Himachal Landslide | হিমাচল প্রদেশে অতি ভারী বৃষ্টি, বিপর্যস্ত জনজীবন

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ শিমলা : ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে হিমাচল প্রদেশ (Himachal Pradesh)। সূত্রের খবর, গত ৩৬ ঘণ্টায় লাগাতার বৃষ্টি ও ধসের কারণে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত পাঁচ জন, যার মধ্যে দুই শিশু রয়েছে। রাজ্য জুড়ে বন্ধ হয়ে গেছে ৩৯৮টি রাস্তা, যার মধ্যে রয়েছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সড়ক। শিলাই (Shillai), কোটখাই (Kotkhai) এবং থুনাগ (Thunag) এলাকায় সোমবার স্কুল বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে প্রশাসন। মঙ্গলবার চব্বিশ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে শিমলা (Shimla) আবহাওয়া দফতর চারটি জেলায় কমলা সতর্কতা (Orange Alert) এবং আটটি জেলায় হলুদ সতর্কতা (Yellow Alert) জারি করা করে বলে উল্লেখ। বিশেষ করে উনা (Una), হামিরপুর (Hamirpur), সোলান (Solan) ও বিলাসপুর (Bilaspur) জেলায় প্রবল বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে।

প্রশাসন সূত্রে খবর, গত রবিবার রাত থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত টানা বৃষ্টিতে বিভিন্ন জায়গায় ধস ও হড়পা বানের (Flash Flood) সৃষ্টি হয়েছে। এনএইচ ০২ (NH 02), এনএইচ ২১ (NH 21) ও এনএইচ ১৫৪ (NH 154) জাতীয় সড়কগুলিতে ধস নামায় যান চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কেই বহু গাড়ি ও যাত্রী আটকে পড়েছেন। তাঁদের উদ্ধারের কাজ চালাচ্ছে প্রশাসন ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। রাজ্যের মান্ডী (Mandi) জেলায় সবথেকে বেশি, অন্তত ১৭০টি রাস্তা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। চম্বা (Chamba) জেলার পরিস্থিতিও ভয়াবহ। চম্বায় ধসে একজন মহিলা ও একজন পুরুষের মৃত্যু হয়েছে। জেলার চুড়হা (Churah) এলাকায় পঙ্গোলা (Pangola) গ্রামের কাছে প্রবল জলের তোড়ে একটি সেতু ভেসে গেছে। চম্বার বিভিন্ন অংশে হড়পা বানের কারণে রাস্তা ও বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কুলু (Kullu) এবং কাংড়া (Kangra) জেলাগুলিতেও আগামী ২৪ ঘণ্টায় অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দফতর। প্রশাসন স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের খুব প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বেরতে নিষেধ করেছে। একটি সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘প্রবল বৃষ্টিপাত এবং ধসের কারণে বিভিন্ন এলাকায় বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। জনগণকে যথাসম্ভব ঘরের ভেতরে থাকতে অনুরোধ করা হচ্ছে।’

হিমাচল প্রদেশে এবারের বর্ষার মরসুম শুরু হওয়ার পর থেকে এখনও পর্যন্ত ১৩২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে বৃষ্টিজনিত দুর্ঘটনা, ধস, হড়পা বান ও বিদ্যুৎস্পৃষ্টের ঘটনা রয়েছে। রাজ্য বিপর্যয় ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের (SDMA) একজন আধিকারিক বলেন, ‘বর্ষা শুরু হওয়ার পর থেকে প্রতিটি জেলায় সতর্কতা জারি ছিল। কিন্তু এভাবে একটানা অতি ভারী বৃষ্টি হলে পরিস্থিতি সামলানো কঠিন হয়ে যায়। উদ্ধারকর্মীরা দিনরাত এক করে কাজ করছেন।’ আবহাওয়া দফতরের ডিরেক্টর সুরেন্দ্র পাল (Surender Paul) জানিয়েছেন, ‘আগামী ক’য়েকদিন রাজ্যে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। চম্বা, কাংড়া, কুলু এবং মান্ডী জেলায় অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। পর্যটকদের এখনই হিমাচলে ভ্রমণ না করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।’ অন্যদিকে, প্রশাসন সূত্রে খবর, রাস্তা পরিষ্কার ও সড়কপথ চালু করার চেষ্টা চলছে। তবে লাগাতার বৃষ্টিতে মাটি আলগা হয়ে থাকায় পুনরায় ধসের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। পাহাড়ি এলাকার মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্কের পরিবেশ। স্থানীয় বাসিন্দা নরেন্দ্র সিং (Narendra Singh) বলছেন, ‘প্রতি বছরই বর্ষায় ধস হয়, কিন্তু এবার যেভাবে রাস্তা, সেতু, ঘরবাড়ি সব কিছুই ধ্বংস হচ্ছে, তা ভয় ধরাচ্ছে।’

ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Himachal landslide 2025, Dog Saves Lives | কুকুরের তৎপরতায় বাঁচল ৬৭ প্রাণ! হিমাচলে ধসের আগে সতর্ক করে ‘নীরব নায়ক’

Sasraya News
Author: Sasraya News

Leave a Comment

আরো পড়ুন