একটি বিশেষ শব্দ ব্যবহার করেন, “গ্লিমার্স (Glimmers)।” তাঁর ভাষায়, “গ্লিমার্স হল জীবনের সেই ছোট্ট জাদুকর মুহূর্তগুলো, যেমন জানালার ফাঁক দিয়ে আলো ঢুকে রঙিন ছায়া ফেলা, চায়ের প্রথম চুমুক, বা নিজের পছন্দের রঙের পোশাক পরে আয়নায় নিজেকে দেখা।” এই ক্ষণিকের সুখগুলোই মনকে নতুন আলো দেয়, যেমন কৃতজ্ঞতার চর্চা আমাদের চিন্তার ভার কমায়। মন খারাপের সময় মানুষ সাধারণত নিজেকে গুটিয়ে নেয়। অথচ গবেষণা বলছে, যোগাযোগই হতে পারে একমাত্র টনিক। জেমস জ্যাকসন বলেন, “অর্থপূর্ণ যোগাযোগ, সেটা বন্ধুর সঙ্গে হোক বা পরিবারের কারও সঙ্গে- মনকে শান্ত করে।” শুধু তা-ই নয়, অপরিচিতের সঙ্গে ছোটখাটো সৌজন্য বিনিময়ও মুড পরিবর্তন করতে পারে। কেইট রোজিয়ার বলেন, “অন্যকে যেমনভাবে অনুভব করাতে চান, তেমনভাবে আচরণ করুন। আপনি যদি কাউকে হাসান, সেই হাসি আপনার মধ্যেও প্রতিফলিত হবে।”

একজন বন্ধুর নাম ধরে ধন্যবাদ জানানো, প্রতিবেশীকে শুভ সকাল বলা, বা কফি শপে কারও সঙ্গে হালকা কথা বলা, এই ছোট্ট আচরণগুলোই মনের ভার নামাতে সাহায্য করে।
মনোবিজ্ঞান বলছে, “Blah” দিন আসবেই। কিন্তু এগুলোই আমাদের শেখায় কেমন করে জীবনকে সামান্য বদলে দেওয়া যায়। প্রকৃতি, কৃতজ্ঞতা, সৃজনশীলতা, শরীরচর্চা, ছোট সুখ এবং সম্পর্ক, এই ছয়টি দিকই জীবনের ব্যালান্স রাখার চাবিকাঠি। এখন যদি মনে হয় কিছুই ভাল লাগছে না, তাহলে নিজের চারপাশে একটু তাকান: সূর্যাস্তের রঙ, শিশিরভেজা ঘাস, কারও হাসিমুখ, হয়ত সেখানেই লুকিয়ে আছে আপনার দিনের আলো।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন :Shriya Saran lifestyle | তারকাখ্যাতির আড়ালে সাদামাটা সংসার: শ্রিয়া শরণের মুম্বইয়ের বাড়ির অন্দরমহল দেখে চমক ভক্তদের

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন