সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ গঙ্গাসাগর, দক্ষিণ চব্বিশ পরগণা : শুরুর আগেই অগ্নিকাণ্ড গঙ্গাসাগর মেলা প্রাঙ্গণে। শুক্রবার ভোররাতে দক্ষিণ ২৪ পরগনার গঙ্গাসাগরে কপিলমুনি মন্দির সংলগ্ন ২ নম্বর রাস্তার পাশে আচমকাই আগুন লেগে যায় একাধিক অস্থায়ী ছাউনি ও শিবিরে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের এলাকায়। হোগলা দিয়ে তৈরি ছাউনিগুলিতে দাউদাউ করে জ্বলতে থাকা আগুনের লেলিহান শিখা দেখে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে মেলা প্রাঙ্গণে। গঙ্গাসাগর মেলা শুরু হওয়ার ঠিক আগের মুহূর্তে এই অগ্নিকাণ্ড প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, শুক্রবার ভোরের দিকে প্রথম আগুন দেখতে পাওয়া যায়। হোগলা দিয়ে তৈরি অস্থায়ী ছাউনিগুলিতে আগুন লাগতেই দ্রুত তা ছড়িয়ে পড়ে। বাতাসের দাপটে কয়েক মিনিটের মধ্যেই একের পর এক ছাউনি ভস্মীভূত হয়ে যায়। মেলার প্রস্তুতির কাজে যুক্ত কর্মী ও নিরাপত্তারক্ষীরা প্রথমে আগুন নেভানোর চেষ্টা করলেও পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। চারদিকে ধোঁয়ায় ঢেকে যায় এলাকা, ফলে আতঙ্ক আরও বাড়ে।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকল বাহিনীর একাধিক ইঞ্জিন ও বিশেষ ‘ফায়ার ফাইটিং বাইক’। দমকল আধিকারিকদের কথায়, হোগলা ও দাহ্য সামগ্রী থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছিল। কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। দমকল বাহিনীর একজন আধিকারিক জানান, ‘আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে আমাদের একাধিক ইউনিট কাজ করেছে। পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে, তবে ক্ষয়ক্ষতি বেশ বড়।’ দমকল সূত্রে জানানো হয়েছে, আগুন সম্পূর্ণ নিভে যাওয়ার পরও এলাকায় কুলিং অপারেশন চালানো হয়েছে যাতে নতুন করে আগুন না ধরে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা যাচ্ছে, গঙ্গাসাগর মেলা উপলক্ষ্যে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি দফতরের শিবির এবং অস্থায়ী ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা হচ্ছিল এই হোগলা ছাউনিগুলির মধ্যেই। সেগুলিতেই আগুন লাগে। ক্ষতিগ্রস্ত শিবিরগুলির মধ্যে রয়েছে পুলিশ প্রশাসন, তথ্য ও সংস্কৃতি দফতর (Information & Cultural Affairs Department), একাধিক সংবাদমাধ্যমের অস্থায়ী ক্যাম্প এবং বজরং পরিষদ (Bajrang Parishad) -এর শিবির। আগুনে প্রচুর আসবাবপত্র, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও নথিপত্র পুড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কোনও হতাহতের খবর না মিললেও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ যথেষ্ট বড় বলে অনুমান প্রশাসনের। মেলার ঠিক আগে এই ধরনের অগ্নিকাণ্ড বড়সড় বিপদের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মত বিশেষজ্ঞদের। গঙ্গাসাগর মেলা মানেই লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থী, সাধু-সন্ন্যাসী ও পর্যটকের সমাগম। তার আগে অস্থায়ী শিবিরে আগুন লাগা নিরাপত্তা ও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। কীভাবে আগুন লাগল, তা নিয়ে এখনও নিশ্চিত কিছু জানা যায়নি। প্রাথমিক ভাবে শর্ট সার্কিটের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না বলে দমকল সূত্রে জানানো হয়েছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অন্য কোনও কারণও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দমকল ও পুলিশ যৌথ ভাবে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। অস্থায়ী বৈদ্যুতিক সংযোগ, গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার বা অন্য কোনও দাহ্য পদার্থ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার পর প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, মেলার নিরাপত্তা ও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হবে। একজন প্রশাসনিক কর্তা বলেন, ‘গঙ্গাসাগর মেলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান। কোনও রকম ঝুঁকি নেওয়া হবে না। অস্থায়ী শিবির ও ছাউনিগুলির নিরাপত্তা নতুন করে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’ আগুন লাগার ঘটনার পর দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, শুক্রবার থেকেই আনুষ্ঠানিক ভাবে শুরু হওয়ার কথা গঙ্গাসাগর মেলার। দেশ-বিদেশ থেকে লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থী এই মেলায় অংশ নিতে আসেন। কপিলমুনি মন্দিরে পুণ্যস্নান ও পূজা দিতে ভিড় জমান মানুষ। তার আগেই এই অগ্নিকাণ্ড মেলা শুরুর আনন্দে বড় ছায়া ফেলল বলেই মনে করছেন অনেকে। স্থানীয় বাসিন্দা ও মেলা কর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক কাটলেও উদ্বেগ এখনও পুরোপুরি দূর হয়নি। ওয়াকিবহাল মতে, হোগলা ও বাঁশ দিয়ে তৈরি অস্থায়ী ছাউনিতে আগুন লাগার ঝুঁকি সব সময়ই থাকে। তার সঙ্গে বৈদ্যুতিক তারের অস্থায়ী সংযোগ পরিস্থিতিকে আরও বিপজ্জনক করে তোলে। গঙ্গাসাগর মেলার মতো বিশাল আয়োজনের ক্ষেত্রে আগুন নেভানোর পরিকাঠামো আরও আধুনিক ও শক্তিশালী হওয়া প্রয়োজন বলে মত তাঁদের।
উল্লেখ্য, গঙ্গাসাগর মেলা শুরুর আগেই এই অগ্নিকাণ্ড প্রশাসনের কাছে বড় সতর্কবার্তা। সৌভাগ্যক্রমে প্রাণহানির ঘটনা না ঘটলেও বিপুল ক্ষয়ক্ষতি এবং আতঙ্কের ছবি স্পষ্ট করে দিয়েছে, নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সামান্য ফাঁক থাকলেও তার পরিণতি কতটা ভয়াবহ হতে পারে। এখন দেখার, মেলা চলাকালীন এই ধরনের ঘটনা এড়াতে প্রশাসন কতটা দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারে।
ছবি : প্রতীকী
আরও পড়ুন : Indian AI Startups 2026, PM Narendra Modi AI Roundtable | ভারতের AI উদ্ভাবনে স্টার্টআপদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা : প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী




